× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সালাউদ্দিন- শাটআপ অ্যান্ড গেটআউট

এম. এম. কায়সার

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ০৯:৪৬ এএম

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ১০:১৯ এএম

সালাউদ্দিন- শাটআপ অ্যান্ড গেটআউট

আচ্ছা, এত জিনিস থাকতে হঠাৎ জুতোর দিকে সালাউদ্দিনের দৃষ্টি গেল কেন? তাও আবার সাংবাদিকদের বাপ-মায়ের জুতোর দিকে!

কারণটা সম্ভবত এটা। 

আরও পড়ুন: সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ব্যারিস্টার সুমনের

আরও পড়ুন : বাফুফে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে : ডিআরইউ

আরও পড়ুন : সালাউদ্দিনকে বহিষ্কার

আরও পড়ুন : সাংবাদিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে পরে মাফ চাইলেন সালাউদ্দিন

আরও পড়ুন : সোহাগের জালিয়াতি, সালাউদ্দিনের কি দায় নেই?

আরও পড়ুন : ফুটবলের স্বার্থেই সালাউদ্দিনের পদত্যাগ করা উচিত

ফুটবল এবং জুতোর মধ্যে একটা মৌলিক মিল আছে। দুটোই চামড়া দিয়ে তৈরি। চামড়ার ফুটবলে অফিসের শীর্ষকর্তা হিসেবে সালাউদ্দিন কোনো সাফল্য পাননি। তাই এখন চামড়ার জুতো খোঁজা শুরু করেছেন। ফুটবল বাদ দিয়ে সালাউদ্দিন এখন জুতো চান। তবে বাকিদের পায়ে জুতো ঠিক থাকলেও সালাউদ্দিনের যে গলায়ও জুতো ঝুলছে, সেটা সবাই দেখছেন কিন্তু শুধু তিনিই দেখছেন না। ফিফা জালিয়াতি, মিথ্যাচার, অনিয়ম, তহবিল তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বহীনতা- এমনসব এন্তার অভিযোগে সালাউদ্দিনের বাফুফের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে দুবছর নিষিদ্ধ করেছে। ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ফিফার এই অভিযোগ এবং শাস্তি কিন্তু ব্যক্তি সোহাগের বিরুদ্ধে নয়; অবশ্যই এটা প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ। বাফুফে নামক স্বেচ্ছাচারী একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই তাদের এই অভিযোগ ও শাস্তি। সোহাগ শাস্তি পেয়েছেন, কারণ তিনি বাফুফের সাধারণ সম্পাদক এবং তার সইয়ে এসব কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তা হিসেবে এই জালিয়াতি, মিথ্যাচার, অনিয়ম, তহবিল তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বহীনতার দায় কি সভাপতি সালাউদ্দিন এড়াতে পারেন? 

ফিফা সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুযায়ী সোহাগকে শাস্তি দিয়েছে। কিন্তু সোহাগকে নিয়োগ দিয়েছেন কে? সোহাগ কার নির্দেশে কাজ করতেন? সামান্যতম লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ ও নিজের কাজ এবং দায়িত্বের প্রতি যদি সত্যিকারের শ্রদ্ধা থাকত, তাহলে ফিফার সেই শাস্তি প্রদানের পরদিনই সালাউদ্দিনের উচিত ছিল বাফুফে থেকে পদত্যাগ করা। সোহাগ শাস্তি পেয়ে বাফুফেতে নিষিদ্ধ। আর অসম্মানের অদৃশ্য জুতোর মালা যে সভাপতিসহ পুরো কমিটির গলায় ঝুলছে- সেই দৃশ্য শুধু তারা দেখছেন না, কিন্তু বাকি জগৎ ঠিকই দেখছে!

ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন- সেই ছোটবেলা থেকে এই নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা-সম্মান-জাত প্রতিভা, তারকা ফুটবলার, সেলিব্রেটি ব্যক্তিত্ব; এমনসব গুণবাচক শব্দে আমরা মোহিত ও আপ্লুত হতাম। 

-কিন্তু এখন?

আপাদমস্তক অহংকারের পারদে ঠাসা লোকের নাম কাজী সালাউদ্দিন। আত্মম্ভরিতার জটিল অসুখে প্রতিনিয়ত ক্রমশ নিঃশেষ হচ্ছেন যিনি। বিন্দুমাত্র সমালোচনা সহ্য করতে না পারার মতো রুগ্‌ণ বদরাগী এক ব্যক্তিত্ব এখন সালাউদ্দিন। আমিই সেরা, আমার মতো আর কেউ কখনও হতে পারবে না- এক ধরনের ভুল নায়কোচিত এই বৈকল্যবোধ ও চিন্তায় ক্রমশ বন্ধুহারা ব্যক্তির নাম কাজী সালাউদ্দিন। মিথ্যে গর্ব, অহংবোধ, ভুল মিথ ও মোসাহেবি চক্রের মধ্যে সকাল-বিকাল-দুপুর পার করা মানুষ আর যাই হোক কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন না। বাফুফেতে সালাউদ্দিনের চার মেয়াদে গত ১৫ বছরের ‘দুঃশাসন’ সেই সত্যই প্রতিষ্ঠা করছে। মগজে রুগ্‌ণতা আর এলিটগিরির আলগা ফুটানির আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে সালাউদ্দিন নিজেই নিজেকে সম্মানের উচ্চস্থান থেকে নামিয়ে হীন মানসিকতার চোরাবালিতে ডুবে আছেন একেবারে গলা অবধি। আমি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমাকে কেউ নড়াতে পারবেন না- এই অহংবোধ, আত্মম্ভরিতা বাফুফের চেয়ারে বসা সালাউদ্দিনকে চাবুক হাতে এক দুর্বিনীত, দুঃশাসক, হিংস্র সামন্তপ্রভুর চেহারা এনে দিয়েছে। 

এমন লোক হয়তো ভালো ইংরেজি বলতে পারেন কিন্তু কখনও কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। এই চেয়ারে বসে সালাউদ্দিন এখন পর্যন্ত দেশের ফুটবলের যে বেহাল অবস্থা করেছেন তাতে তো তার আর যাই হোক সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল। বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান যে মান, তারচেয়ে অনেক বেশি কাভারেজ হয়- আর সেই কাজটা এক ধরনের দায়বোধ থেকেই করেন সাংবাদিকরা।

ফুটবলের খুব দুঃসময়ে সালাউদ্দিন এসেছিলেন বাফুফেতে। প্রায় সবাই অকুণ্ঠচিত্তে তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন সেই সময়। কিন্তু দীর্ঘ চার মেয়াদের সেই তিনিই এখন বাফুফের বোঝা, বড় দুঃস্বপ্ন।

ঔদ্ধত্যর উর্দি আর ঈর্ষার আগুনে পুড়ে ছাই তার একসময়ের সব অর্জন। তার অহংবোধের গরিমা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তিনি এখন সাংবাদিকদের বাপ-মায়ের জুতো পরা ছবি চাইছেন। বাজারের সব জুতো জড়ো করে সালাউদ্দিনের কাছে পাঠিয়ে দিলেই হয় বৈকি! তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন সেই ছেঁড়া জুতোও বাফুফেতে নিরাপদ নয়। অনুদানের অর্থ যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে ছেঁড়া জুতোর নিরাপত্তা কোথায়?

দেশের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা তার টাইমলাইনে তাই লিখেছেন- ‘আজ থেকে উহার নাম হোক জুতাউদ্দিন’!

অনেক হয়েছে। বিষয় যখন বাফুফে, ফুটবল ও সালাউদ্দিন; তখন একটাই শিরোনাম যুতসই- শাটআপ এবং গেটআউট!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা