প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৩ ২১:০৬ পিএম
‘সাংবাদিকদের বাপের জুতা পরা ছবি নিয়ে ফুটবল ফেডারেশনে আসতে হবে’ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের এমন কুরুচিপূর্ণ, বিদ্বেষপ্রসূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
বুধবার (৩ মে) এক বিবৃতিতে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই নিন্দা জানান।
পরে ডিআরইউ নেতারা অবিলম্বে কাজী সালাউদ্দিনকে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বাফুফে সভাপতির মতো শীর্ষ পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, তাদের পরিবারকে জড়িয়ে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বাফুফে সভাপতির মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ আজ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে, সকল পেশার মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। কাজী সালাউদ্দিন যে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলেছেন, সে ভাষায় সাংবাদিকরা কথা বলতে মোটেও অভ্যস্ত নন। আমরা অবিলম্বে কাজী সালাউদ্দিনকে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান করছি।’
আরও পড়ুন:
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, ‘কাজী সালাউদ্দিনের দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনপ্রিয় এই খেলার মান প্রতিনিয়ত নিম্নগামী। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থা প্রায় সবার নিচের দিকে। বাফুফে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রের খবর। যার সাম্প্রতিক প্রমাণ ফিফার নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন সময় এসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার সবশেষ মন্তব্যে। দেশে ও দেশের বাইরে ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পর বাফুফের সভাপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন বলে মনে করে ডিআরইউ।’
এর আগে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বেফাঁস মন্তব্যের জেরে তার পদত্যাগ চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। সালাউদ্দিনের বেফাঁস মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে সালাউদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদ উল আলম ও মহাসচিব দীপ আজাদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ফুটবল সংস্থার শীর্ষ পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, তাদের পরিবারকে জড়িয়ে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বাফুফে সভাপতির মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশবাসী সন্দিহান হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সালাউদ্দিন দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনপ্রিয় এই খেলার মান প্রতিনিয়ত নিম্নগামী হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় সবার নিচে। যার কারণ হিসেবে বিএফইউজে জানিয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বাফুফে। যার সাম্প্রতিক প্রমাণ ফিফার নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন সময় এসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার সবশেষ মন্তব্যে। কাজেই দেশ ও দেশের বাইরে ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পর বাফুফের সভাপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন, এমনটিই মনে করে বিএফইউজে।
এর আগে অনিয়মের দায়ে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ নিষিদ্ধ হন ১৪ এপ্রিল। এর দুদিন পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এ বিষয়ে আরও তদন্তের জন্য বেঁধে দেন ১০ জনের এক কমিটি, যাদের অধিকাংশই আবার আছেন বাফুফের বর্তমান কমিটিতে। এ নিয়ে গতকাল এক সভা ডাকে বাফুফে। যেখানে পিছিয়ে দেওয়া হয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ। সেই সঙ্গে সভায় সাংবাদিকদের পরিবার নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন কাজী সালাউদ্দিন। পরে এর জন্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান তিনি। যদিও ততক্ষণে তার এই মন্তব্যের জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ।