× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আয়ারল্যান্ড দলটাই তাদের সন্তান

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১৫ এএম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৪২ পিএম

আয়ারল্যান্ড দলটাই তাদের সন্তান

ভরা চৈত্রের দুপুর। তার ওপর চলছে রমজান মাস, দিনটাও ছুটির দিন নয়। বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ দেখতে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের গ্যালারিতে সব মিলিয়ে ৫০০ মানুষও হয়নি। যারাও এলেন, তাদের বেশিরভাগই অবস্থান নিলেন পশ্চিম পাশের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে। তাদের মাঝে আইরিশ দম্পতি অ্যাশলে বালবার্নি আর ক্যান্ডি লাপপিনকে আলাদা করে খুঁজে নিতে হলো না। আয়ারল্যান্ড ডাগআউটের ঠিক ওপরে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে মিলল তাদের খোঁজ।

অ্যাশলের নাম পড়তেই হয়তো বুঝে গেছেন এ দম্পতির আরও এক পরিচয় ‘অ্যান্ড্রু বালবার্নির বাবা-মা’। ছেলের খেলা, ছেলেদের খেলা দেখতে তারা সেই আয়ারল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন এই বাংলাদেশে।

ছেলে খেলছেন আইরিশ দলের হয়ে, আর তারা সে খেলা দেখতে ছুটে যাননি, এমনটা হয়নি খুব একটা। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু করে কানাডা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, মালয়েশিয়া, ভারত... কোথায় যাননি! তবে বাংলাদেশে এবারই প্রথম এলেন।

আরও পড়ুন :

আইরিশ দলের অবস্থা এ সফরে খুব বেশি ভালো নয়। তাই বলে সফরটা উপভোগ করা কমছে না তাদের। যদিও যানজটের বিভীষিকা নিয়ে কথা বলতেই চোখ বন্ধ হয়ে এলো অ্যাশলের। বললেন, ‘এখানে তো অনেক মানুষ! ঢাকার জনসংখ্যা গোটা আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি! এখানের জ্যাম আমি দেখব কী করে, আমি তো ভয়ে চোখই বন্ধ করে ফেলি!’ যানজট না থাকলে ভালো হতো, আরও ভালো হতো দল ভালো করলে, সেটা লুকালেন না আইরিশ অধিনায়কের বাবা।

ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের জাতীয় খেলা তো নয়ই, শীর্ষ খেলাও নয়। ছোটবেলায় এ ক্রিকেটকেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন আইরিশ অধিনায়ক। বাসার লাগোয়া ক্রিকেট মাঠ দেখে সেখানে যেতে যেতেই ক্রিকেটকে মন দিয়ে বসা।

ওদের তো ছোটবেলা থেকে দেখেছি। আমাদের বাসায় অনেক আড্ডা দিতে আসত সবাই। তাদের সবাইকে রেঁধে খাইয়েছি আমি। ওরা তো আমার ছেলের মতোই

ছেলের এমন ক্রিকেট-প্রেম দেখে তাতে আর বাধা দেননি অ্যাশলে-ক্যান্ডি। অ্যাশলে জানালেন, ‘ক্রিকেট আমাদের ওখানে সম্ভবত ১০ নম্বর খেলাও নয়। তবু তার যেহেতু ভালো লেগে গেছে, সে পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছে, আমরা বাধা দিইনি। সে খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গেছে, এমসিসির কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষও করেছে। তাই আমাদের আপত্তি ছিল না তেমন।’

বালবার্নির মতো ক্রিকেটকে ভালোবেসে ফেলা মানুষ আয়ারল্যান্ডে খুব কম। তাই ক্রিকেট-পাগলদের গণ্ডিটাও সেখানে খুব ছোট। যারা খেলেন তারাও সবাইকে চেনেন-জানেন। এই যে আয়ারল্যান্ড দলে বালবার্নির সতীর্থরা, তাদের অনেককেই তো ছোটবেলা থেকে চেনেন দুজনে!

ক্যান্ডিই বললেন, ‘ওদের তো ছোটবেলা থেকে দেখেছি। আমাদের বাসায় অনেক আড্ডা দিতে আসত সবাই। তাদের সবাইকে রেঁধে খাইয়েছি আমি। ওরা তো আমার ছেলের মতোই!’

 ‘বিশ্বকাপে যেতে হলে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে হবে। আপনারা একটু ব্যবস্থা করলেই তো ল্যাটা চুকে যায়!’

ছেলেদের বিশ্বকাপে খেলা এখনও নিশ্চিত নয়। সে নিয়েও ভাবনার শেষ নেই দুজনের। বললেন, ‘আশা করি বিশ্বকাপে আসব। তবে তার আগে হয়তো আমাদের জিম্বাবুয়েতে বাছাই পর্ব খেলতে হবে।’ পরক্ষণেই মনে পড়ল, মাসখানেক পর যে সুপার লিগের শেষ সিরিজটা খেলবে তার দল, সেটা বাংলাদেশেই। খানিকটা রসিকতাও করে বসলেন অ্যাশলে। বললেন, ‘বিশ্বকাপে যেতে হলে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে হবে। আপনারা একটু ব্যবস্থা করলেই তো ল্যাটা চুকে যায়!’ পাশে বসা ক্যান্ডি অ্যাশলের হাতে গুঁতো মেরে বললেন, ‘ধ্যাত! এভাবে কেউ বলে!’

বাড়ির উঠোনেই হয়েছে আগের বিশ্বকাপটা, সেখানেই কি না খেলতে পারেনি আইরিশরা। অনেক সাধের বিশ্বকাপটা যদি এবারও না খেলতে পারে, তাহলে অপেক্ষাটা বাড়বে আরও, সেটা এড়ানোর তীব্র চাওয়াটাই ফুটে উঠল যেন অ্যাশলের কথায়। সে চাওয়াটা যে তার ছেলের, ছেলেদেরও, তা বলাই বাহুল্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা