বজ্রপাতের প্রতীকী ছবি
দেশে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে বজ্রপাতে। বছরে এতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় গড়ে ২৫০-৩০০ জনে। বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয়।
‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’ এই স্লোগানে আজ দেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা-রিজিওনাল ইনটিগ্রেটেড মাল্টি-হেজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) এবং ইউনিসেফ, ব্র্যাক, সেভ দ্যা চিলড্রেন, জার্মান হিউম্যানেটিরিয়ান এসিস্ট্যান্টের উদ্যোগে রবিবার সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে প্রচারের বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে গত ২৪ জুন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার জানান, বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দেশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলায় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের কাছে কার্যকরভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ৩-৪ ঘণ্টা পূর্বে বজ্রপাতের সংগঠিত হওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, আকাশে কালো মেঘের সঙ্গে প্রথম বজ্রধনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। বিশেষ করে বড় গাছ, খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করা যাবে না।
এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “বজ্রধ্বনি শুনবেন যখনই, ঘরে ফিরবেন তখনই স্লোগানে বিএমডি ও রাইমস বজ্রপাতে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ এনিমেশন ভিডিও প্রচার করছে”।
তিনি বলেন, “বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া অধিকাংশ মানুষ কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির। কেননা কৃষক মাঠে কাজ করার সময় নিরাপদ আশ্রয়ে না যেতে পারায় মৃত্যুর মুখে পড়েন”।