প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০০ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৫ পিএম
মোহাম্মদ সিরাজ তখনও গায়ে চাপাতে পারেননি জাতীয় দলের জার্সি। অটোচালক বাবার সংসারে আশার প্রদীপ হয়ে নিভু নিভু জ্বলছিলেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখা সিরাজের জীবন পরিবর্তন হয়ে গেল ২০১৭ সালে। ২.৬ কোটি রুপিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে টানে ডানহাতি পেসারকে। মাসখানেক পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জার্সিতে অভিষেক। কিন্তু মান রাখতে পারেননি সিরাজ, দলে জায়গা হারানোর ঝুঁকিতেও ছিলেন। এত তারার মাঝে গতানুগতিক সিরাজের টিকে থাকা কঠিনই ছিল, যদি না...!
ভারত দলে সিরাজের টিকে থাকার পেছনে বড় হাত আছে বিরাট কোহলির। যখন যেভাবে পেরেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়কের ছায়া পেয়েছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দীনেশ কার্তিক জানিয়েছেন, একবার তো আইপিএল দল থেকে ছাটাই হতে যাচ্ছিলেন সিরাজ। সেখানে বাদ সাধেন কোহলি। সরাসরি নির্বাচকদের কাছে গিয়ে বলেছেন, ‘তাকে আমার প্লেয়িং একাদশে চাই।’
আরও পড়ুন: কোহলি নন, তিনিই বিশ্বসেরা
সিরাজের সাফল্যে বাধভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতেন কোহলি
কোহলির সেই সিরাজ আরসিবির হয়ে আইপিএল মাতিয়েছেন। বড্ড গতানুগতিক পেসারের জাতীয় দলের জায়গাও এখন বলতে গেলে অনেকখানি পাকা। বেঙ্গালুরুর সেই সিদ্ধান্ত—আর বেঞ্চ নয়, একেবারে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক সিরাজকে। সেটি যদি হতো, তাহলে আজকের সিরাজ আসত না। ২৮ বছর বয়সি ডানহাতির পেস বোলার হয়ে ওঠাও হতো না মনে করেন কার্তিক।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে কৃতজ্ঞ সিরাজকে প্রায়ই কোহলি-বন্দনা করতে শোনা যায়। করবেন না কেন, সেদিন কোহলির বলা ‘ওকে মূল একাদশে চাই’—এই একটি বাক্য যে বদলে দিয়েছে সিরাজের জীবন
স্মৃতি রোমন্থন করে ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেছেন, ‘তখন কলকাতার হয়ে খেলছিলাম, আরসিবি তখন আমাদের ১০০ রানের মাঝে গুটিয়ে দিয়েছিল। সিরাজ ওই ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সেখান থেকেই শুরু।’
আরও পড়ুন: শচীনের আরও কাছে কোহলি
সিরাজের সঙ্গে কোহলির রসায়নটাও বেশ জমে। হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে অভিষেক হওয়া পেসারকে পরে নিজের দলে টেনে নেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। তার অধীনে অভিষেকও ঘটে। আইপিএলের নিয়মিত মুখ সিরাজ ভারতের জার্সিতে ১৭টি টেস্ট, ২১টি ওয়ানডে ও ৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন। রেখেছেন নিজের প্রতি বিশ্বাসের মানও। ক্যারিয়ারের এইপর্যায়ে কৃতজ্ঞ সিরাজকে প্রায়ই কোহলি-বন্দনা করতে শোনা যায়। করবেন না কেন, সেদিন কোহলির বলা ‘ওকে মূল একাদশে চাই’—এই একটি বাক্য যে বদলে দিয়েছে সিরাজের জীবন।