আপন তারিক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৫ পিএম
ক্ষণজন্মা তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোনেম মুন্না চলে গেছেন অন্যলোকে। তারপরই লড়াই শুরু সুরভী মোনেমের। কন্যা দানিয়া আর ছেলে আজমানকে নিয়ে সেই লড়াইয়ে জয়ী তিনি। তারপরও মনের কোণে আক্ষেপ- আহা, যার সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলাম সেই মুন্না যদি আজ বেঁচে থাকত। বিয়েবার্ষিকীর দিনেই হারিয়েছেন প্রিয় মানুষটিকে। জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার, আবাহনীর মহাতারকা মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে। তার মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশেষ প্রতিবেদক আপন তারিক। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব আজ।
প্রশ্ন : ফ্যামিলি-ম্যান হয়ে থাকা মুন্নাকে তার বোন একটা কিডনি দিয়েছিলেন। তো সেই বোন এখন কেমন আছেন বা কোথায় আছেন?
উত্তর : আপা ভালো আছেন। ওনার বয়স হয়েছে, কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যেহেতু একটা কিডনি। ডাক্তারের অধীনেই আছেন। তবে সব মিলিয়ে উনি ভালো আছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রশ্ন : আমরা অনেক সময় দেখি, তারকা খেলোয়াড়দের সন্তানরাও সেই খেলাটি খেলেন। কেউ গান গাইলে সন্তানও গানের জগতে আসেন, ফুটবল খেললে ফুটবলে, ক্রিকেটার হলে ক্রিকেটে। তো মুন্নাভাইয়ের ছেলের কি ফুটবল নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিল...?
উত্তর : ছোট থেকে আগ্রহ ছিল। ছোটবেলায় ও আবাহনীতে যেত, প্র্যাকটিস করত। কিন্তু যখন বড় হয়েছে এবং বুঝতে পেরেছে, আমাদের ঢাকা শহরে খেলার জন্য মাঠ নেই। এখনও ও খেলে। কিন্তু আমি ওকে ফুটবল থেকে পড়ালেখার দিকে ডাইভার্ট করে দিয়েছি। কেননা ওর বাবা চাইত ওরা লেখাপড়া করুক। মুন্না কখনও বলেনি যে ছেলেকে ফুটবলে আনো। বলেছে, যেন ভালো মতো লেখাপড়া করে। ও সব সময় চাইত সন্তানরা দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিক। এ কারণেই যত কষ্ট হোক মেয়েকে বাইরে পড়িয়েছি। চেষ্টা করেছি মেয়েকে বাইরে পড়ানোর। আর দেশে পড়িয়েছি। দুজনকে বাইরে পড়ানো কঠিন হয়ে গেছিল। ছেলে লেখাপড়া শেষ করেছে। ও এখনও খেলে। দেশে এখন মাঠ ভাড়া করে খেলার যে উপায়টা এসেছে তো ওরা মাঠ ভাড়া করে খেলে। আমাদের হাজারীবাগে একটা আছে, বসুন্ধরায় একটা আছে। সেখানে বন্ধুরা মিলে খেলে। খেলার প্রতি টান আছে, কিন্তু সেটাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পথটা ছিল না।
প্রশ্ন : যেমনটা বলছিলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া কঠিন। এখানে পায়ে পায়ে অনিশ্চয়তা, অশনিসংকেত। তার মধ্য দিয়ে একজন সুপারস্টারের সন্তানও খেলায় আসা বা সেটাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং মনে করেন। ওরা ওদের বাবাকে নিয়ে কী ফিল করে..., তারা তো বাবার খেলা দেখেনি, বাবার স্টারিজম দেখেনি। তারা কীভাবে তার বাবাকে খুঁজে বেড়ায়?
উত্তর : ম্যাগাজিন পড়ে, ইউটিউবে আগের কিছু বিজ্ঞাপন দেখে বা আত্মীয়স্বজন অথবা কোথাও গেলে যখন সাবেকরা তার বাবার কথা বলে সেখানেই তারা তার বাবাকে খুঁজে ফেরে। আমার মেয়ে অনেক চাপা স্বভাবের, কখনই কিছু বলে না। ছেলে মাঝে মাঝে বাবার খেলার কিছু বিষয় পোস্ট করে বা শেয়ার করে- তখন বুঝি সে তার বাবাকে ফিল করছে।
আরও পড়ুন: শুধু ভাবতাম, মাঠে মুন্নাভাই আছেন আর চিন্তা কিসের?
প্রশ্ন : ফিল করাতো স্বাভাবিক। আপনার সঙ্গে মুন্নাভাইয়ের প্রথম কোথায় এবং কীভাবে দেখা হয়েছিল। কেননা তিনি তো তখন সুপারস্টার ছিলেন। স্মৃতিগুলো যদি বলতেন...
উত্তর : আমার মামাও ফুটবল খেলতেন। তার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে প্রথম ওর সঙ্গে কথা বলেছি। জাস্ট কৌতূহলের কারণে। পরে একদিন আমি আমার এক ফ্রেন্ডের সঙ্গে গিয়ে ওর সঙ্গে দেখা করেছিলাম, বাইরে। তখন হয়তো ও আমাকে পছন্দ করেছে। আসলে বেশিদিন আমাদের প্রেম ছিল না, সরাসরি সে আমাদের পরিবারে প্রস্তাব দিয়েছিল, ‘ও আমাকে বিয়ে করতে চায়।’ পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। মাত্র ছয় মাসের পরিচয়।
প্রশ্ন : মুন্নাভাই ক্যারিয়ারে ভারতেও খেলতে গিয়েছিলেন। এখন কখনও ভারত গেলে সেই স্মৃতি খুঁজে বেড়ান? ভারতের যে ক্লাবে মুন্না খেলেছেন সেখানের কেউ আপনার সঙ্গে যোগযোগ করে কি না...
উত্তর : আমি তো আসলে এরপর ভারত যাইনি। আমার ছেলেমেয়েরা গিয়েছিল, ওরা ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছিল। মাঝে ইস্টবেঙ্গল খেলতে এসেছিল, তখন কথাবার্তা হয়েছিল, সেটি শুনেছি। তবে আলাদাভাবে ক্লাব থেকে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। আমিও ভারত যাইনি। সবার কাছেই শুনেছি, সাংবাদিকরাও যোগাযোগ করে বলে, মুন্নার কথা শুনলে ভালো লাগে।
প্রশ্ন : ঢাকায় কি গ্যালারিতে বসে কখনও তার খেলা দেখেছেন, সেটা হোক আবাহনী বা জাতীয় দল...
উত্তর : জাতীয় দলের হয়ে একটি খেলা দেখেছি মিরপুর স্টেডিয়ামে। এমনি অন্য কোনো খেলা দেখিনি। ওই সময় আসলে মেয়েরা মাঠে কম যেত। সেখানে গিয়ে খেলা দেখার চলটাও ছিল না। বাসায় হলেই যে টেনশন করতাম, মাঠে গিয়ে দেখা তো প্রশ্নই আসত না।
জাতীয় দলের হয়ে একটি খেলা দেখেছি মিরপুর স্টেডিয়ামে। এমনি অন্য কোনো খেলা দেখিনি। ওই সময় আসলে মেয়েরা মাঠে কম যেত। সেখানে গিয়ে খেলা দেখার চলটাও ছিল না। বাসায় হলেই যে টেনশন করতাম, মাঠে গিয়ে দেখা তো প্রশ্নই আসত না।
প্রশ্ন : মুন্নাভাইয়ের সঙ্গে আপনার ১২ বছরের সংসার। আপনাদের সংসারজীবনে এমন কোনো পরামর্শ আছে কী যা পরিবার, সমাজ বা ফুটবল জীবনের জন্য খুব দারুণ, যা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন...
উত্তর : ওরকম করে সিরিয়াস কথা হয়নি কোনোদিন। বাচ্চাদের মানুষের মতো মানুষ করতে সে বন্দর থেকে ঢাকায় চলে এসেছে। সে এতটুকুই বলছে যে ওরা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো শেষ করে। ভালো মানুষ হয়। এটাই ও চাইত। ফুটবল নিয়ে বলত, সে যেহেতু সবশেষ আবাহনীর ম্যানেজার ছিল। সে খুব টেনশনে থাকতÑ কীভাবে টিম বানাতে হবে, কোনটা করলে ভালো হবে। শেষে সে আওয়ামী যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিল। সেটি বেশিদিন ছিল না। তো রাজনীতি সম্পর্কে খুব বেশি জানি না। ফুটবল নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। যেটা হয়তো আমাকে সরাসরি বলেনি, তবে অন্য মাধ্যম থেকে শুনেছিÑ ফুটবল নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল।
আরও পড়ুন: ও বলত তার দুটো সংসার প্রথমে ক্লাব
প্রশ্ন : সেই স্বপ্ন আমরাও কিছুটা জানি। মোনেম মুন্নার ক্যারিয়ারে অর্জনের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ। কিন্তু কোনো স্বীকৃতি বা সম্মাননা যা পায়নি। মুন্না এই স্বীকৃতি বা এই সম্মাননাটা পেলে মুন্নার আত্মা শান্তি পেত, যারা তাকে ভালোবাসি তারাও শান্তি পেত।
উত্তর : মুন্না আসলে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার যেটা সেটা জীবিত থাকতে পায়নি। এটা কষ্ট আছে। যদিও মারা যাওয়ার পরের বছর দিয়েছে। জাতীয় পুরস্কার হয়েছে স্পোর্টসের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। সেটা যখন জীবিত অবস্থায় পায়নি এটাই যা কষ্টের। আমি পুরস্কারটি নিয়েছি। কিন্তু এতে খুশি না। বাচ্চাদের নিয়ে সংগ্রাম করে যে এতদূর এসেছি। যেমন মুন্না একটা গার্মেন্টস করেছিল, সেটা শেষ পর্যন্ত পার্টনাররা বন্ধ করে দিয়েছে। কোটি কোটি টাকা লোন হয়ে গেছে। সেটি অনেক খাটাখাটনি করে সুদ মওকুফ করিয়েছি। এটা শুকরিয়া, যিনি এর পেছনে কাজ করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখনও যে টাকা আছে সেটিও অনেক বড় পরিমাণের। আমরা চেষ্টা করছি এই ঋণ থেকে মুক্তি পেতে।
প্রশ্ন : টাকার অঙ্কটা কত?
উত্তর : মুন্না থাকতেই এটা হয়েছে। তবে তার সময়ের ঋণ না। যেহেতু ও মারা যাওয়ার পর আমি পরিচালক পদে ছিলাম। আমি আসলে ধরা খেয়ে গেছি। ও থাকতে লোন ছিল না। তবে এখনও ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার মতো আছে। পুরোটাই ঋণ রয়ে গেছে। সুদ মওকুফ করেছে সরকার। মূল টাকাটা এখন শোধ করতে হবে। গার্মেন্টসের জায়গা আছে, তো সেটাতে জানি পুরোটা হবে না। বাকিটা আল্লাহ ভরসা, দেখি কী করা যায়। আমি চাই মুন্নার নামে রাস্তা বা ব্রিজ কিছু একটা হোক। এই মুহূর্তে এটাই আমার চাওয়া। ওর নামে করলে তার আত্মাও শান্তি পাবে। আমার ছেলে এখন একটা জব করছে। তো ও যদি আরেকটু ভালো চাকরি বা একটা সরকারি চাকরি হতো, তাহলে আরেকটু শান্তি পেতাম। আমি বা আমার ফ্যামিলি শান্তি পেলে মুন্নাও শান্তি পাবে।
প্রশ্ন : এটা আমাদের দেশের নতুন কিছু না যে, এইভাবে বা কোটায় চাকরি দিয়ে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করা। মাঠে গিয়ে মুন্নার খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। কারণ বাংলাদেশের সংস্কৃতি বা সমাজে যে চর্চাটা হয় না। এখন এই পর্যায়ে আপনার সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত। তারা নিজেদের মতো ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছে। যখন আপনি একা হন, মোনেম মুন্নার স্মৃতি চারপাশে যেন তারই স্মৃতি। মুন্নার ভিডিও কিংবা তার খেলা এখন দেখেন কি না...
উত্তর : আমি সম্প্রতি বিটিভিতে যোগাযোগ করেছিলাম। আবাহনী থেকে অনেক সিডি জোগাড় করেছি। ক্যাসেট টাইপের। ওগুলো আসলে ক্লিয়ার করে প্রিন্ট করে সিডি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবই আসলে নষ্ট হয়ে গেছে। তো তার স্মৃতি বলতে তার সঙ্গে বারো বছর কাটানো এবং আমার দুই সন্তান। আর ম্যাগাজিন বা পেপারের সব কাটিং- যা আমার কাছে আছে। ঘুরেফিরে দেখি-পড়ি। এটাই হচ্ছে স্মৃতি।
আমাদের কিংবদন্তিদের ধরে রাখার ব্যাপারে আমরা এতটাই দৈন্য যে ম্যাচের স্মৃতি বা ক্যাসেট প্লেয়ারগুলো- সেগুলোও রাখতে পারেনি, নষ্ট হয়ে গেছে। যে ক্লাবে খেলতেন, এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। জানি না সেই স্মৃতিগুলো সংরক্ষিত আছে কি না, তারপরও যে বিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে আছি সেখানেও অনেক স্মৃতি আছে। সেই সংসারের কিছু বিষয় খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করব এখন।
আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলে মুন্নার রূপকথা আজও অমলিন
প্রশ্ন : কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন, ৯৫০ স্কয়ার ফিটের এই বাসা যা আপনার অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাসায় মুন্নাভাই কতদিন ছিলেন?
উত্তর : এক বছর।
প্রশ্ন : বাড়িটা করে দিয়েই মুন্নাভাই চলে গেলেন। তো এখানে এখনও তার স্মৃতি হাতড়িয়ে বেড়ান নিশ্চয়ই। তো সেটা যদি আমাদের একটু বলতেন...
উত্তর : বিয়ের পর এগারো বছর আমরা বন্দরে ছিলাম। বাচ্চাদের স্কুলের কারণে এখানে শিফট করেছি। তো এই ফ্ল্যাটটা হঠাৎ করে নেওয়া। এখানে ওঠার পর আসলে খুব তাড়াহুড়ো করেছি। যেমন ফার্নিচার কেনা, অনেক কিছু বন্দর থেকে নিয়ে এসেছিলাম। তবে অনেক কিছু সে সেখানে ব্যাক করে দেয়। সোফা থেকে শুরু করে, খাট, বাচ্চাদের পড়ার টেবিল সব খুব দ্রুত করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, তুমি কেন এত দ্রুত সব করছো। তখন সে বলছিল, আমি সব গুছিয়ে দিই। বলা তো যায় না। যে অসুখ আমার, ঠিক জানি না আসলে কতদিন বাঁচব। তুমি না কইরো না, আমি সব গুছিয়ে দেই। আমি ভেবেছি নতুন ফ্ল্যাট, ওর চিকিৎসার অনেক খরচ, তার ওপর এটা অনেকটা বাড়তি খরচ। তখন আমার বাচ্চাদের পক্স উঠেছিল, আমি গাজীপুর গিয়েছি। এর ভেতর এসে দেখি সে টেবিল পরিবর্তন করে ফেলেছে। শেষের দিকে ও খুব তাড়াহুড়ো করছিল। চলে যাবে বলেই হয়তো সব গুছিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: যে ভোরে শেষবার আবাহনী প্রাঙ্গণে মুন্না!
প্রশ্ন : গুছিয়ে দেওয়ার কারণেই হয়তো সবকিছু সম্ভব হয়েছে। ঢাকা শহরে আসলে টিকে থাকা, ফুটবলাররাও আসলে সীমিত সময় উপার্জন করেন। একটা সময় পর সেটিও আসলে থাকে না। এই বাড়িটাও আপনার স্মৃতিবিজরিত...
উত্তর : এই বাসাটা না কেনা হলে আসলে ঢাকায় ভাড়াবাসায় থেকে বাচ্চাদের লেখাপড়া করানোর মতো অবস্থা ছিল না। বাসাটা থাকাতে বাচ্চাদের পড়ালেখা করাতে পেরেছি এবং এতদূর আনতে পেরেছি। নাহলে হয়তো আমাকে বন্দরে ব্যাক করতে হতো। ছিল তো এক বছর, এই সময়টুকুতে আবাহনী ক্লাব আর বাসা; এ ছাড়া কোথাও যাওয়া-আসা করত না। বেশিরভাগ সময় ক্লাবে, নয়তো বাসায় থেকেছে।