প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৩০ এএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৫৩ পিএম
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি। পৃথক দুটি বার্তার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার মধ্যরাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারাবন্দি অবস্থায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু গভীর শোকাবহ। ইসলামের আলোকিত পথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি পণ্ডিত। ক্ষমতাসীন শক্তি তাকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি নিজস্ব মতাদর্শে ছিলেন অকম্প, অবিচল। ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি সহমর্মী এই মানুষটি জনসাধারণের মধ্যে বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানের চর্চা ও প্রচারে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। দেশ ও মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন নিরলসভাবে। জাতীয় সংসদেও তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল ও তেজস্বী বক্তা। তিনি ছিলেন মৃদুভাষী ও সৌজন্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘গুরুতর অসুস্থ সাঈদী গত ১৩ বছর বন্দি অবস্থায় থাকলেও তাকে সুচিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তার মৃত্যু স্বৈরশাসনের এক নির্দয় নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাবহ পরিবার-পরিজন, গুণগ্রাহী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে সাঈদীর মৃত্যু হয়। রবিবার বিকালে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার হন তিনি। একই বছর ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন সাঈদী। তার আপিলের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সে রায়ে সাজা কমিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের রায়ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু সেই আবেদনে আপিল বিভাগের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর পর থেকে তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল।