চেক ডিজঅনার মামলা
আদালতে প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়েন মনোয়ারা বেগম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় আসামি নাসরিন সিকদার সেজে আদালতে প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়া মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত রবিবার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিদ হোসেন। আসামি মনোয়ারার পক্ষে কোনও জামিন আবেদন করা হয়নি।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়সটি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বছরের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে একজন সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা দায়ের করেন। ১৬ জুন মামলার শুনানির জন্য ধার্য ছিল।
ওই দিন আসামি নাসরিন সিকদার আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ২০ আগস্ট।
তবে গত ২৫ জুন নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানিকালে আদালতের সন্দেহ হলে মনোয়ারাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিচয়পত্র ও নথিপত্র যাচাই করে জানা যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন। এরপর তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এর সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু ওই দিনই নাসরিন সিকদার, মনোয়ারা বেগম এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরীনের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। আসামির সঙ্গে বাদীর পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা দেন। এর পরিবর্তে গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন।
পরবর্তীতে বাদী তার নামে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ বলে চেকটি ডিজঅনার হয়। ওই ঘটনায় তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি করেন।