× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চেক ডিজঅনার মামলা: আদালতে প্রক্সি দিতে এসে আটক নারী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১২ মিনিট আগে

আদালতে প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়েছেন মনোয়ারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আদালতে প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়েছেন মনোয়ারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় আসামি নাসরিন সিকদার সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসে আটক হয়েছেন মনোয়ারা নামে এক নারী।

ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

মামলার শুনানির দিন ১৬ জুন ধার্য  থাকলেও সেদিন আসামি আদালতে হাজির হননি। এরপর আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 

পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয় ২০ অগাস্ট।

তবে বৃহস্পতিবার আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন।

শুনানির সময় আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তাকে এজলাসে আটকের আদেশ দেন।

এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কামরুজ্জামান সুমন জানিয়েছেন।

প্রক্সি দিতে আসা মনোয়ারা নামের এ নারী দাবি করেন, আইনজীবী তাকে নাসরিন সাজিয়ে আদালতে নিয়ে এসেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু জানান, এজাহারভুক্ত মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান।

পরবর্তীতে বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে কোর্টের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন বলেও জানান তিনি।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে কোর্টের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্রতারণার সঙ্গে জড়িত মুল আসামি, প্রক্সি আসামি ও আইনজীবীসহ সবার বিরুদ্ধে আদালত থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।

এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পরেন। কান্না করতে করতে তিনি বলতে থাকেন, আমি কিছু জানি না, ঢাকার জজ কোর্টের আগরবাতি গলির এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছে।

মনোয়ারা দাবি করেন, আমার কোনো অপরাধ নেই, আপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেন।

আমি বিভিন্ন আইনজীবীদের চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি, এতসব বুঝি না। স্যার (আইনজীবী) ডাকায় আমি এসেছি, দাবি করেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের অফিস সহায়ক শাহ আলম বলেন, যার বিরুদ্ধে মামলা তার বাসা গুলশানে। আর মামলা ২৯ লাখ টাকার। মনোয়ারার বেশভূষা দেখে সন্দেহ হয় বিচারকের।

এরপর স্বামীর নাম, বাবার নাম জানতে চান। সে সময় মনোয়ারা স্বামীর নামের জায়গায় বাবার নাম আর বাবার নামের জায়গায় বলেন স্বামীর নাম, বলেন ওই অফিস সহায়ক।

শাহ আলম বলেন, বিচারক কত টাকার মামলা জানতে চাইলে মনোয়ারা বলেন, ৩০ লাখ টাকার। 

তিনি জানান, এত টাকা দিয়ে কি করছেন বিচারকের এমন প্রশ্নে মনোয়ারা বলেন, ‘আর কইয়েন না, স্যার’।

এ সময় বিচারক তাকে (মনোয়ারা) আদালতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা খালাস করতে আসছি”, জানান শাহ আলম।

অফিস সহায়ক বলেন, বিচারক তার জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে আইনজীবীর চেম্বারে রেখে এসেছেন বলে জানান মনোয়ারা। তিনি সেখান থেকে পরিচয়পত্র নিয়ে আসার কথা বলেলেও বিচারক তাকে যেতে দেননি।

এরপর মনোয়ারাকে স্বাক্ষর করতে বলা হলেও তিনি তা দিতে না পেরে টিপসই দেন। এমনকি মনোয়ারা নিজের ছবি দিয়ে নাসরিন সিকদার নামে জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছেন, দাবি করেন অফিস সহায়ক শাহ আলম।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরিনের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। 

আসামির সঙ্গে বাদীর পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়, গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি নাসরিনের বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। পরবর্তীতে বাদী তার নামে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ বলে চেকটি ডিজঅনার হয়।

ওই ঘটনায় তুলি বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি করেন।

গত বছরের ২৩ মার্চ এই মামলা দায়ের করা হয়।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা