৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হয়ে গেলে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: আল-জাজিরা
ভেনেজুয়েলায় বুধবার আঘাত হানা দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৩০ জন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫১ হাজার মানুষ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্ধারকর্মীর সংকটের কারণে হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরাতে কাজ করছে সাধারণ মানুষও।
সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, জীবিত উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ “৭২ ঘণ্টার উইন্ডো” প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
সরকার দাবি করছে পূর্ণ শক্তিতে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য ও পানি বিতরণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা খুবই কম।
ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) অনুমান করছে, এই ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ ৪.৭ থেকে ৮.৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, প্রায় ৬.৭৬ মিলিয়ন মানুষ এই দুর্যোগে প্রভাবিত হতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ২০ লাখ শুধু রাজধানী কারাকাসে।
এখন পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
উদ্ধারকাজে বাধা ও আতঙ্ক
ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহু মানুষ তাদের স্বজনদের খোঁজ পাচ্ছেন না। অনেক জায়গায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে ভারী যন্ত্র ব্যবহার হলেও উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হয়ে গেলে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তৃতীয় আঘাত
এদিকে, বুধবার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাত হজম করার আগেই শনিবার আরেকটি ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে আরাগুয়া অঞ্চলে। তবে বড় ধরনের নতুন ক্ষতি না হলেও জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।