পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে এবারও রেকর্ড পরিমাণ অর্থ মিলেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ ছয় মাস পর খোলা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে এবারও রেকর্ড পরিমাণ অর্থ মিলেছে।
গণনা এখনও শেষ না হলেও শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অর্থ গণনায় ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
ছয় মাস পর শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে সিন্দুকগুলো থেকে বের করা ৪৩ বস্তা ভর্তি টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে এনে রাখা হয়। সকাল ৯টার পর শুরু হয় টাকা গণনার কার্যক্রম।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টার গণনায় ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষ হতে আরও সময় লাগবে। গণনা করা অর্থ পর্যায়ক্রমে মসজিদের হিসাবভুক্ত করার জন্য রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দানবাক্সের টাকা গণনার কাজে প্রায় ৫৯০ জনের একটি বিশাল দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
এবারের গণনায় পাওয়া অর্থ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। তখনও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছিল।
পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ মানত ও দান করতে আসেন। অনেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দানবাক্সে প্রদান করেন। মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ দান সংগ্রহের নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তবে গণনা কার্যক্রম এখনও চলমান থাকায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে দানবাক্সে পাওয়া মোট অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার পূর্ণাঙ্গ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।