মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে হাদি হত্যার বিচার চেয়ে চিঠি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রতি বছরের মতো এবারও কোটি কোটি টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে নানা ধরনের মনোবাসনা, দোয়া ও আবেদনসংবলিত অসংখ্য চিঠি।
তবে এবার সেসব চিঠির মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী আবেদন সবার দৃষ্টি কেড়েছে। একটি ছোট্ট চিরকুটে এক ব্যক্তি লিখেছেন- ‘হাদি হত্যা বিচার চাই’।
ছয় মাস পর শনিবার সকাল ৭টায় পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং অসংখ্য চিঠি বের করা হয়।
এবার দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় সেগুলো নিয়ে শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।
গণনার সময় কর্মকর্তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে লেখা শত শত চিঠি পান। এসব চিঠিতে কেউ সন্তান লাভের প্রার্থনা করেছেন, কেউ রোগমুক্তি, চাকরি, ব্যবসায় সফলতা, বিদেশযাত্রা কিংবা পারিবারিক শান্তির জন্য দোয়া চেয়েছেন।
এরই মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠিতে লেখা ছিল- ‘হাদি হত্যা বিচার চাই’। চিঠিটি কার লেখা- সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ ছিল না। তবুও বিচারপ্রত্যাশী এই আবেদন উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা ও আল্লাহর দরবারে বিচার প্রার্থনার প্রতীক হিসেবে চিঠিটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
এর আগে সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নিয়মিতভাবে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ অর্থ দানের পাশাপাশি নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-কষ্ট ও ব্যক্তিগত প্রার্থনা লিখে জমা দেন। প্রতি ছয় মাস পরপর দানবাক্স খোলার সময় এসব চিঠিও বেরিয়ে আসে।
এর আগে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা, অসুস্থতার নিরাময়, নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চেয়ে লেখা চিঠিও পাওয়া গেছে।