প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সাংবাদিকদের বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, ‘এটা স্রেফ সভাপতির বিবৃতি। কোনো প্রশ্ন নেওয়া হবে না।’ নেদারল্যান্ডসের কাছে লজ্জার হারের পর অনেক প্রশ্ন অবশ্য নতুন করে জমছে, তার থেকেই কয়েকটির উত্তর রবিবার দিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। আশায় ভাসা বিশ্বকাপে সাকিবরা যে ধুপ করে পড়ে যাবেন, সেটি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছেন না বিসিবি সভাপতি। তবে ক্রিকেটারদের বাজে সময় সামলে উঠতে যা প্রয়োজন সবকিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘সঙ্গে আছেন’ বলে জুগিয়েছেন সাহসও। সবশেষ আরেকবার শুনিয়েছেন সেই আশার কথা।
বিসিবি সভাপতির চাওয়া, বিশ্বকাপে নিজেদের বাকি তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলবে বাংলাদেশ। বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী না দেখিয়ে নিদেনপক্ষে লড়াইটা দেখাবেন সাকিবরা। কলকাতার তাজ হোটেলে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আলোচনা সেরে গণমাধ্যমের সঙ্গে এসব কথা বলেন পাপন। বোর্ড সভাপতি জানান, দলের ওপর তার অগাধ বিশ্বাস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর হারের বৃত্তে নাকানি-চুবানি খাওয়া বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ছিটকে গেছে। অধিনায়ক সাকিব ডাচদের কাছে হারার পর স্বীকার করেছেন, এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ। তবুও আশাবাদী পাপন, হতাশা ছড়িয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দলটাকে ১২-১৩ বছর ধরে কাছ থেকে দেখেছি। একটা আসরে বা সিরিজে দুয়েকজন খেলোয়াড় ভালো করতে পারেন না। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, দলের চার-পাঁচজনই রান পাচ্ছেন না। এমন বাংলাদেশ দল তো আমরা দেখিইনি, এমন খারাপ খেলা দলও কোথাও দেখিনি। এত বড় টুর্নামেন্ট খেলতে আসা দলের এমন খেলা অপ্রত্যাশিত। যেটা হয়ে গেছে তা নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। সামনে তিনটি ম্যাচ আছে। এই তিন ম্যাচে কীভাবে ভালো খেলতে পারি, এটা ছাড়া করার কিছু নেই।’
টানা পাঁচ হারে পয়েন্ট টেবিলের ৯ নম্বরে বাংলাদেশ। পয়েন্ট মোটে ২। পাকিস্তানে বসতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলেও টেবিলের শীর্ষ আটের মাঝে থাকতে হবে। বিশ্বকাপে সাকিবরা সেখানে যোজন পিছিয়ে। সেখানেই জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।
ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংয়ের বাজে মহড়া কাটিয়ে ফেরার আশ্বাসও শুনিয়েছেন। সবার আগে তবে জিততে হবে। কীভাবে আসতে পারে জয়, সেই পথও বাতলে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘দুটো জিনিস করতে হবে। ওদের মধ্যে সাহস জোগাতে হবে, বিশ্বাস জোগাতে হবে। যেন ওরা পারে। এই বিশ্বাস আর সাহস যদি নিজেদের মধ্যে না আসে, তাহলে ওরা সব সময় কনফিউজ থাকবে। ভুল শট খেলবে। এটাই করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা সবাই বলল যে, তারা একতাবদ্ধ। তাদের মধ্যে সমস্যা নেই। রান পাচ্ছে না, এটা চিন্তা করে আরও বেশি খারাপ লাগছে ওদের। কারণ ওরাই তো আমাদের সুপারস্টার। ছিল সব সময়। এটা তো এক দিন দুই দিনের নয়। বছরের পর বছর। এরা রান পাচ্ছে না, এটাই এরা মেনে নিতে পারছে না।’
সমালোচনাকেও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন পাপন, ‘মানুষ বোর্ডকে বলবে, কোচিং স্টাফকে বলবে, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বলবে। এটা স্বাভাবিক। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যেহেতু সিরিজ চলছে, টুর্নামেন্ট চলছে, আরও তিনটা ম্যাচ আছে। ম্যাচগুলোতে যদিও আহামরি কিছু করতে পারব, সেটাও নয়। তবে আমরা সক্ষম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এখনও সম্ভব। হারা-জেতা বড় কথা নয়, ভালো ক্রিকেট খেলাটা আসল।’
আশার ভেলাতেই চড়তে চান সাকিবদের বস, বাংলাদেশ দলের প্রতিও হারাচ্ছেন না বিশ্বাস। বোর্ড সভাপতির বিশ্বাসের মূল্য রাখতে হলে বেশ কাঠখড় পোহাতে হতে পারে টাইগারদের। হারাতে হবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বকাপজয়ী দলকে। সেই চ্যালেঞ্জ নতুন করে নেওয়া হোক— সাকিবদের কাছে সভাপতির এখন এটাই প্রতাশা!