প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২:০৯ পিএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:১৬ পিএম
বাংলাদেশের ফিল্ডিং হলো যাচ্ছেতাই। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং হবে খারাপ। আবার বোলিং ভালো হলে ব্যাটিং হবে বাজে। এটা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট মাঠের ধরাবাধা রীতি। এ কারণেই সাফল্যটা অনেক সময়ই ধরা দেয় না। তবে একসঙ্গে ব্যাটিং-বোলিং যে ভালো হয় না তা কিন্তু নয়। তবে দুটি বিভাগেই যখন টাইগাররা জ্বলে ওঠে, তখনই উৎসবে মাতেন দেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা।
আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভালো করেই এসেছিল জয়। কিন্তু বিশ্বকাপের পরের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং ভালো হলেও বোলিং হয়েছে যাচ্ছেতাই। এ কারণে বৈশ্বিক আসরে হারের বৃত্তে আটকে যায় বাংলাদেশ। সেই খোলস ভাঙার মিশনে নেমে টাইগারদের বোলিং হলো দুর্দান্ত। শুরুর ছন্দটা শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসকে নিজেদের হাতের নাগালেই আটকে রাখে বাংলাদেশ। ডাচদের পুঁজি দাঁড়িয়েছিল ২২৯। যদিও ইউরোপিয়ান দলটির সংগ্রহ এতটা বড় না-ও হতে পারত। তারা গুটিয়ে যেতে পারত ১৫০ রানের আগেই। কিন্তু না হওয়ায় ক্রিকেট অনুরাগী আর ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কণ্ঠে ঝরেছে আক্ষেপ।
বোলাররা আগুনে বোলিং করলেন। তাদের ক্ষুরধার বোলিংয়ে মাঠে ব্যাট হাতে ধুঁকলেনও ডাচ ব্যাটাররা। মাঠের লড়াইয়ে পেসঝড় আর স্পিনজাদু দুটোরই দেখা মিলল। কিন্তু তারও নেদারল্যান্ডসের স্কোরটা দুইশ পেরোল কীভাবে? স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটা উঠতেই পারে। তবে উত্তরটাও অজানা নয়। যাচ্ছেতাই ফিল্ডিংই এর জন্য দায়ী। এক ম্যাচে ব্যাটিং খারাপ হলে দলের ব্যাটিং ভালো করে পরের কোনো ম্যাচে। বোলিংয়ের বেলায়ও খাটে একই গল্প। কিন্তু ফিল্ডিংয়ের উন্নতির নামগন্ধ নেই। এই ডিপার্টমেন্টে কোচ পাল্টেও যে কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বিশ্বকাপে তো নয়ই। গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে বাজে ফিল্ডিংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিল সাকিব আল হাসানের দল। বাউন্ডারি ফেরাতে গিয়েই ঘাম ছুটে গেছে তাদের। সেই ব্যর্থতার সঙ্গী হয়েছে ক্যাচ মিস।
দুবার ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে ফেরেন স্কট এডওয়ার্ডস। সেই ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগান ডাচ ক্যাপ্টেন বেশ ভালোভাবেই। ১৬তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় বল তুলে মেরেছিলেন এডওয়ার্ডস। তার ড্রাইভ থেকে উড়াল দিয়ে বল চলে গিয়েছিল লিটন দাসের কাছে। ওপরে দুহাত তুলেও বল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। গালিতে বল চুমু দেয় ঘাসে।
এক বল পরেই আরও একটি ক্যাচ মিস করেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ১৬তম ওভারের চতুর্থ বল ফের তুলে দিয়েছিলেন এডওয়ার্ডস। বল চলে যায় বোলার মুস্তাফিজের কাছেই। কিন্তু কঠিন ছিল ক্যাচটি। লুফে নিতে পারেননি। দ্বিতীয়বার জীবন পান এডওয়ার্ডস। তখনও এডওয়ার্ডস রানের খাতাই খোলেননি। কিন্তু জীবন পেয়ে সেই তিনিই খেলেন ৬৮ রানের দুর্বার এক ইনিংস। ৮৯ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৬ বাউন্ডারিতে। শেষে ফিফটি হাঁকানোর পর তাকে ফেরান সেই কাটার মাস্টার মুস্তাফিজই।
দুর্ভাগাই বলতে হয় মুস্তাফিজকে। তার বলে আরও একটি ক্যাচ মিসের ঘটনা ঘটে। ৪৩তম ওভারের তৃতীয় বলে সাইব্র্যান্ড এনজেলব্রেখট বল তুলে মারেন। মুস্তাফিজের কাটার বল উড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। পিছিয়ে গিয়েও বল ধরতে পারেননি মেহেদি মিরাজ। বলের গন্তব্যই তারকা এ অলরাউন্ডার বুঝতে পারেননি। কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে বল ধরার চেষ্টা করেন। শেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে দিলেন ডাইভ। কিন্তু লাভ হয়নি। জীবন পেয়ে সাইব্র্যান্ড খেলেন ৩৫ রানের দারুণ এক কার্যকরী ইনিংস। তাতেই বেড়ে যায় ডাচদের স্কোর।
ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুককে বিদায় করে দুই দফা দেশি কোচের দ্বারস্থ হয় বিসিবি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। ফের বিদেশি কোচের কাছে যেতে হয়েছে বোর্ড। নতুন ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমটকে নিয়োগ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। ক্যাচ মিস আর বাজে ফিল্ডিংটা যেন কিছুতেই সরছে টাইগারদের কাঁধ থেকে। ফিল্ডিং কোচ ম্যাকডারমটের সহকারী হিসেবে দলের সঙ্গে আছেন ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। তার প্রভাবও কোনো কাজে লাগছে না দলে। তাই তো মিরাজ-মুস্তাফিজ-লিটনরা যখন ক্যাচ মিস করছিলেন, তখনই ক্যামেরার লেন্স চলে যাচ্ছিল ডিকেন্স আর ম্যাকডারমটদের দিকে।
এত গেল ক্যাচ মিসের গল্প। রান আউটের আরও হাস্যকর গল্পও লিখেছেন তারা। সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। ডাচ ব্যাটার ক্রিজের প্রান্তসীমা থেকে অনেকটা দূরেই ছিলেন। ফিল্ডার বল ছুড়ে পারেন মুশফিকের কাছে। তার পেছনে থাকা স্টাম্পের দিকে না তাকিয়ে পেছনের দিকে ছুড়ে দেন। তাতে গতিও ছিল কম। তার ছোড়া বল মিস করে স্টাম্প। বেঁচে যান ডাচ ওই ব্যাটার।