বিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:১৩ এএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:১৮ এএম
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবম আসর শেষ হলো সবে, চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। নিজেদের সাফল্যের রেসিপি কী? সংবাদ সম্মেলনে এমন এক প্রশ্ন ধেয়ে গেল ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী নাফিসা কামালের দিকে। জবাবে তিনি জানালেন অনেক কিছুই; তবে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণটা ছিল- একই দল, একই সেট-আপ নিয়ে অনেক দিন ধরে বিপিএলে লড়ে যাওয়া।
আরও পড়ুন - ভীতি কাটিয়েছেন তামিম, দেখছেন বড় স্বপ্ন
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস যে অধিনায়কের অধীনে তৃতীয়বারের মতো জিতেছিল বিপিএলের শিরোপা, সেই ইমরুল কায়েসকেই কিনা ড্রাফটের আগে দলে রাখেনি! যেখানে ড্রাফটের আগে লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, তানভীর ইসলাম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সুনীল নারাইন, মঈন আলি, আন্দ্রে রাসেলদের ঠিকই ধরে রেখেছিল দলটা!
তবে ইমরুলকে অবশ্য ড্রাফট থেকে দলে ভিড়িয়েছে সে কুমিল্লাই। স্কোয়াডেও ভাঙন নেই খুব একটা। মোটাদাগে আগের আসরের দলটাকেই ধরে রেখেছে কুমিল্লা। তবে নতুন আসরে দলটিতে যোগ দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়ের মতো তরুণ তুর্কি; সঙ্গে বিদেশিদের মধ্যে ইফতিখার আহমেদ, নাসিম শাহ আর রশিদ খানও যোগ দিয়েছেন। এসব অবশ্য ড্রাফটের আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। আজ ড্রাফট থেকে ইমরুলের পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, জাকের আলি অনিক, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, রাকিম কর্নওয়াল, ম্যাথু ওয়াল্টার ফোর্ড, মুশফিক হাসান আর এনামুল হককে দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলে অংশ নেওয়া ৭ আসরে ৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা যে এবারও শিরোপা ধরে রাখতে মরিয়া, এবারের দল গোছানোর প্রক্রিয়া দিয়েই তার প্রমাণ দিল তারা।
গেল আসরের রানার্স আপ সিলেট স্ট্রাইকার্সের শক্তির জায়গা ছিল তাদের দেশীয় খেলোয়াড়দের বিশাল পুল। এবারও দলটি আস্থা রেখেছে দেশীয় খেলোয়াড়দের ওপরই। গেল বারের দল থেকে তারা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে তো ধরে রেখেছেই, সঙ্গে গেল আসরে সর্বোচ্চ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত, জাকির হাসান, তানজিম হাসান, রায়ান বার্লকেও ধরে রেখেছে দলটি। ড্রাফটের আগে দলে যোগ দিয়েছিলেন বেন কাটিং, হ্যারি টেক্টর। আজ ড্রাফট থেকে মোহাম্মদ মিঠুন, রেজাউর রহমান রাজা, আরিফুল হক, ইয়াসির আলী রাব্বি, রিচার্ড এনগারাভা, দুশন হেমন্ত, নাজমুল ইসলাম অপু, শফিকুল ইসলাম, নাইম হাসান, জাওয়াদ রোয়েন, সালমান হোসেন ইমনকে দলে টেনেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়দের একজন। তাকে অবশ্য অনেক আগেই দলে ভিড়িয়ে রেখেছিল রংপুর। সেই রংপুর গেল বারের দল থেকে ধরে রেখেছে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, হাসান মাহমুদদের মতো খেলোয়াড়দের। আজ ড্রাফট থেকে শামীম পাটোয়ারী আর রনি তালুকদারদের ছাড়া বড় কোনো নাম অবশ্য দলটি স্কোয়াডে ভেড়াতে পারেনি।
বড় পরিবর্তন এসেছে অবশ্য ফরচুন বরিশাল দলে। গেল আসরে দলটি সাকিব আল হাসান আর ইফতিখার আহমেদের ব্যাটে নির্ভর করেছে অনেকটাই। সেই দুজনকে এবার হারিয়েছে বরিশাল। তবে এবার দলটি স্কোয়াডে পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমদের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের, সঙ্গে আছেন মেহেদি হাসান মিরাজ, শোয়েব মালিক, পল স্টার্লিং, ফখর জামান, মোহাম্মদ আমির, দুনিথ ভেল্লালাগেদের মতো তারকাদের। আজ ড্রাফট থেকে সাইফ উদ্দিন, সৌম্য সরকারদেরও দলে ভিড়িয়েছে বরিশাল।
নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দুর্দান্ত ঢাকা’ বোলিংয়ের দিক থেকে এবারের বিপিএলে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটিতে আছেন তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, শরীফুল ইসলাম, ওসমান কাদিরদের মতো তারকারা। সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন, সিয়াম আইয়ুব, সাইফ হাসান, ইরফান শুক্কর, সাদিরা সামারাবিক্রমা, নাঈম শেখদের নিয়ে ব্যাটিংটাও নেহায়েত মন্দ নয় দলটির।
এদিকে নাসুম আহমেদ, এভিন লুইস, ফাহিম আশরাফ, আফিফ হোসেন, রুবেল হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমনদের নিয়ে খুলনা টাইগার্সও গড়েছে লড়াকু দল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স স্কোয়াড তুলে নিয়েছে মোহাম্মদ হারিস, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ হাসনাইন, তানজিদ হাসান তামিম, কার্টিস ক্যামফার, শাহাদাত হোসেন দিপুকে।