প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০১:১৯ এএম
চোট সারিয়ে আগেও বহুবার ২২ গজে নেমেছেন তামিম ইকবাল। কখনও কি এতটা ভীত ছিলেন তিনি। কিংবা তার ওপর সমর্থকদের এতটা প্রত্যাশা। জবাব দেওয়ার ছিল তামিমেরও। প্রমাণ করতে হতো, চোট সারিয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত তিনি।
আরও পড়ুন - অজিদের ধসিয়ে সিরিজ নিজেদের করল ভারত
কেননা এবারের ফেরাটা যে ভিন্ন। চোট-অবসর নাটকীয়তা শেষে তারপর ফেরা। এসব বিবেচনায় কিছুটা হলেও জবাব দিয়েছেন তামিম। ৫৮ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়েছেন মাঝের সময়টাতে কেবল চোট নয়; বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিটাও ভালোই নিয়েছেন তিনি।
দরকার ছিল কেবল ভীতি কাটানো। ম্যাচ শেষে সেসব কথায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তামিম। বলেছেন, দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরায় কিছুটা নার্ভাস ছিলেন, আছে কিছুটা অস্বস্তি বোধও। তবু বিশ্বকাপে বড় স্বপ্নই দেখছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৬ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তামিম। তাকে পেয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল চোট নিয়ে এখনও কোনো সমস্যা বোধ করছেন কিনা দেশসেরা ওপেনার। উত্তরে তামিম জানান, ‘সত্যি বলতে ফিরে ভালোই লাগছে। প্রথম ম্যাচে ৩০ ওভার, আজ ৫০ ওভার ফিল্ডিংয়ের পর ২০ ওভার ব্যাটিং করা, ভালোই লাগছে। তবে এখনও পিঠে অস্বস্তি আছে। ফিজিও ও আমি নিজেও এই অস্বস্তি কাটানোর চেষ্টা করছি। আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেবে, সেটা নিয়ে আমাদের মেডিকেল টিমের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরলে শুরুর দিকে যেকোনো ক্রিকেটারকেই শুরুতে বেশ ভুগতে হয়। তামিম নিজেও কি শুরুতে কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছেন। এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, ‘সত্যি বলতে নার্ভাস ছিলাম। যদি বলি আরেকটি ম্যাচ ছিল শুধু, সত্যি বলা হবে না। আমি যখন ব্যাটিং করতে নামি, নার্ভাস ছিলাম। তবে প্রথম ওভারের পর সেটি কমে এসেছে। বল মারতে পেরে আবার ভালো লাগছে। ৪৪ রান করেছি বলে নয়, যদি ২০ রানও করতাম, যেভাবে নতুন বল ফেস করলাম, যেভাবে কোয়ালিটি পেস অ্যাটাক ফেস করলাম, অবশ্যই ভালো অনুভব করছি। এত দিন পর আসলে যেকোনো ব্যাটসম্যানের একটু নার্ভাসনেস থাকবে, আমি ভিন্ন কেউ নই।’
এই মুহূর্তে ঠিক কী সমস্যা বোধ করছেন এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, ‘সব মিলিয়ে অস্বস্তি আছে। আমাদের চিকিৎসক দল সিদ্ধান্ত নেবে আমাকে কীভাবে সামলাবে। আমাকে মেনে নিতে হবে যে এটা পুরোপুরি সেরে যাবে না। খুবই স্বাভাবিক যে এত দিন পর চোট থেকে খেলায় ফিরলে আমি শতভাগ ফিট থাকব না। আবারও শতভাগ ফিট বলছি...(হাসি)।’
এশিয়া কাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখার আগে সমর্থকদের ঘুম থেকে জেগে ওঠার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ হাথুরু সিংহে। এক্ষেত্রে তামিমের ভাবনাটা অবশ্য কোচের বিপরীত, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম কিছু কিছু মন্তব্য শুনে। আমি অবশ্যই মনে করি যে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন না দেখলে অর্জন করবেন কীভাবে? অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালের ওপরও কোনো দিন যেতে পারিনি। তারা স্বপ্ন দেখেছে বলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় কোনো স্বপ্ন না থাকলে উদ্দেশ্যও থাকে না। এটা আমাদের সপ্তম বিশ্বকাপ। আমরা আর কবে স্বপ্ন দেখব। আমরা হয়তো এবার দুইটা ম্যাচ জিততে পারি, একটাও জিততে পারি। আবার সেমিফাইনালও খেলতে পারি। যেটাই হোক, স্বপ্নটা তো থাকতে হবে। আমি জানি না, এটা বলাটা ঠিক কি না।’
দ্বিতীয় ওয়ানডের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ইস সোধিকে হাসান মাহমুদের মানকাডিং আউট করা ও এরপর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবার তাকে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া। সংবাদ সম্মেলনেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্ন। আগামীতে এমন আউট নেবে কিনা বাংলাদেশ এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা আমরা নেব কি নেব না, এটা দলের সিদ্ধান্ত। তবে সোধি যেভাবে নিয়েছে, তাতে আমি অবাক হয়েছি। এটা ক্রিকেটেরই অংশ। এখানে ওয়ার্নিংয়ের কিছু নেই। বোল্ড আউটের মতোই। হয়তো তখন অধিনায়ক ভেবেছে আমরা নেব না, এ কারণেই আমরা নিইনি। এখানে ঠিক বা ভুল নেই। হয় আপনি করবেন, নয়তো না। আমাদের এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত, করব কি করব। কারণ সামনে এমন আরও দেখা যাবে।’
তামিমের মতো এ সিরিজে নজর ছিল মাহমুদউল্লাহর দিকেও। সতীর্থদের কাছ থেকে যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় দলকে জেতাতে না পারলেও দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ বলে ৪৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। মাহমুদউল্লাহকে কেমন দেখলেন তামিম, তার জবাবে তামিম বলেন, ‘আমার তো মনে হয় উনি চমৎকার খেলেছেন। আমি ওনার সঙ্গে ছোট একটা জুটিতে ছিলাম। ওনার ইনটেন্ট খুবই ভালো ছিল। আমার মনে হয়নি উনি ছয়-সাত মাস বিরতির পর খেলতে নেমেছেন। ওনার ফিল্ডিংও খুবই ভালো হয়েছে। যতবারই বল গেছে, উনি সেরাটাই দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তিনি খুবই খুবই ভালো খেলেছেন।’