প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:০২ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:১১ পিএম
বিশ্বকাপ জিততে না পারার যে অপেক্ষা কিংবা আক্ষেপ ছিল, তা মিটে গেছে কাতারে। ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো লিওনেল মেসি এখন খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ফ্লোরিডার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে নতুন ঘাঁটি গেড়েছেন ইউরোপ কাঁপিয়ে বেড়ানো ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন : আরেকটি লড়াইয়েও চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি
মার্কিন মুলুকে জীবন, সন্তান এবং ফুটবল হয়ে লিও কথা বলেছেন সাম্প্রতিক সময়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্মাননা না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মজার ছলে মেসির এসব কথা বের করে এনেছেন আর্জেন্টিনার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিগুয়েল গ্যারাডোস।
সম্মাননা নিয়ে আক্ষেপ
আমিই বোধহয় একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী যে ক্লাবের পক্ষ থেকে উপযুক্ত সম্মান পাইনি। আর্জেন্টিনা দলের বাকি ২৪ সদস্য প্রত্যেকে তাদের ক্লাব থেকে সংবর্ধনা পেয়েছে। আমি এটা আশা করিনি। তাই পিএসজিতে আর খেলার ইচ্ছে ছিল না। যা আশা করেছিলাম তা হয়নি। প্যারিসে আসলে ভালো ছিলাম না।
ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পাইনি। ব্যাপারটা সহজেই বোঝা যায়। আমাদের আর্জেন্টিনার কারণেই ওরা (ফ্রান্স) বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারেনি।
ইন্টার মিয়ামিতে জীবন
ভাবনায় ছিল এমন, এখানে আসব উপভোগ করতে- আমি সেটা করছি। সকালে বিছানা ছাড়ি ৭টার দিকে। থিয়াগো, মাতেও এবং সিরোর সঙ্গে নাশতা সেরে নিই। মাঝে মাঝে তাদের স্কুলে নিয়ে যাই। সকাল সকাল ইন্টার মিয়ামিতে অনুশীলন করি, কারণ ওখানে প্রচণ্ড গরম। ক্লাবে অন্য সবার মতো আমাদেরও সময়সূচি আছে। জরিমানারও বিধান আছে, আমি দেরি করলেও আমাকে জরিমানা করা হয়।
কন্যাসন্তান চাওয়া
সাধারণত ট্রেনিং শেষে দুপুর ১টার দিকে বাসায় ফিরি। তখন আমি আর আন্তোনেলা লাঞ্চ সারি। একটু ঘুমিয়ে নিই, তারপর টিভিতে মুভি বা সিরিজ কিছু একটা দেখি। পরে বাচ্চাদের স্কুল থেকে আনতে যাই। তাদের বাসায় রেখে আবার ট্রেনিংয়ে যাই।
আমার মনে হয় আমি ভালো বাবা। বাচ্চাদের মধ্যে সেই মূল্যবোধগুলো স্থাপন করতে চাই যা আমাকে ছোটবেলায় শেখানো হয়েছিল। সব সময় বলি, আমি ছোটবেলায় যা শিখেছি, আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে এমনকি ক্লাব (বার্সেলোনা) থেকেও শিখেছি। থিয়াগো খুব কম সময় আমার সঙ্গে থাকে। সে তার মাকে বলতে পারে সব। আন্তোনেলা সন্তানদের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা থাকে। মাতেও সবকিছু সহজেই বলে দেয়। কিন্তু সিরো কিছুটা স্বল্পভাষী।
আমার তিন ছেলে। তবে আরেক সন্তান হলে মন্দ হয় না। আশা করি এবার কন্যাসন্তান হবে। আন্তোনেলা একজন ভালো মা। আমি তার প্রতি মুগ্ধ।
বিশ্বকাপ খেলা প্রসঙ্গে...
কোপা আমেরিকার পর দেখা যাবে। আসলে সবটা নির্ভর করবে আমি তখন কেমন অনুভব করছি। বিশ্বকাপের এখনও তিন বছর বাকি আছে। আমেরিকা বিশ্বকাপে যেতে পারবে কিনা জানি না। এটি নিয়ে ভাবছিও না। কারণ এটা অনেক দূরের বিষয়।
ফুটবল আমার পেশা। আমার পছন্দের জবটি পেশা হিসেবে নিতে পেরে ভাগ্যবান। আমার কিছু দায়িত্ব এবং লক্ষ্য আছে, কিন্তু ফুটবল আমার কাছে উপভোগের কিছুও। এরপর আমি কী করতে যাচ্ছি? নিজেও জানি না। একজন স্পোর্টস ডিরেক্টর হতে চাইব, বাচ্চাদের সঙ্গে থেকে তাদের শেখাতে চাই।