প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ২৩:১৮ পিএম
এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তবে তার ঠিক আগে দল গঠন নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হাসান মুনির সুমনের বিরুদ্ধে দল গঠনে হস্তক্ষেপ তো আছেই, খেলোয়াড়দের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন : শিরোপায় চোখ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের
গতকাল টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলেছেন খেলোয়াড়রা। আসছে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার জন্য গতকাল দল ঘোষণা করে টেবিল টেনিস ফেডারেশন। সেখানে পুরুষ দলে জায়গা করে নেওয়া খেলোয়াড়রা হলেন মুহতাসিম আহমেদ হৃদয়, রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন ও নাফিজ ইকবাল। এর মধ্যে নাফিজের দলে ঢোকা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদের দাবি, শীর্ষ চারে থাকা সত্ত্বেও তাকে দলে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়েছে জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ের ১৮-তে থাকা খেলোয়াড়কে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ বলেন, ‘এই প্রথম দেখলাম চার নম্বর খেলোয়াড় রেখে ১৮ নম্বর খেলোয়াড়কে টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়েছে। সাধারণত আমাদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ চারে থাকা খেলোয়াড়রাই চ্যাম্পিয়নশিপে যায়। একবার আমি ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও দলে সুযোগ পাইনি। কারণ আমার র্যাঙ্কিং শীর্ষ তিনে ছিল না। তখন তো আমি বলিনি যে আমাকে কেন দলে নেওয়া হলো না, চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও! এখন কেন বাদ দেওয়া হলো আমাকে?’
এই বক্তব্যের জবাবে হাসান মুনির এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, ‘১৯৯১ সালে একই টুর্নামেন্টে সিনিয়র সাইদুল হক সাদী ও নাসিমুল হাসান কচিদের সঙ্গে গিয়েছিলেন জুনিয়র সেরা মানস চৌধুরী। ২০২১ সালেও এই টুর্নামেন্টে পুরুষ ও মেয়ে দুই বিভাগেই র্যাঙ্কিংধারী তিনজনের সঙ্গে একজন জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন গিয়েছেন। সেই থেকে নিয়ম করা হয়েছে। তাই এবারও শেখ কামাল জাতীয় যুব গেমসে চ্যাম্পিয়ন নাফিস ইকবাল ও খৈ খৈ সাই মারমাকে পাঠানো হচ্ছে- যা নির্বাহী কমিটি অনুমোদিত।’
এর পেছনে আঙুলটা সরাসরি হাসান মুনিরের দিকেই তুলেছেন জাভেদ। যদিও হাসান ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন, এই অভিযোগও সম্পূর্ণ অমূলক, দল গঠনে তার হস্তক্ষেপ একেবারেই নেই।
আরেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অন্তু হোসেন জয় আরও এক অভিযোগ এনেছেন টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে। তার কথা, ‘গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সময় একটি ম্যাচ হারায় আমাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন হাসান মুনির, যা একজন কর্মকর্তার জন্য শোভনীয় নয়।’
সে ঘটনার এক বছর পর কেন এ অভিযোগ তোলা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘আমি তখন জুনিয়র খেলোয়াড়। তখন এর প্রতিবাদ করলে আমার ক্যারিয়ার হুমকির মধ্যে পড়ত। তাই টিটির স্বার্থেই কিছু বলিনি।’