মৃত্যুর গুজব
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ২৩:১০ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ২৩:৩৪ পিএম
সাবেক সতীর্থ রেমন্ড প্রাইসের সঙ্গে হিথ স্ট্রিক
আজ বুধবার (২৩ আগস্ট) ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়েই ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেল ক্রিকেটার ও সমর্থকরা। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে খবর, মারা গেছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট কিংবদন্তি ও বাংলাদেশের সাবেক কোচ হিথ স্ট্রিক। শোকের মাতম বইয়ে গেল মুহূর্তেই।
আরও পড়ুন : লঙ্কা অভিজ্ঞতা কাজে দেবে, বিশ্বাস সাকিবের
স্ট্রিকের ছবি দিয়ে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি কিংবা তার কীর্তি নিয়ে লেখা হলো একের পর এক কাব্য। স্ট্রিকের সাবেক সতীর্থ হেনরি ওলোঙ্গার দেওয়া খবরে পুরো বিশ্বই ততক্ষণে জেনে গেছে; জীবনের শেষ ফিফটি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে ৪৯-এ স্ট্রিক চলে গেছেন সব হিসেবে চুকিয়ে। আট ঘণ্টা পর ফের তোলপাড় বিশ্ব ক্রিকেট।
জানা গেল এখনও বেঁচে আছেন স্ট্রিক, ফের ওলোঙ্গা দিলেন স্ট্রিকের বেঁচে থাকার খবর, জানালেন আগের খবরটি ভুল ছিল, স্ট্রিকের সঙ্গে কথা বলেই তার বেঁচে থাকার খবর নিশ্চিত করছেন তিনি।
এর আগে গত মাসেই স্ট্রিককে নিয়ে খবর ছিল, দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জিম্বাবুয়ের সোনালি দিনের এই সেনানী। এমন সময় তার সতীর্থ ওলোঙ্গার যখন টুইটে নিশ্চিত করলেন, বেঁচে নেই ২২ গজের যোদ্ধা; তখন খুব বেশি অবাক হওয়ার ছিল না কারোরই।
স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রিকের মৃত্যুর খবরটি বিশ্বাস করেছিল সমর্থকরা, এমনকি বিশ্ব মিডিয়া। ওলোঙ্গারের দেওয়া টুইটটি ফলাও করে প্রকাশ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিশ্বের বড় বড় সব সংবাদমাধ্যম। বাদ যায়নি গার্ডিয়ানও।
পরে জানা গেল ভিন্ন খবর, স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর জানিয়ে করা টুইটটি মুছে ক্ষমা চান ওলোঙ্গা। সঙ্গে স্ট্রিকের সঙ্গে কথা বলার একটি স্ক্রিন শট দিয়ে লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর সংবাদ নিছকই গুজব। তার সঙ্গে মাত্রই কথা হলো। থার্ড আম্পায়ার তাকে ফিরিয়ে এনেছেন। বন্ধুরা, সে বেঁচে আছে।’ তার এই টুইটের পর স্ট্রিকের মৃত্যুর খবরটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সব গণমাধ্যম।
স্ট্রিক মারা না গেলেও কোলন ও লিভার ক্যানসারে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। যদিও নিজের এমন মৃত্যুর গুজব ভালোভাবে নেননি স্ট্রিক।
ভারতের সংবাদমাধ্যম মিড ডে'কে স্ট্রিক নিজে বলেন, ‘এটা গুজব। আমি জীবিত আছি, ভালোই আছি। তবে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে এত বড় একটা খবর কারও কাছ থেকে নিশ্চিত না হয়েই কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, যে সূত্র এ খবর ছড়িয়েছে, তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলেছেন স্ট্রিক। পরে বিভিন্ন দলের কোচিং করিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ২০১৪ সালে বাংলাদেশি বোলিং কোচ হন তিনি। দায়িত্ব পালন করেন দুই বছর।
স্ট্রিক প্রথম ও একমাত্র জিম্বাবুইয়ান হিসেবে টেস্টে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পেয়েছেন। আর ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পেয়েছেন স্ট্রিক।