প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ২২:০৩ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩ ২২:০৮ পিএম
শেষ কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ফুটবলকে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিয়েছেন নারীরাই। হোক স্বল্পমেয়াদি, সে দলের দায়িত্ব পাওয়াটা তো চ্যালেঞ্জেরই। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু সে চ্যালেঞ্জটা মেনেই নিচ্ছেন। তবে সে চ্যালেঞ্জ জিততে বাড়তি চেষ্টাও করছেন বলে জানালেন তিনি।
আরও পড়ুন : ভোরে মাঠে নামছে মেসির মিয়ামি
গেল বছরের সেপ্টেম্বরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাফ জেতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তবে এক বছরের ব্যবধানে সে দল ভেঙে গেছে রীতিমতো। বিদায় নিয়েছেন সিরাত জাহান স্বপ্না, আঁখি খাতুনদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন সরে গেছেন, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিও চলে গেছেন বাফুফে ছেড়ে। সব মিলিয়ে নারী ফুটবলের সাজানো সংসারটাই ভেঙে গেছে।
ঠিক এই সময় সাইফুল বারী টিটুকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নারী দলের, গোলাম রাব্বানী ছোটনের ভূমিকাতেই। জাতীয় দলের কোচ হলেও বয়সভিত্তিক সব দলেরই দায়িত্ব ছিল ছোটনের হাতে, সেটা বদলায়নি এখনও, এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকা সিনিয়র দলের অনুশীলন যেমন করাচ্ছেন টিটু, তেমনি অ-১৭ এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন বয়সভিত্তিক দলকেও।
দুই দলকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র দল নিয়ে কোচ টিটুর মূল্যায়ন, ‘দুই দলের ফিটনেস লেভেলে বেশ পার্থক্য আছে। সিনিয়র দল নিয়ে কাজ করতে হবে বেশি, অ-১৭ দলটা বেশ ফিট আছে। সারা বছরই অনুশীলনে থাকার কারণে ওরা ভালো শেপে আছে।’
কোচ দায়িত্ব দিচ্ছেন, মেয়েরা তা পালনে কোনো কমতি রাখছেন না; বিষয়টা বেশ মনে ধরেছে টিটুর। তার ভাষ্য, ‘তারা খুব উৎসাহী, তারা কথা শোনে, দিকনির্দেশনা অনুসরণ করার চেষ্টা করে। এটা হলে আমি যেটা চাচ্ছি, সেটা শতভাগ কার্যকর নাও হতে পারে, কিন্তু অন্তত আমি যা চাচ্ছি তা তারা মানছে, আমার জন্য ভালো।’
কোচ টিটু ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে ছিলেন অনেক মেয়াদে, ক্লাব দলের কোচিংও করিয়েছেন। তিনি জানালেন, এখানেই যা পার্থক্য দুই দলের। তিনি বলেন, ‘মৌলিক কিছু পার্থক্য তো আছেই। এর বাইরে আমার কাছে যেমন মনে হয়েছে, মেয়েদেরকে যে কাজ দেওয়া হয় তারা সেটা করার চেষ্টা করে বেশি। ছেলেরাও করে… তবে এর বাইরে কোনো পার্থক্য নেই। প্রিন্সিপাল তো একই দলগুলোর।’
দলের দায়িত্বটা তিনি নিয়েছেন চ্যালেঞ্জিং একটা সময়ে। তবে তা ছাপিয়ে টিটুর কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয় মনে হচ্ছে মেয়েদের বিগত সাফল্য, আর তাদের প্রতি সবার মনোযোগ। তিনি বলেনÑ ‘ছোটন, পল, আগে যারা খেলেছে এখন যারা নেই তাদের ক্রেডিট। তারা দেশবাসীর মন জয় করেছে, লেভেলটা এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে তারা। ওটা নিয়ে সবার আগ্রহ, এটাই হচ্ছে চাপ। যেহেতু এটা সবার পছন্দের দল, প্রধানমন্ত্রীও খবর রাখেন; আমার দায়িত্বটা বেড়ে গেছে।’
তবে সে চাপ, চ্যালেঞ্জকে জয় করতে বাড়তি চেষ্টাও করে যাচ্ছেন কোচ। টিটুর ভাষ্য, ‘আমি অনেক দিন ধরেই কোচিং করাচ্ছি, তো আমার চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। তো এখানেও সে চেষ্টাটা আছে, তবে এখানে কিছু বাড়তি চেষ্টাও চলে আসছে, কারণ দায়িত্বটা বেশি।’
তবে এশিয়ান গেমসে তিনি শেষ পর্যন্ত যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আছে সন্দেহ। কোচ হিসেবে তার যে নিবন্ধনই হয়নি এখনও! তবে তিনি জানালেন, সেসব নিয়ে আপাতত ভাবছেন না তিনি। তার কথা, ‘বিষয়টা আনসেটলিং নয় এখন। আমার এখন লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়ান গেমসে কী করবে দল, তা নিয়ে কাজ করা। যদি সেটা না হয় (নিবন্ধন), তখন যেন ট্রানজিশনটা স্মুত হয়, সেটা আমার চেষ্টা থাকবে।’