প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩ ১৯:১২ পিএম
অভিষেকের এক বছরের মাথায় বড় সংকটে পড়ে গিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ছয় বলে ছয় ছক্কা খাওয়া পেসারের শেষটাও অনেকে দেখে ফেলেছিলেন সেদিন। কিন্তু ব্রড লড়েন শীর্ষ ছুঁতে, নিজেকে কিংবদন্তির কাতারে দেখতে।
আরও পড়ুন : বিশ্বকাপে পরিবর্তন আসতে পারে বাংলাদেশের ম্যাচে
ছোটবেলা থেকে শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্রড মৃত্যুর মুখ থেকে যেভাবে ফিরে এসেছেন, ঠিক নিজের ক্যারিয়ারও বাঁচিয়েছেন সেভাবেই। ১৭ বছরের ক্যারিয়ার একবাক্যে লিখলে অনেকটা এমন হয়, ‘নিজ হাতে ক্যারিয়ারের শেষটা লিখেছেন ব্রড।’
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর যুক্তরাজ্যের সম্পাদক অ্যান্ড্রু মিলার বলেছেন, ‘নিজেকে শীর্ষে নিতে গল্পের শেষটাও নিজের হাতে লিখেছেন ব্রড।’ কথাটির যথার্থ প্রমাণও দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা পেসার। দুঃখগাথার সেই ছয়ের পাশে আরও দুটি শূন্য বসিয়ে ব্রড বলছেন, ‘এখন আমি থামছি।’ অথচ অনায়াসেই আরও দুই বছর ক্রিকেট খেলতে পারতেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংলিশম্যান।
ওভালে অ্যাশেজের শেষ টেস্টের শেষ দিন যেন তার পুরো ক্যারিয়ারের কথা বলে দেয়। অ্যান্ডারসনকে নিয়ে ইংলিশদের দ্বিতীয় ইনিংস টেনে নিতে ব্যাটিংয়ে নামা ব্রড ক্যারিয়ারের শেষ বলটি উড়িয়ে সীমানাছাড়া করেছেন, তারচেয়েও মজার বিষয় হচ্ছে অ্যাশেজ সিরিজ সমতা করতে আনা জয়টিও এসেছে তার হাত ধরে। ইংলিশদের চোখের বালি হয়ে ওঠা শেষ দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ব্রড শেষটা রাঙিয়েছেন নিজের মতো, যেন ক্যারিয়ারের শেষটায় ছক্কা হাঁকিয়েছেন ব্রড।
২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন ব্রড। সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে আইসিসি ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের ছেলে প্রচারের আলোয় আসেন ২০০৭ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বসা প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যুবরাজ ব্রডের ওভারের ছয় বলে ছয়বার উড়িয়ে মেরেছিলেন। মুখ লুকিয়ে চোখ লাল করে মাঠ ছেড়েছিলেন ব্রড। মনে করা হচ্ছিল, এখানেই শেষ। কিন্তু ব্রডরা আসেন সেরা হতে, সেরা হয়েই ফেরেন। যেমনটা নিদর্শন রেখে যাচ্ছেন ব্রড, পছন্দের অ্যাশেজে নিজেকে জানিয়ে দিলেন ‘এবার থামো’।
ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৪৪ ম্যাচ খেলেছেন ব্রড। উইকেট নিয়েছেন ৮৪৭ টেস্টে ৬০৪, ওয়ানডেতে ১৭৮ আর টি-টোয়েন্টিতে ৬৫। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও রেখেছেন অবদান। টেস্টে ১৩টি ফিফটি, আছে একটি সেঞ্চুরিও। সবচেয়ে বড় বিষয়, ছয় ছক্কা খেয়ে মাথা হেঁট করে মাঠ ছাড়া ব্রড ওভালে মাথা উঁচিয়ে ফিরেছেন।
একের পিঠে আরেক করে অনেকদূর হয়েছে তার পথচলা। যে শূন্যের মান নেই সেই শূন্যকে মহামূল্যবান বানিয়ে সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারে ছয়ের পাশে বসিয়েছেন একটি নয় দুটি শূন্য। ব্রডকে এসব নিশ্চয় তৃপ্তি দেবে।