প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৯:১৯ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৯:২০ পিএম
টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালটা বাংলাদেশ দেখেই ফেলেছিল প্রায়, মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বিনা উইকেটেই পৌঁছে গিয়েছিল ৭০ রানে। তবে এরপরই ধসের শুরু, ১০ উইকেট বাংলাদেশ খোয়াল পরের ৯০ রান তুলতেই। তাতে বাংলাদেশের ইমার্জিং এশিয়া কাপ যাত্রাটা শেষ হয় ব্যর্থতা নিয়েই। ইমার্জিং এশিয়া কাপ, মানে উদীয়মানদের এশিয়া কাপ।
আরও পড়ুন - নারী দলকে বিসিবির পুরস্কার ৩৫ লাখ টাকা
প্রতিযোগিতাটির আগের চার আসর তাই ছিল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলগুলোকে নিয়ে হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু এবারের আসরটায় এসে বদলে গিয়েছিল এ নিয়ম, টুর্নামেন্টটা ছিল ‘এ’ দলের। তাই নামে উদীয়মান হলেও কাজে অনেকাংশেই হয়ে গিয়েছিল জাতীয় দলের আশপাশে থাকা খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্ট। এক ভারত ছাড়া বাকি সবাই মূলত এই টুর্নামেন্টে খেলেছে অমন দল নিয়েই।
বাংলাদেশ তো আরেক কাঠি সরেস, জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা বেশ কিছু খেলোয়াড় ছিলেন দলে। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় বাংলাদেশেই ছিল বেশি। বাংলাদেশ এরপরও পৌঁছতে পারেনি ফাইনালে। তবে দেশের প্রখ্যাত কোচ ও বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম একেই দেখছেন দলের ব্যর্থতার নেপথ্য কারণ হিসেবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলটা ওখানে পাঠানোর উদ্দেশ্যটা কী ছিল? এশিয়া কাপটা জেতা নাকি একটা সিলেকশন ট্রায়াল? আমাদের দলে অনেকজন ছিল যারা এটাকে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করানোর একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেছে, স্বাভাবিকভাবেই... যে এখানে আমি ভালো খেললে ওখানে খেলতে পারব এ রকম। তো এ রকম মানসিকতা নিয়ে দলের প্রয়োজনে, জয়ের জন্য খেলাটা খুব কঠিন। যদি একটা দল হয়, যে দল জয়ী হওয়ার জন্য খেলছে, তাদের খেলাটা একরকম হয়।’
ফাহিমের চোখে, মূলত মানসিকতার কারণেই এবারের ইমার্জিং এশিয়া কাপে সফলতার মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে অনেকেই আছে, যারা জয়ী হলে তো অসুবিধা নেই, কিন্তু তারা খেলছে তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য। কারণ পারফরম্যান্স ভালো হলে ওরা জাতীয় দলে খেলতে পারবে, বা ওদের বেটার একটা জায়গায় নিজেদের ওরা নিয়ে যেতে পারবে। তো এমন মানসিকতা নিয়ে কিন্তু দলের পারফরম্যান্স আশা করাটা খুব মুশকিল। আমার মনে হয় এটা... আমাদের দলের সেরা পারফরম্যান্স আমরা পাইনি বোধহয় এ কারণেই। ওই মানসিকতা নিয়ে যখন খেলে, তখন সবাই মিলে জয়ের জন্য খেলে, কিন্তু যখন সেটা থাকে না, তখন সেরা পারফরম্যান্সটা বের করে আনাটা খুবই কঠিন। এখানে খেলোয়াড়দেরও দোষ নয়। কারণ এমনভাবেই বিষয়টা করা হয়েছে, একটা বার্তা খুব পরিষ্কার যে, এখানে ভালো করতে পারলে জাতীয় দলের দুয়ার খুলে যাবে।’
সিনিয়রদের এশিয়া কাপে পাঠানোর কারণটা পরিষ্কার। ‘পারফর্ম করো, জাতীয় দলের দুয়ার খোলো’! সে বার্তার পর খেলোয়াড়রা কেমন করেছেন? বিশিষ্ট এই কোচের অভিমত, খারাপ না করলেও সিনিয়ররা আশা পূরণে ব্যর্থ। তার কথা, ‘খারাপ করেছে তা বলব না। কিন্তু আমার প্রত্যাশাটা তাদের কাছে আরও বেশি ছিল। ওদের যে অভিজ্ঞতা, তাতে ওদের ইমপ্যাক্টটা আরও বেশি হবে, এটাই তো আমরা আশা করি। সেটা যদি মেলায় পারফরম্যান্সের সঙ্গে, তাহলে আমাদের প্রত্যাশাটা পূরণ হয়নি বলব। ওরা খারাপ খেলেনি, তবে আমার প্রত্যাশাটা আরও অনেক বেশি ছিল।’
তবে এবারের আসর থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরছে বাংলাদেশ, তা মানতে নারাজ এই কোচ। বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানোর অন্যতম সারথি তানজিদ হোসেন তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব পারফর্ম করেছেন বেশ, সেটা চোখে পড়েছে তারও। ফাহিমের অভিমতÑ ‘যারা নতুন, যাদের অভিজ্ঞতা কম; তারা ভালো খেললে সেটা ভালো লাগে। এদের খেলা দেখে মনে হয়েছে, এই দলের কথা চিন্তা করেই খেলছে ওরা। এই মুহূর্তে ওদের অন্য কিছুর চিন্তাভাবনা কমই আছে। তো ওদের ভবিষ্যৎ যে ভালো, তার একটা ইঙ্গিত আমরা এখান থেকে পাই। এখানে ভালো খেলা মানেই যে ওখানে ভালো খেলা, তা নয়। কিন্তু এ পরীক্ষায় পাস করেছে এটা বলা যায়। এটা কিন্তু ওরা পরীক্ষা হিসেবে নেয়নি, আমার ধারণা ওরা এই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিল, এই টুর্নামেন্টটা ওরা জিততে চেয়েছিল। এদের মানসিকতা পুরোপুরি সে রকম ছিল। আমি বলব যে এটাই আমাদের প্রাপ্তি।’
বিশেষ করে জাতীয় দলের ওপেনিংয়ের ভাবনায় তানজিদকে রাখার পরামর্শও দিলেন এই কোচ। তার ভাষ্য, ‘ওপেনিংয়ের কথা যদি ভাবা হয়, তাহলে তানজিদ হোসেন তামিমকেও বিবেচনায় রাখা উচিত। সে পারফর্ম করে যাচ্ছে, এটা ভালো লক্ষণ। এটা মোটামুটি ভালো একটা টুর্নামেন্ট ছিল। তো তাকেও ভবিষ্যতের জন্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।’