প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ২১:২২ পিএম
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩ ২৩:০৩ পিএম
সিরিজের পুরস্কার বিতরণী শেষে সঞ্চালক ডাক দিলেন দুই দলের ক্রিকেটারদের। সিরিজ সমতায় শেষ হওয়ায় ট্রফি পাবে না নির্দিষ্ট কোনো দল। সঞ্চালক দুই দলকে একসঙ্গে মঞ্চে ডাকেন ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য। সেই সময় ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউর সঞ্চালককে উদ্দেশ করে বলে ওঠেন, ‘আম্পায়ারদেরকেও ডাকো।’ সঞ্চালক বিষয়টি বেশ ভালোভাবে সামাল দেওয়ায় ঘটনা বেশিদূর গড়ায়নি।
আরও পড়ুন - শিন প্যাড বিতর্কে রোনালদো
ফটোসেশনের পর দুই অধিনায়কের ট্রফি হাতে নিয়ে ছবি তোলার কথা ছিল। তবে দলীয় ফটোসেশনের পর দুই অধিনায়ক তাড়াহুড়ো করে হাঁটা দেন নিজ নিজ দলের ড্রেসিংরুমের দিকে। তখনই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ফটোসেশনের মধ্যেও দুই দলের মধ্যে বাজে কথাবার্তা চালাচালি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সেটা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। যদিও ভারতীয় দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা কিংবা হার্লিন দেওল অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে নেননি। উল্টো স্মৃতি মান্ধানা বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে লক্ষ করে কিছু বলেছে। আমার মনে হয় আম্পায়ারদের উদ্দেশে অল্প কিছু বলেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ছবি তোলা শেষ করে তাড়াহুড়ো ফেরার কারণ হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘কিছু কথা ছিল যেগুলো শুনে আমার মনে হয়নি ওখানে থাকা উচিত হবে দল নিয়ে। ক্রিকেট খুবই সম্মানের একটা জায়গা, শৃঙ্খলার জায়গা। সবচেয়ে বড় কথা এটা ভদ্রলোকের খেলা। আমার কাছে মনে হয় ওই পরিবেশ ছিল না, তাই দল নিয়ে চলে এসেছি।’
ভারতীয় অধিনায়কের আচরণ আরও ভালো হতে পারত, এমন মন্তব্য করে জ্যোতির ভাষ্য- ‘আমি এটা পুরোপুরি বলব- ও যেটা বলেছে সেটা ওরই (হারমানপ্রীত কাউর), সেটা আমাদের কোনো কিছু নয়। আমার মনে হয় ক্রিকেটার হিসেবে ও আরেকটু ভালো ও ভদ্রভাবে কথা বলতে পারত। যেটা আমার কাছে মনে হয় ও করেছে, ওর ব্যাপার। আমার এটা নিয়ে কথা বলা উচিত হবে না।’
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ছিল ভারতের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা স্মৃতি মান্ধানার কাছেও। তবে ঘটনাটির কোনো রেকর্ড না থাকায় সেটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি তিনি। বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটা রেকর্ড হয়েছে। তাই আমরা এটা নিয়ে কথা বলতে পারি না, যেটা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়নি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যা ঘটেছে সেটা পোস্ট ম্যাচের পর। সবকিছু অতীত হয়েছে। তাই আমি বলতে পারি, এটা নিয়ে আর কোনো কথা নয়।’
এর আগে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে আম্পায়ারিং নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানান ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত। তিনি বলেন, ‘যে ধরনের আম্পায়ারিং হয়েছে তাতে আমরা বিস্মিত। পরেরবার যখন বাংলাদেশে আসব, তখন এটা চিন্তা করেই আসব। সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করব।’ তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের আম্পায়ারিং নিয়ে নেই কোনো অভিযোগ, ‘আমরা সম্মান করেছি তাদের (আম্পায়ার) সিদ্ধান্ত। আমরা আউট হলে ওরকম (হারমানপ্রীতের লাথিকে মনে করিয়ে) করলাম না কেন। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সিদ্ধান্ত মানা উচিত। আউট হই বা না হই। যেগুলো রান আউট-ক্যাচ হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কী বলবেন তারা (ভারত দল)।’