প্রবা প্রতিবেদক, সিলেট থেকে
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১২:০৪ পিএম
আকাশে মেঘের ঘনঘটা। যেকোনো মুহূর্তে নামতে পারে বৃষ্টি। সিলেটের মাঠে এমন শঙ্কা ছিল বাংলাদেশের অনুশীলনের প্রতি মুহূর্তে। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন। বৃষ্টি শেষপর্যন্ত নামেনি। নির্বিঘ্নে পুরো অনুশীলন শেষ করে বাংলাদেশ। সেন্টার উইকেটের আগে ক্রিকেটাররা বড় বড় শট খেলার মহড়া দিলেন নেটে। রনি তালুকদার, তাওহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিশাল বিশাল শট গ্রিন গ্যালারির পাশে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখতে থাকা সাংবাদিকদের বেশ তটস্থ রাখে।
আরও পড়ুন : ‘ড্রেসিংরুমে আমার কখনও মনে হয় না সমস্যা ছিল কিংবা আছে’
বারবার বড় শটে বল যে আছড়ে পড়ছিল সাংবাদিকদের দাঁড়ানোর জায়গাতেই। কোনো কোনো বল অবশ্য ছিটকে পড়ে গ্যালারির একদম বাইরে। ম্যাচের আগের দিনের এই অনুশীলনই জানিয়ে দিচ্ছে আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলবেন তারা।
নেটের চেয়ে বড় শট খেলার প্রতিযোগিতাটা বেশি হয়েছে সেন্টার উইকেটে। পাওয়ার হিটিংয়ে বল বারবার সীমানা পার করানোর চেষ্টা ছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। মাঠে যেন ভুল না হয়, সেই চেষ্টাটাই ছিল সাকিব-শান্ত-আফিফদের মাঝে। সেন্টার উইকেটে পাওয়ার হিটিংয়ের ওই প্রস্তুতি শুরু সাকিবের হাত ধরে। কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে উইকেট দেখে বেশ খানিকক্ষণ আলাপ আলোচনা সেরে নেন। উইকেট দেখা শেষে সাকিব আল হাসান নেটে যাননি। তিনিই সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং শুরু করেন।
বল বারবার সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলার চেষ্টা ছিল তার মধ্যে। তার দেখাদেখি দলের অন্য ব্যাটাররাও একে একে আসেন সেন্টার উইকেটে। আফিফ হোসেন ধ্রুব, শামীম পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা একে একে আসেন ‘পাওয়ার হিটিং’ অনুশীলনে। বোঝাই যাচ্ছিল আফগানরা পেশিশক্তিতে বড় শটের যে সুবিধা পান, একই সুবিধা পেতে চান বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। পেশিশক্তিতে পারবেন না জেনে বোধহয় টেকনিক্যালি পাওয়ার হিটিংয়ে মহড়াটা দিয়ে নেন।
বাংলাদেশের অনুশীলন যে শুধু পাওয়ার হিটিংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল সেটা বলা যাবে না। নেটে দাঁড়িয়ে উইকেটের চারপাশে বড় শটের দিকেও মনোযোগ দেন। স্কোরবোর্ডে রান তুলতে যে উইকেটের চারপাশে শট খেলতে হবে। সেই দীক্ষাটা ম্যাচের আগে হয়তো আরও একবার ভালো করেই পেয়েছে বাংলাদেশি ব্যাটাররা। দিনশেষে ম্যাচে অনুশীলনের সঠিক প্রয়োগ ঘটলে সাফল্যটা হাতেনাতে ধরা দেবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ব্যাটারদের দিনে বোলাররাও পিছিয়ে ছিলেন না। নিয়েছেন নিজেদের সেরা প্রস্তুতিটা। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামরাও ভালো বোলিং করেছেন। বেশ কয়েকবারই ব্যাটারদের পরাস্ত করেছেন। ইয়র্কার বলে হাসান তো ব্যাটারদের স্টাম্প উপড়ান বেশ কয়েকবারই। তাতে বোঝা যাচ্ছিল, চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে দাপুটে বোলিংয়ের আত্মবিশ্বাস তাদের সঙ্গী হয়েছে। টি-টোয়েন্টি দলে নেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
সাকিবের পাশাপাশি তাই বাঁহাতি স্পিনে দায়িত্ব পালন করতে হবে নাসুম আহমেদকে। এ ছাড়াও টি-টোয়েন্টি দলে থাকা লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকেও দেখা যায় অনুশীলনে। দুজনই নিজের অস্ত্রে শান দেন। তবে রশিদ খানের ভয় রিশাদকে দিয়ে কাটবে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই একটি জায়গার অপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আজ আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই ম্যাচ।