পার্থ রায়, সিলেট থেকে
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১১:৫৮ এএম
টগবগে আত্মবিশ্বাস নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে এলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাফ জানিয়ে দিলেন পেছনের কাহিনী কি হয়েছে তা নিয়ে তিনি ভাবছেন না। লক্ষ্য একটাই, টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। নিজের খেলা, দলের খেলা, ড্রেসিংরুম পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান- সবকিছু নিয়ে বললেন অনেক কথা। সিলেটে অধিনায়ক সাকিবের এই সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছেন পার্থ রায়
আফগানিস্তানের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে
শেষ দুই হোম সিরিজে আমরা ভালো খেলেছি। এটা আমাদের জন্য নতুন একটা চ্যালেঞ্জ। আফগানিস্তান অবশ্যই খুবই ভালো দল। চেষ্টা থাকবে, আমরা যেভাবে আমাদের ক্রিকেটটা খেলছি, যেভাবে উন্নতি করছি, সেভাবে প্রতিটা ম্যাচে পারফর্ম করার জন্য। কোনো নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে চিন্তাও করছি না। কিংবা আমাদের দলও নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটার কিংবা বোলারের ওপর ভরসা করে না। আমরা চাই, আমরা দলগত পারফরম্যান্স করি, যেটার মাধ্যমে আমরা জয়লাভ করতে পারি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য একই রকম রাখার চেষ্টা করব।
আরও পড়ুন : এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের সেমিফাইনালে ইমরানুর
নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে পরিকল্পনা আছে কিনা?
যেটা আমি বললাম, কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটার নিয়ে কথাও বলিনি, চিন্তাও করিনি। আসলে ক্রিকেটাররা কোন কোন জায়গা থেকে উন্নতি করতে পারে, আমি নিশ্চিত তারা ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছে। এটা আসলে কাউকে বলার বিষয় না এবং করারও বিষয় না। এটা যে পরিস্থিতিতে আসবে তার দায়িত্ব সে কীভাবে দলের জন্য ভালো পারফর্ম করবে। আমি যেটা বললাম, টি-টোয়েন্টিতে মোমেন্টামটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কীভাবে শুরু করি খেলাটা সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় ম্যাচের ফলাফল ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে অনেক বেশি। তাই শুরু ভালো করাটা জরুরি সেটা আমরা ব্যাটিং করি বা বোলিং করি, যেটাই আমরা করি।
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ প্রসঙ্গে
আসলে দেখেন, বাইরে থেকে অনেক সময় অনেক কিছু মনে হতে পারে। ড্রেসিংরুমে আমার কখনও মনে হয় না সমস্যা ছিল কিংবা আছে। পরিবেশ তো আমি সবসময় মনে করি ভালো আছে। অবশ্যই ফলাফলের কারণে আপনারা সব সময় চিন্তা করবেন ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো না খারাপ। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না, জিতি বা হারি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ খুব একটা পরিবর্তন হয়। আমাদের এখন চেষ্টা থাকে সব সময় প্রতিদিন কীভাবে আমরা নিজেদেরকে উন্নতি করতে পারি এবং সেই হিসেবে দলের হয়ে পারফর্ম করতে পারি। দলের জন্য অবদান রাখতে পারি।
টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ
প্রতিটা সিরিজই কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি হয়। সব দলেরই সমান সুযোগ থাকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এখানে ছোট দল-বড় দল বলতে কোনো দল আছে বলে আমার মনে হয় না। যেকোনো দল যেকোনো দলকে হারানোর সক্ষমতা রাখে। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। এই চ্যালেঞ্জ আসলে উপভোগ করার বিষয়। প্রতিটা সময়ে নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা যখন ইংল্যান্ডের পর আয়ারল্যান্ড খেলছি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমরা ৩-০-তে সিরিজ জিতেছি, কিন্তু আয়ারল্যান্ডের কাছে একটা ম্যাচ হেরেছি। তো চ্যালেঞ্জ আসলে টি-টোয়েন্টিতে অনেক বেশি। চ্যালেঞ্জটাই আসলে এই ফরম্যাটকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং করেছে। আমাদের সামনে অবশ্যই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দুটি ম্যাচ আছে, কন্ডিশন খুব বেশি চিন্তা করছি না। এর কারণ, দুই দলের জন্য কন্ডিশন সবারই সমান। আমার কাছে মনে হয় না, আমরা ওই রকম দল আছি, কন্ডিশনের ফায়দা নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি অন্তত ওই রকম সামর্থ্য আছে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে ও যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারে। আমি দলের কাছে আশা করব, সবাই যেন ওই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। ওপেন মাইন্ডেড থাকে, দলের প্রয়োজনে যা যা করার সেটা যেন করে।
কেমন হবে সিলেটের উইকেট
আমার ধারণা কেউ উইকেট নিয়ে খুব বেশি কথাও বলেনি। আমি আর কোচ হয়তো একটু আলাপ করেছি। এ ছাড়া আমার ধারণা একজন ক্রিকেটারও উইকেটের কাছে গেছে কি না আমি জানি না। আমি যেটা বললাম, আমরা কন্ডিশন নিয়ে চিন্তিত না। অবশ্যই আফগানিস্তান বড় একটা দল। বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এটাই আসলে আমাদের ভালো এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ যদি চিন্তা করি, আমাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ ওদের বিপক্ষে খেলার। ওদের সম্পর্কে আরও বেশি জানার।
প্রতিপক্ষ নিয়ে পরিকল্পনা
আমার কাছে মনে হয়, আমরা দল হিসেবে তখনই ভালো খেলি যখন অন্য দলকে নিয়ে চিন্তা না করি। আমরা যখন ওপেন মাইন্ডেড থাকি, কীভাবে মেকাপ করা যায় সেভাবে চিন্তা করি এবং নিজের জায়গা থেকে কীভাবে ১০-২০ শতাংশ উন্নতি করতে পারি সেই চিন্তাগুলো করি। সেগুলো তখন পারফর্ম বেশি করে। আমরা তখনই একটু নার্ভাস থাকি বা অত ভালো পারফর্ম করতে পারি না, যখন আমরা কন্ডিশন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করি। অনেক বেশি অপনেন্ট নিয়ে চিন্তা করি। আমি মনে করি, ওই জিনিসটা নিয়ে যত কম চিন্তা করি, সেটাই ভালো।
একাদশ কেমন হবে
আমাদের নির্দেশনা থাকবে কোচ ও আমার তরফ থেকে সবাইকে প্রস্তুত থাকার জন্য। যেহেতু এমন একটা পরিস্থিতি, বৃষ্টি আসতে পারে। খেলা কমতে পারে। পাঁচ ওভার ম্যাচ হতে পারে, ১০ ওভারের হতে পারে, ১৫-১৮ ওভারের হতে পারে। আমাদের আসলে ওপেন থাকতে হবে। টসের আগ মুহূর্তেই আসলে আমরা নির্ধারণ করতে পারব, কত ওভারের ম্যাচ হচ্ছে। সেভাবে দল দাঁড় করাব।
সিরিজের লক্ষ্য
আমাদের দলে অবশ্যই লক্ষ্য দুটো ম্যাচই যেন জিততে পারি। যদিও খুব একটা সহজ হবে না। আমাদের আশা এটাই থাকবে।
সাকিবের ১৪ হাজার রান+৬০০ উইকেট
লক্ষ্য আসলে জানি না। এখন বিশ্বকাপ পর্যন্ত চেষ্টা করব, যত বেশি অবদান রাখতে পারি। তারপর পরের ধাপের পরিকল্পনা করতে পারব। যেকোনো মাইলস্টোন অনুপ্রাণিত করে। হলে তো নিজেরই ভালো লাগে। অনেক বেশি মোটিভেশন কাজ করে। শেষ পর্যন্ত কতটা ভালো লাগছে, সেটা হয়তো অবসরের পরই বোঝা যাবে। এখন আসলে বোঝাটা মুশকিল। আমি আসলে যেটা বলে থাকি, সব সময় অবদান রাখতে চাই।
নির্দিষ্ট কোনো মাইলস্টোন প্রসঙ্গে
না, ওই রকম কোনো নম্বর নাই, যেটা আমি চাই। তবে বিশ্বকাপে আসলে অবশ্যই চাই, বড় কোনো নম্বর আসুক।
পেসারদের রোটেশন প্রসঙ্গে
অবশ্যই খুবই ভালো যে আমাদের দুটো বিভাগই অনেক ভালো। বিশ্রাম দরকার মনে করি। সবাই অবদান রাখছে। ব্যাটাররা নিজেদের জায়গা থেকে, ফাস্ট বোলাররা-স্পিনাররা। সবাই যদি পারফর্ম না করে, তাহলে আপনার দলের বিপক্ষে পরিকল্পনা করাটা সহজ। আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে পরিকল্পনা করতে গেলে অত বেশি স্পিনিং উইকেটও দেবে না। পেস বোলারদের জন্য সুবিধাজনক উইকেটও দেবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক। রোটেশন পলিসি অবশ্যই জরুরি, কারণ আপনি অনেক আছে অনেক আবার নাই। দুজন ক্রিকেটার ইনজুরড হলে মনে হবে, বোলার নাই। তো সবাই যেন ফিট থাকে আমাদের যে ৪-৫ জন যারা জাতীয় দলের আছে। এটা অনেক জরুরি। আমাদের যদি জাতীয় দলের হয়ে কিছু এনে দিতে হয়, তাহলে শুধু পেসাররা না, আমাদের জন্য দলে থাকা সবার সুস্থ থাকা জরুরি।