প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৭:৩১ পিএম
পিএসজিতে চলমান অস্থিরতা যেন শেষ হওয়ার নয়। কদিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে বাদ পড়া ইস্যুতে দলের তারকা ফুটবলার মেসি-নেইমারের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় ক্লাবটির সমর্থকরা। এরপর ক্লাব ছেড়েছেন মেসি। ক্লাব ছাড়ার পথে আছেন নেইমারও। বদল আনা হয়েছে কোচিংয়েও। গালতিয়েরকে সরিয়ে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লুইস এনরিকে। তাতেও সমস্যা মিটছে না। ক্লাব ছাড়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ঘরের ছেলে কিলিয়ান এমবাপেও। চলতি মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চান তিনি। সেই জন্য পেয়েছেন ২০০ মিলিয়নের লোভনীয় প্রস্তাবও। তবে সেটি হতে দিতে চায় না পিএসজির মালিকপক্ষ। তাই নিয়েই বেধেছে ঝামেলা। এসবের জেরে পিএসজির ওপর জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এমবাপে। জানিয়েছেন, পিএসজিতে থেকে তার কোনো লাভই হচ্ছে না। বিভক্ত এক ক্লাব পিএসজি। তার এমন মন্তব্য অবশ্য সহজভাবে নিতে পারেননি ক্লাবটির মালিক নাসের আল খেলাইফি।
আরও পড়ুন - আরেকটা 'ভুটান ট্র্যাজেডি' চান না সালাউদ্দিন
সম্প্রতি ফ্রান্সের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন এমবাপে। পুরস্কারটি যেন নিজেরই বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই দেশের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন তিনি। সদ্য শেষ হওয়া কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে নিয়ে যান এমবাপে। অল্পের জন্য জিততে পারেননি শিরোপা। পিএসজির জার্সিতেও সবশেষ পাঁচ মৌসুমে টানা সেরা গোল স্কোরারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া সব পুরস্কারই জেতা হয়েছে তার। এত সাফল্যের পরও এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তার। বিষয়টি কীভাবে দেখেন এমবাপে, সেসব নিয়েই ছিল প্রশ্ন।
উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘লোকেরা কি আমার পারফরম্যান্সকে তুচ্ছ মনে করে? হয়তো হ্যাঁ, কিন্তু এজন্য আমি তাদের দোষ দিই না। ফ্রান্সে, লোকেরা আমাকে বড় হতে দেখেছে, তারা আমাকে সব সময় দেখছে, প্রতি সপ্তাহান্তে পিএসজিতে বা জাতীয় দলের হয়ে। সেখানে আমি বছরের পর বছর ধরে অনেক গোল করে আসছি। তাই মানুষের কাছে এটা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। আর এ কারণেই আমার পারফরম্যান্সকে তুচ্ছ করার জন্য আমি কখনও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিনি।’
‘আমি কখনও অভিযোগ করিনি যে, আমার পারফরম্যান্সকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। আমি নিজেও মেসি ও রোনালদো যা করেছে, সেগুলোকেও তাচ্ছিল্য করেছি। তবে আমরা একটি ভোগবাদী সমাজে বাস করি। যেখানে আপনি যা করেছেন, তা ভালো। কিন্তু আপনাকে আবার তা করে দেখাতে হবে। আমার মনে হয় পিএসজির হয়ে খেলায় এটি আমাকে খুব একটা সাহায্য করে না; কারণ তারা এমন একটি দল, যারা বিভক্ত; তারা এমন একটি ক্লাব, যারা বিভক্ত। আর অবশ্যই এটি গুঞ্জনকে আকর্ষণ করে, কিন্তু আমি পাত্তা দিই না। কারণ, আমি জানি আমি কী করি এবং কীভাবে করি।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির ব্যর্থতার বিষয়ে এমবাপে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে হলে পিএসজির কী করতে হবে তা আমি জানি না, এটা আমার জন্য কোনো প্রশ্ন নয়। আপনাকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে যারা দল বানায়, যারা স্কোয়াড সংগঠিত করে, যারা এই ক্লাবটি তৈরি করে। আমি শুধু আমার কাজটি যথাসাধ্য করার চেষ্টা করি। আমি টানা পাঁচ বছর লিগ ওয়ানের সর্বোচ্চ গোল করে সেরা খেলোয়াড় ছিলাম। অনেক কিছু আমাকে গর্বিত করে। প্রথমত, খেতাব জেতা অব্যাহত রাখা; যার জন্য আমরা খেলি। শিরোপা যা-ই হোক না কেন এটা সব সময়ই কঠিন।
এমবাপের এমন বক্তব্য ভালোভাবে নিতে পারেননি দলটির ছয় ফুটবলার। আরএমসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলে নতুন আসা দুজনসহ মোট ছয় পিএসজি খেলোয়াড় ক্লাবের সভাপতি নাসের আল খেলাইফির সঙ্গে দেখা করেছেন। এমবাপের মন্তব্যে তারা যে খুশি নন, সেটা বুঝিয়েছেন খেলাইফিকে। বিষয়টিকে ক্লাবের প্রতি অপমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ খেলাইফিও। পুরো বিষয়টিতে ক্লাব ও ক্লাব ফুটবলারদের প্রতি অসম্মানজনক বলছেন তিনি।