প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৬:৪৫ পিএম
সাফ যাত্রার আগেও আশার ফানুস ওড়ানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ ঠিকই তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, খেলেছে সেমিফাইনালে। তাতে প্রশংসার স্রোতে ভাসছেন ফুটবলাররা। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও ভাসালেন প্রশংসায়। তবে শেষে হুঁশিয়ারও করে দিলেন দলকে, কারণ সামনেই যে দলের জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব।
আরও পড়ুন : ব্যাটিং ব্যর্থতাই কি হারের কারণ?
হুঁশিয়ারির কারণও আছে বৈকি! ঘরপোড়া গরু যে সিঁদুরে মেঘেও ভয় পায়! ২০১৬ সালে বিশ্বকাপের প্রাক বাছাইপর্বে ভুটানের কাছে হেরেই যে টানা ১৬ মাসের নির্বাসনে চলে যেতে হয়েছিল দলকে। তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবার হোক, তা যে সভাপতি চান না- তা আর বলতে। সে কারণেই দারুণ খুশির সময়েও দলকে সতর্ক করে দিলেন তিনি।
গতকাল বাফুফে ভবনে সাফের পর প্রথমবারের সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। সেখানে নগদ অর্থও তুলে দেন খেলোয়াড়দের হাতে। সেখানেই তিনি বলেন, ‘আমার একটা ছোট্ট বার্তা আছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবরে আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে। এএফসির ম্যাচ আছে অক্টোবরে। আমরা যদি সেখানে হেরে যাই, তিন বছরের জন্য আমরা পিছিয়ে যাব। আমাদের হোম-অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে জিততেই হবে। তবে আগামী তিন বছর আমরা নিয়মিত খেলায় থাকতে পারব।’
সে ম্যাচগুলোতে জিততে হলে করণীয় কী, সেটাও বাতলে দিলেন সালাউদ্দিন। লিগ শেষ আর দুটো রাউন্ড পরেই। এরপর শুধু বসুন্ধরা আর আবাহনীরই স্রেফ ম্যাচ আছে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের দুই আসর এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এএফসি কাপে। সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত এ দুই দল বাদে কোনো ক্লাবেরই ম্যাচ নেই আর।
এই সময়েও খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও নিয়মিত অনুশীলনের আহ্বান করলেন সালাউদ্দিন। তার কথা, ‘আমি চাই আগামী তিন-চার মাস পুরো মনোযোগ দিয়ে তোমরা অনুশীলন করো। কোনো লেট নাইট পার্টি না, কোনো অ্যালকোহল না। পুরো মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করো। ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকো। ক্যারিয়ার শেষে এগুলোর জন্য অনেক সময় পরে থাকবে।’
এরপর কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের উদাহরণও টানেন তিনি। বলেন, ‘মাইকেল জর্ডান ফ্রি কিকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এরপরও প্রতিদিন অনুশীলন শেষে তিনি ১০০ ফ্রি কিক অনুশীলন করতেন। এক দিন তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়, সেখানেও তিনি ১০০টার মধ্যে ৯১টায় স্কোর করেন। এরপরও তিনি অনুশীলন বন্ধ করেননি। আমি চাই, তেমন নিবেদনটা তোমাদেরও হোক। তোমরাও নিয়মিত অনুশীলন করো। এটা ছাড়া উন্নতির আর কোনো উপায় নেই।’
তবে গতকাল তাকে এই কথা বলার উপলক্ষ এনে দিয়েছে সাফে দলের পারফরম্যান্স। কাজী সালাউদ্দিন তাতে সন্তুষ্টিই প্রকাশ করলেন। তার অভিমত, আগামী সাফ জয়ের মতো পর্যাপ্ত মনোবল আর রসদ তার দল পেয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। আমরা যে পথে আছি, আগামী বছর দুয়েকের মধ্যেই আমরা নিজেদের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে পাব। তবে আমি দলের খেলায় খুবই সন্তুষ্ট। দলের খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছে তারা ভালো ফুটবল খেলতে পারে। আমরা লড়াই করেছি। এটা আমাদের নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।’
সঙ্গে সমালোচকদেরও তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দেন তিনি। তার কথা, ‘দল যাওয়ার আগে অনেকেই অনেক কথা বলেছিল। কিন্তু আমি এই দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি তাদেরকে বলেছিলাম তোমরা ম্যাচ জিত-হার মাঠে যেয়ে হারো। খেলার আগে তোমরা হেরোও না, জিতও না। খেলার মাঠে যেয়ে ৯০ মিনিট নিজের সেরাটা দাও, এরপর দেখো কী ফলাফল হয়। তারা আমাকে যে কথা দিয়ে গিয়েছে, তারা তাদের কথা রেখেছে।’
সাফে দল যেমন পারফর্ম করেছে, তাতে বাংলাদেশ ইতিহাসের সম্ভাব্য সেরা দল বলতেও দ্বিধা নেই সালাউদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেই বলেছিলাম এটা বাংলাদেশের সম্ভাব্য সেরা দল। এটা নিয়ে অনেকে আমাকে টিটকারী করেছে, হাসাহাসি করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলাদেশ খেলতে যায় থাইল্যান্ডে। আমরা থাইল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিলাম। ওই দলের পরে এটাই সম্ভাব্য সেরা দল। এই দলের খেলা দেখার পরে সকলেই প্রশংসা করেছে।’
এমন এক দল নিয়ে বিশ্বকাপের প্রাক বাছাই পেরোতে না পারলে আফসোসটা কম হবে না। তাই হয়তো দলকে আগেভাগেই সতর্ক করে দিলেন বাফুফে সভাপতি।