প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৬:১৬ পিএম
বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ৪৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৯ উইকেটে ১৬৯ রান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানদের দেওয়া ৩৩১ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থামে ১৮৯ রানে। দুই ম্যাচেই খোলা চোখে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা সবার নজরে এসেছে। বছরজুড়ে ভালো ব্যাটিং করা বাংলাদেশ হুট করে এমন চুপসে গেল কেন? এক কথায় উত্তর হতে পারে, আফগানদের দারুণ বোলিং।
আরও পড়ুন : কবে রানে ফিরবেন আফিফ
বাংলাদেশের সাবেক পেসার তারেক আজিজ স্পষ্ট উত্তরে বলেছেন, ‘মস্তিষ্কের শতভাগ ব্যবহার ছিল আফগানদের।’ মূলত আফগান বোলারদের বল বুঝতে ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটাররা। যার প্রমাণ রান করতে না পেরে উইকেট হারিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যাওয়া।
আফগানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে খেলা নেমে আসে ৪৩ ওভারে। পুরো ইনিংস ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল স্পষ্টই বলেন, ‘শুরুর ১০ ওভার রান করা কঠিন হবে।’ শুরুর ১০ ওভার নয়, পুরো ইনিংসে রান করতে বেগ পেতে হয় বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ছিল টাইগার ক্রিকেটারদের একই দশা। কেন এমন হুমড়ি খেয়ে পড়া বাংলাদেশি ব্যাটারদের। এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক পেসার তারেক আজিজ বলেন, ‘মূলত আফগান বোলারদের ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি। ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই লাইনের সঙ্গে সুইংয়ে ভারসাম্য ঠিক রেখেছে। তাতেই মূলত আমাদের ব্যাটাররা পেছনে পড়েছে।’
কোচ সারোয়ার ইমরানও একই মত পোষণ করেন। তার মতে, প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহিম ছাড়া বাকিরা সবাই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘মুশফিকের আউটটা একটু কঠিন ছিল। কোন দিক দিয়ে বল ঢুকেছে সেটা বলাটা কঠিন ছিল। বাকিরা সবাই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে। মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার একদম ব্যর্থ।’ দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবালের ‘অবসর’ ইস্যু প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করেন। এই নিয়ে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে তামিমের ইস্যুটা একটু প্রভাব ফেলেছে। তবে দিনশেষে ওরা (আফগানিস্তান) ভালো বোলিং করেছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল।’
আফগানদের বোলিং নিয়ে সারোয়ার ইমরান বলেন- ‘রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও ফজলহক ফারুকি দারুণ বোলিং করেছে। আমাদের মধ্যে আগে থেকেই ওদেরকে নিয়ে ভয় কাজ করেছে। ওই ভয়ের কারণে আমরা নিজেদের ব্যাটিংয়ে শক্তির জায়গাটা ঠিক ধরে রাখতে পারিনি। শক্তির জায়গাটা ধরে রাখতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে রান করতে পারেনি।’ সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে তার পরামর্শ, প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তার করার। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য শুধু আফগান বোলারদের কৃতিত্ব দিতে নারাজ তিনি। সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘শুধু আফগান বোলারদের কৃতিত্ব দেওয়া যাবে না। আমরা নিজেদের সেরা ব্যাটিংটা করতে পারিনি। মনে হয়েছে, ওদের বোলারদের নাম শুনেই আমরা ভয় পেয়েছি। এই ভয়ই আমাদের হারের মূল কারণ।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন কোচ সোহেল ইসলাম। তিনি জানান, নিজেদের সেরাটা দিতে না পারায় ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য আফগান বোলারদের কৃতিত্ব দেন সোহেল। বলেন, ‘আমাদের ব্যাটাররা ঠিকঠাক নিজেদের কাজটা করতে পারেনি। করতে পারলে এই রকম হতো না।’ আয়ারল্যান্ড সিরিজের দারুণ ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি দেখা না যাওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের থেকে আফগান বোলাররা সব দিক থেকে অনেক এগিয়ে। আমরা মানসিকভাবেই হয়তো একটু পেছনে ছিলাম। যার প্রভাব পড়েছে মাঠে।’ হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াবে এমন বিশ্বাস রাখতে চান সোহেল, ‘আর একটা ওয়ানডে আছে। দেখা যাক কী হয়। আশাবাদী ওরা ঘুরে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আফগান বোলাররা বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলে। ওদের বোলিংকে ভালোভাবে খেলা উচিত ছিল।’ অন্যদিকে সাবেক পেসার তারেক আজিজ মনে করেন ঘুরে দাঁড়ানোটা একটু কঠিন হবে, ‘আফগানরা ভালো বল করছে। একটু কঠিন সময় যাবে।’