প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ০১:৪০ এএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩ ০১:৪৩ এএম
এই তো সাফ শুরুর আগেও বাংলাদেশকে নিয়ে বাজি ধরার লোক খুব একটা মিলছিল না। তবে সেই দলই শেষমেশ সাফের সেমিফাইনালে খেলেছে ১৪ বছর পর, একটু এদিক-ওদিক হলে খেলে ফেলতে পারত ফাইনালেও। গোটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মালদ্বীপ আর ভুটানের বিপক্ষে তুলে নিয়েছে দারুণ দুটো জয়, হেরে গেলেও লেবানন আর কুয়েতকে ছেড়ে কথা বলেনি।
আরও পড়ুন : নতুন জীবনে লুকা
অথচ গেল মার্চেও ঘরের মাটিতে সিশেলসের বিপক্ষে হারের দগদগে ঘা ছিল বাংলাদেশের স্মৃতিতে। সেখান থেকে সাফের সেমিফাইনাল! বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার পেছনের গল্পটা গতকাল শোনালেন সহকারী কোচ হাসান আল মামুন আর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
কোচ হাসান আল মামুন জানালেন, তিন কারণে এসেছে এই সাফল্য। প্রথমটা অতি অবশ্যই দলের প্রতি খেলোয়াড়দের নিবেদন। মামুনের কথা, ‘আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আমাদের এই দলটা শুরু থেকেই দেশের জন্য খেলতে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিল। তাদের নিবেদন ছিল তারা দেশের জন্য কিছু করবে। যার স্বপ্ন হাভিয়ের অনেক আগে দেখেছিল, স্কাউটিংয়ের সময় হাভিয়ের আমাকে বলেছিল, যে দলের প্রতি নিবেদিত খেলোয়াড়দের যেন আমরা স্কোয়াডে নেই। তাই হয়েছে।’
সঙ্গে ছিল অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেলও। দলে যেমন একাধিক খেলোয়াড় ছিলেন যাদের অনেকগুলো সাফের অভিজ্ঞতা আছে, তেমনি একেবারে আনকোরাদের সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না। এই মিশেলটা হয়েছে দারুণভাবে, অভিমত হাসানের। তার কথা, ‘আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটা স্কোয়াড গড়তে চেয়েছিলাম। আমরা অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে একটা দল গড়েছি, এটা আলহামদুলিল্লাহ কাজে দিয়েছে।’
এ সাফল্যে কোচদের ভূমিকাটাও দারুণ। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা প্রতি ম্যাচেই কৌশল বদলেছেন প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্য মাথায় রেখে। লেবানন ও কুয়েতের বিপক্ষে যেমন রক্ষণাত্মক খেলিয়েছেন দলকে, ঠিক তেমনি আক্রমণ করিয়েছেন মালদ্বীপ আর ভুটানের বিপক্ষে। এ ধারণাটা প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তর পড়াশোনারই ফল, অভিমত হাসানের।
তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে আমাদের পড়াশোনাটা ছিল চমৎকার। গত ফিফা উইন্ডোতে নেপালের সঙ্গে হেরেছি কিন্তু সেই সেপ্টেম্বর থেকেই আমরা আমাদের স্টাডি শুরু করেছি। আমাদের প্রত্যেকটা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে। এবং আমরা আমাদের শক্তি সম্পর্কে জানি। এই টুর্নামেন্টে আমরা আমাদের শক্তিটাকে ব্যবহার করেছি সর্বোচ্চ। এটাই আমাদের সাফল্যের কারণ।’
তবে বিশেষ একটা কারণও আছে। সে কারণটা জানালেন জামাল ভূঁইয়া। কাজী সালাউদ্দিন নিজে একটা পরামর্শ দিয়েছিলেন কোচ আর অধিনায়ককে। সে পরামর্শ মানতেই সাফল্য এসে ধরা দেয়, জানান জামাল।
তিনি বলেন, ‘সাফের আগে আমি আর কোচ গিয়েছিলাম সালাউদ্দিন ভাইয়ের বাসায়। সেখানে তিনি বলেছিলেন আমরা যেন দুই স্ট্রাইকার নিয়ে খেলি। কোচ একটু বিস্মিত হয়েছিলেন। এরপর কম্বোডিয়ায় খেললাম। লেবাননের বিপক্ষে হারের পর আমি নিজে কোচকে গিয়ে বলি, সালাউদ্দিন ভাইয়ের কথামতো দুই স্ট্রাইকার নিয়ে খেলা যায় নাকি! পরে আমরা দুই স্ট্রাইকার নিয়ে খেললাম, আর বাকিটা তো আপনারা দেখেছেনই।’