প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৩ ১০:০৬ এএম
বলা নেই, কওয়া নেই, বুধবার মাঝরাতে খবর এলো সংবাদকর্মীদের কাছে- সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তামিম ইকবাল। গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল তখনই। তবে সেটা শুধুই অধিনায়কত্ব ছাড়ার কিংবা ওয়ানডে ফরম্যাট ছেড়ে দেওয়ার। তবে এভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় বলে দেবেন, সেটা কে ভেবেছিল?
আরও পড়ুন : বাবার স্বপ্নপূরণেই ক্রিকেট খেলেছি, তবে...
সে অচিন্তনীয় কাজটাই করে বসেছেন তামিম ইকবাল। বলে দিয়েছেন ‘হে বন্ধু, বিদায়’। সংবাদ সম্মেলনে এ কথাটা বলতে গিয়ে তামিম কেঁদেছেন একাধিকবার, বলাটা যে সহজ কিছুও নয়! বিদায় জানাতে গিয়ে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার পথচলার সঙ্গীদের, সিদ্ধান্তের পটভূমিটাও ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন খানিকটা, ভবিষ্যতের জন্য ছিল অনুরোধও। আবেগি সে সংবাদ সম্মেলনে তামিম যা বলেছেন, তা তুলে ধরা হলো প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য-
সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বক্তব্যটা লিখে আনে মানুষজন, আমি ওরকমভাবে প্রস্তুত না, সারা জীবন ধরে আমার আমি কিছু বললে লিখে নিয়ে যাই। খুব বেশি বড় করব না।
গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমি আমার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা খেলে ফেলেছি। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনই অবসর নিয়ে নিচ্ছি। এটার পেছনে অকস্মাৎ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, আমি ভাবছিলাম। এর পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ আছে, যেটা আমি মনে করি না এখানে বলার দরকার আছে। হুট করে সিদ্ধান্ত নিইনি, বেশ কদিন ধরেই আমি ভাবছিলাম, আমার পরিবারের মানুষজনদের সঙ্গেও আমি সিদ্ধান্তটা নিয়ে আলাপ করেছিলাম। আমার মনে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য এটাই আমার জন্য ভালো সময়। জনগণকে ধন্যবাদ দিচ্ছি আমি, তাদের এটা প্রাপ্যও।
আমি সব সময় একটা কথা বলেছি, আমি খেলাটা খেলেছি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য। আমি জানি না ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আমি তাকে কতটা গর্বিত করতে পেরেছি। এখানে আরও অনেককে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন আমার। আমার সবচেয়ে ছোট চাচা, যিনি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন, আকবর খান, তার হাত ধরেই কিন্তু আমার ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্ট খেলা। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।
এমএ আজিজে তপন দা নামে একজন কোচ আছেন, যার কাছে আমি ছোটবেলা থেকে অনুশীলন করেছি, আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। সব পর্যায়ে যাদের সঙ্গে আমি খেলেছি, তাদের ধন্যবাদ জানাই। ক্রিকেট বোর্ড অবশ্যই, তারা আমাকে অনেক দিন ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সুযোগ দিয়েছে, অধিনায়কত্ব করার সুযোগ দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানাই।
আমার আসলে খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমি একটা কথাই বলব, আমি আমার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছি। সম্ভবত আমি ভালো ছিলাম না, আমি হয়তো ভালো খেলেছি, হয়তো নয়। কিন্তু আমি মাঠে সব সময় নিজের ১০০ ভাগ ঢেলে দিতে চেষ্টা করেছি।
আমি অনেক কিছু বলতে চাই আসলে। কিন্তু আপনারা দেখছেন, আমি কথাই বলতে পারছি না। কিন্তু আমি আশা করি আপনারা পরিস্থিতিটাকে সম্মান করবেন।
কথা বলার জন্য পরিস্থিতিটা সহজ নয় মোটেও। বিশেষ করে আমি যখন এত সময় ধরে খেলছি, এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছি, পরিস্থিতিটা সহজ নয় আদৌ। আমি আশা করি আপনারা বুঝবেন বিষয়টা। আমি দুঃখিত, আমি এত ছোট নোটিসে আপনাদের ডেকেছি। আপনাদের ধন্যবাদ।
একটাই অনুরোধ থাকবে, যারা সামনে ক্রিকেট খেলবে, ভালো খেলবে, খারাপ খেলবে লিখবেন আপনারা, কিন্তু শুধু ক্রিকেটেই থাকবেন, এই সীমানাটা পার করবেন না। ক্রিকেটের বাইরে কিছু করবেন না। ছেলেটা ভালো খেললে ভালো লিখবেন, ভালো না খেললে সমালোচনা করবেন, এটা ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে আমরা অনেক সময় সীমানা ছাড়িয়ে যাই। আপনাদের কাছে অনুরোধ, যারা এখন খেলছে, বিশ্বকাপের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বছর আমাদের জন্য, আশা করি আপনারা দলের সঙ্গে থাকবেন, এই দলের সদস্য হয়ে থাকবেন। এটাই আমার অনুরোধ, দলকে সমর্থন করবেন। আমি আবারও বলব, আমি আমার সেরা চেষ্টাটা করেছি, আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমি আবারও বলি, বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি খেলা শুরু করেছিলাম, জানি না কতটা পেরেছি।
আমি যদি কাউকে মিস করে গিয়ে থাকি, ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে উঠতে আমাকে সাহায্য করে থাকেন, অথবা মানুষ হিসেবে, আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমার মা, আমার ভাই, আমার স্ত্রী, আমার দুই সন্তান, আমার এই সফরে তারা অনেক ভুগেছে। একইভাবে আনন্দেরও অনেক কিছু ছিল। তো আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, এর চেয়ে বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।
আমি বলব আমার টপিকটা এখানেই শেষ করে দেন। এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার শেষ। এটা নিয়ে আর বেশি খোঁচাখুঁচি করবেন না। কেন, কী কী হতে পারত, এটা শেষ করে দেন এখানেই।
আমি বলেছি দল আর সবকিছুর চেয়ে বড়। দলে মনোযোগ দেই আমরা। দুই ম্যাচ এখনও বাকি, আমি মনে করি এখনও সিরিজটা জেতা সম্ভব। এরপর দুটো বড় শিরোপা সামনে আছে। আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ। আমার আর কিছু বলার নেই। আশা করছি আপনাদের সঙ্গে অন্য কোথাও দেখা হবে।