প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ০১:৩২ এএম
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না, সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি- ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক কিংবদন্তিদের বুঝি এখন রবীন্দ্রসংগীত শোনার সময় এসে গেল! কী একটা সময় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে। তারকায় ঠাসা একটা দল। বাকিদের কাছে অনুকরণীয়। প্রথম দুটি বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছে দলটি। হ্যাটট্রিকও হয়ে যেতে পারত। যদি না ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অঘটন ঘটাত কপিল দেবের ভারত। সেই দলটিই কি না আসন্ন ভারত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি- যা লজ্জায় ফেলেছে সাবেক কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিজ ও জোয়েল গার্নারকে।
আরও পড়ুন : দল নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ঘানির
বিশ্বকাপের ১৩তম আসরে এসে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের না থাকা নিয়ে গ্রিনিজ বলেন- ‘দেখা! আমি আজকাল খুব বেশি ক্রিকেট দেখি না, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেট। আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয় অনেক কষ্ট দিত কিন্তু এখন খুব একটা কষ্ট পাই না, যত বছর ধরে আমাদের মান পড়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া বিশ্বকাপ একেবারেই অকল্পনীয়। এই ব্যথা সহ্য করার শক্তি আমাদের নেই।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ওপেনার গার্নারও গ্রিনিজের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা ছিলাম এখন আর তা নই! আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলা অনেক গর্বের ছিল। এটা আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। এখন তরুণ খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি লিগের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তাদের কোনো দোষ নেই, কারণ সবাই নিরাপত্তার জন্য চারপাশে তাকায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মও খুব বেশি টাকা পায়নি; যা এসেছে তা মূলত কাউন্টি ক্রিকেট থেকে। কিন্তু এখন এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উপার্জনের অনেক উপায় রয়েছে। তাদের ব্যবহার হওয়ার জন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার গর্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। কেননা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না পাওয়াটা খুবই হতাশাজনক। আমাদের ক্রিকেটের উচ্চ উত্তরাধিকার বিবেচনা করে এটি সম্পূর্ণ হতাশাজনক। আমাদের সঠিক দল বাছাই করতে হবে, বড় টুর্নামেন্টের জন্য সেরা খেলোয়াড়ের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ম্যাচ অনুশীলন করতে হবে। এটি ভালো ক্রিকেটের নিশ্চয়তা দেয়। কেননা, আমরা যদি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী না হই তবে বড় দলগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী নাও হতে পারে।’