বিশ্লেষণ
ইয়ান বিশপ
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৩ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩ ১৮:০৫ পিএম
কঠিন একটা দিন আমাদের জন্য। কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকবে না। আমি বেশ ভালোভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থকদের অনুভূতির প্রতিধ্বনি অনুভব করতে পারছি। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা না হওয়ার ঘটনা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট কোথায় রয়েছে- এটি তারই শ্বাসরুদ্ধকর বাস্তবতা। এখন সহযোগী দেশগুলোও আমাদের বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হারাচ্ছে। তাই অবিলম্বে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন - প্রধানমন্ত্রীকে জার্সি উপহার দিলেন মার্টিনেজ
আমি জানি অনেক প্রতিভা আমাদের আছে, তারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য, এখন তাদের নিজেকে প্রকাশ করার সময়। দলেরও তাদের প্রয়োজন। আমি জানি ক্যারিবীয় অঞ্চলে কিছু নিজস্ব আত্মদর্শন রয়েছে। কিন্তু এটা বুঝতে হবে ১২তম দল হতে আমরা আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে। তাই প্রতিনিধিত্ব যেখানে করা দরকার সেখানে ফিরে যেতে আমাদের বোর্ডের সমস্ত সহায়তার প্রয়োজন।
সব দলেই এমন কিছু খেলোয়াড় থাকে- যারা আসলে দলের সঙ্গে নেই। বিশ্বজুড়ে এতসব ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের কারণে ক্রিকেটের ল্যান্ডস্কেপ এখন সত্যিই খুব কঠিন। তারা সেখানে যাচ্ছে আসছে। এদিকে আপনি আপনার ক্রিকেটার সম্পদে টান অনুভব করছেন; যা মোটেও সহজ নয়। আর সব প্রশ্নের উত্তরও আমার জানা নেই। তবে আপনাকে আরও সুনির্দিষ্ট হতে হবে। প্রতিভা শনাক্তকরণ, সংগ্রহ ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। যা একটি চ্যালেঞ্জ। আমি এখনও তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে জেডেন সিলস, অ্যালিক অ্যাথানাজে ও কেভিন উইকহ্যামকে দেখতে পাই। কিন্তু দেখার বিষয় সেটি, আপনি কীভাবে তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন। তাদের ধরে রাখাটাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ। এখন আগের চেয়ে আরও ভালো পিচ, আরও ভালো পরিকাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এই জিনিসগুলো আরও দ্রুত করা দরকার।
আমাদের সময় আর এখনকার সময় এক নয়। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইনস ও ক্লাইভ লয়েডকে যা অনুপ্রাণিত করেছিল, আজকের বিশ্বায়ন তা একরকম নষ্ট করে দিয়েছে। তাই অনুপ্রেরণা এখন ভিন্ন জিনিস। যদিও আমি তা গ্রহণ করি। যদি এটি আর্থিক ও অর্থনৈতিক কারণে হয়, তবে আমাদের সেই প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করতে হবে, যেখানে খেলোয়াড়রা সেই দিকে অভিকর্ষণ করে। আমি বলব না ৬০ ও ৭০-এর দশকের খেলোয়াড়দের যে টান স্পষ্ট ছিল তা ২০০০-এর দশকে একই হওয়া উচিত। তাই আমাদের চিহ্নিত করতে হবে ক্রিকেটারদের ভেতরে লুক্কায়িত আকাঙ্ক্ষাগুলো কী। সেগুলো নিশ্চয় প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য আলাদা আর সেই ইচ্ছাগুলো নিয়েই কাজ করতে হবে। আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলেছি, তাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার ইচ্ছা আছে, কিন্তু ততটা নেই যে ক্যালিবার অতীতে ক্রিকেটারদের থেকে বের হয়েছে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জাতি রয়েছে। তাদের বিকশিত হওয়ার নিজস্ব ভিত্তি রয়েছে। তাই এটি একত্রিত করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। গত এক দুই দশক ধরে আমরা সেটিই লক্ষ্য করছি। ভগ্নাংশগুলো আর কাজ করছে না। এদিকে অ্যাসোসিয়েট দলগুলো অনেক ভালো করছে। তারা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে ভয় পায় না। তাহলে কীভাবে আমরা একত্রিত হব। আরও ভালো কোচ ও কোচিং টিউটর তৈরি করব? আমরা কীভাবে ক্যারিবিয়ানে আরও বেশি পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজি সিস্টেম তৈরি করব, টি-টোয়েন্টি হোক বা রেড-বল ক্রিকেট এবং সবাইকে একই দিকে টানতে হবে। আমাদের এখন এটাই দরকার। কিছু লোক বলে ক্যারিবিয়ান ত্রিনিদাদ বা জ্যামাইকার জন্য একা কাজ করবে। আমার কাছে, এটি একটি প্রাসঙ্গিক ধারণা নয়।
আমরা অধিনায়ক ও কোচ পরিবর্তন করেছি। আমাদের এখন দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমর্থন ও সময় দিতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে আমরা তাদের যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছি। উদাহরণস্বরূপ, জিম্বাবুয়ে ন্যূনতম খেলার সংস্থান নিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন তাদের দিকে মনোনিবেশ করতে পারবে না? আমাদের সকলকে, যাদের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অতীত সম্পর্ক রয়েছে, তাদের আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে এবং নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, ‘আমরা কতটুকু ভালো করতে পারতাম এবং এখন আমরা কী করতে পারি?’
লেখক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার