প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম
মাশরাফি কন্যার সেলফিতে মার্টিনেজ। ছবি : ফেসবুক
এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে দেখা করতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নেক্সট ভেঞ্চার কার্যালয়ে ঠিক সময়েই গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন মাশরাফি মর্তুজা। দেখাও পেয়েছিলেন, তবে খুব অল্প সময়ের জন্য বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে কাছে পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। সেই অনুভূতিই তিনি জানিয়েছেন ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে। মাশরাফি স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের পতাকা নিয়েও একদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের উল্লাসে মেতে ওঠার।
আর্জেন্টিনা ফুটবলের পাঁড়-ভক্ত মাশরাফি এমিকে দেখার ঘটনাটি স্ববিস্তারে বর্ণনা করেছেন, ‘এমিকে ভালো লাগার শুরু কোপা আমেরিকা থেকেই, যেখানে সে টাইব্রেকারে দুটি গোল আটকে দিয়ে দলকে জয় এনে দিল। কত বছর পর বড় কোনো শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা! লিওনেল মেসিও পেল দেশের হয়ে প্রথম বড় ট্রফির স্বাদ। স্বাভাবিকভাবেই পাখির চোখে তাকিয়ে ছিলাম বিশ্বকাপের দিকে। কিন্তু সৌদি আরবের সাথে হেরে মনে হয়েছিল, আরেকটি বিশ্বকাপও হয়তো শেষ হবে হতাশায়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং পরে বিশ্বকাপ জয় দেখতে পারাটা ছিল অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মতো।
সেই জয়ের অন্যতম নায়ক এমির সঙ্গে দেখা হলো আমাদের এই ঢাকায়। খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা, কিন্তু দারুণ এক অনুভূতি। বিশ্বকাপজয়ী দলের গোলকিপার চোখের সামনে! সে তো জানে না, আমার এবং আমার মতো আরও কত কোটি মানুষের কত বছরের অপেক্ষা শেষ হলো, যেদিন তার ওই হাত ধরেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করল!
আরও পড়ুন:
আজকে সে ইন্টারভিউয়ের মাঝেই একবার ট্রাউজার উঠিয়ে দেখাল, পায়ের ঠিক সেই জায়গায় একটি ট্যাটু করিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ বাঁশির ১৮ সেকেন্ড আগে কোলো মুয়ানির শটটি আটকিয়ে দিয়েছিল যে জায়গা দিয়ে। এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, আসলে বিশ্বকাপটা তো ওখানেই জিতে নিয়েছে।
আজকে আসলে বেশি ভালো লাগছে আমার সন্তানদের জন্য। যখন বললাম, ‘এমি আসছে, তোমাদের কি দেখা করার ইচ্ছা আছে?’ ওরা লাফাচ্ছিল। সবশেষ দুটি দিন ওরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিল না এমিকে দেখবে বলে। আজকে এমির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বললাম, ‘বাচ্চারা তোমার অটোগ্রাফ নিতে চায়।’ সে এত আন্তরিকতা দেখাল, এক কথায় অসাধারণ। এমনকি সে ছবিও তুলে দিল ওদের সঙ্গে। এখন তারা মহাখুশি, আর ওদের খুশিতে আমিও এখন মহাখুশি।
এমি, আপনাকে স্বাগত এই বাংলার মাটিতে। এখানে আপনাদের অগুনতি ভক্ত আছে, যুগ যুগ ধরে। আশা করি, আপনারও ভালো লাগছে এই মাটিতে পা রেখে।
পাশাপাশি এটাও ভাবি, সত্যি বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ালিফাই করবে আর আমরা আমাদের পতাকা নিয়ে মিছিল করব, ইনশাআল্লাহ। অনেকের কাছে এখন এটা অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, কাজটা কঠিন, খুব কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। স্বপ্ন পূরণের সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি, ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের পা পড়েছে মূলত এ দেশে আর্জেন্টিনা ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার কারণেই। তাকে উপমহাদেশে আনার উদ্যোগ যার, সেই শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মার্টিনেজ নিজে থেকেই চাইছিলেন আসতে। ডলার সংকটের কারণে শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বিষয়টা। যদিও শেষমেশ তিনি আসছেন, তবে সংক্ষিপ্ত সফরে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তবেই তিনি ঢাকা ছাড়বেন। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার কথা তার।