প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ০০:১১ এএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩ ০০:১২ এএম
হংকংয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে হাতছাড়া হয়েছে শিরোপা। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙেছে ব্যাটিং লাইনআপ। নিজেরা ভেঙে পড়লেও ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে পারেনি। কম রানে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কৃতিত্ব পেতে পারেন স্পিনাররা। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় ১২৮ রান ছিল না বড় কোনো লক্ষ্য।
আরও পড়ুন : দলীয় ঐক্যে জোর
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করলে তো সেটা নয়ই। কারণ, ভারতীয় দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা কোনো ক্রিকেটার ছিলেন না। বাংলাদেশ দলে একমাত্র সাথী রানী ছাড়া সবারই ছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। ফাইনালে কাজে লাগেনি ওই অভিজ্ঞতা, ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হারিয়ে ফিরেছে দেশে।
ইমার্জিং এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক লতা মন্ডল স্পষ্ট বলেন, ‘কোনো লক্ষ্য নেই। ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।’ দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট ছিল অধিনায়কের মধ্যে। তবু প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে হারায়। অবশ্য সেখানে বিদ্যমান ছিল ছোট ও বড় দলের পার্থক্য। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে বৃষ্টির বাগড়া। মাঠে গড়ায়নি একটি বলও। বড় জয়ে পাওয়া পূর্ণ পয়েন্টের সঙ্গে বৃষ্টির আশীর্বাদে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
লতার দলের সামনে ইমার্জিং এশিয়া কাপে প্রথম বড় ম্যাচ সেমিফাইনালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও ছিল বৃষ্টির বাধা। ১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশ শেষমেশ ৫৯ রানে থামে। খেলা অবশ্য কার্টেল ওভারে নেমে এসেছিল ৯ ওভারে। ৬০ রানের ওই লক্ষ্য টপকাতে ব্যর্থ পাকিস্তান। নির্ধারিত ৯ ওভারে থামে ৫৩ রানে। ওই রান তুলতে ৪ উইকেট হারায়। যার তিন উইকেট নিজেদের করে নেন স্পিনাররা।
টুর্নামেন্টের খেলা দুই ম্যাচে স্পিনাররা যেভাবে দাপুটে ছিলেন। সেটা চমকে দেওয়ার মতো। ফাইনালেও নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেন। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি না হওয়ায় ভারতের বিপক্ষে একেবারে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। মূলত ভারতীয় দুই স্পিনার মান্নাত কশ্যপ ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের বলে খেই হারায়।
বৃষ্টির কারণে ভারতের পরিকল্পনায় ছিল স্পিন আক্রমণ। মান্নাত কশ্যপ একপ্রান্ত দিয়ে চেপে ধরেন বাংলাদেশকে। অন্য প্রান্তে ওই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে উইকেট নেন শ্রেয়াঙ্কা। ৪ ওভারে ১৩ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। যদিও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন না তিনি। বাংলাদেশি স্পিনারদের সামলে দলের শতরানের কোটা পার করিয়ে কণিকা আহুজা পান ফাইনাল সেরার পুরস্কার। তার ব্যাটে আসে ৩০ রান। আহুজার গড়া ভিতে ফাইনালের পার্শ্ব চরিত্রে ছিলেন মান্নাত। ৪ ওভারে ২০ রানে তার শিকার ছিল ৩ উইকেট।
হংকংয়ের মিশন রোড মাঠের উইকেট ছিল শুধুই স্পিনময়। ফলে শিরোপা জিততে স্পিনকেই মূল ভরসা রাখে ফাইনালিস্ট দুই দল। স্পিনের ওই ভয় কাটাতে ব্যর্থ হয়ে শিরোপা জিততেও ব্যর্থ বাংলাদেশ। দলের শিরোপা জয়ের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সদ্য নির্বাচকের দায়িত্ব পাওয়া সাজ্জাদ আহমেদ শিপন বলেন, ‘তাড়াহুড়ো বেশি করেছে মনে হয়েছে। আর ওরা শিখছে।’ স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাটিং দুর্বল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শিপনের ভাষ্য, ‘ওরা সবাই ইমার্জিং দলের। এখনই আসলে সব পারবে না। ধীরে ধীরে উন্নতি করবে ওরা। ওই পথেই দল হাঁটছে।’ তবে দিন শেষে এটাও স্বীকার করেন, স্পিনের বিপক্ষে আরও ভালো খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।