অ্যাশেজ সিরিজ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ১৭:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম
এজবাস্টন টেস্টের ফয়সালা যখন হয়ে গেল তখন থেকেই আলোচনায় ইংলিশদের ‘বাজবল তত্ত্ব’। ‘আলোচনা’ না বলে শব্দটিকে ‘সমালোচনা’ বলা যুৎসই বটে! বার্মিংহামে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারানো প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া যেন মোক্ষম জবাবটাই দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমেও চলছে তুলোধুনো, মুণ্ডুপাত করা হচ্ছে স্টোকসের। বাজবলের স্টোকস বনে গেছেন ভিলেন, কারও কাছে ‘ইগো বেশি’, কেউবা দেখছেন ‘বোকামি’। সংখ্যাটি নেহাত কম হলেও কারও মতে, স্টোকস সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন একজন সাহসী অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু হেরে গেলে কথা তো উঠবেই- স্টোকসও সমালোচিত হচ্ছেন। বিশেষ করে বাজবল তত্ত্ব নিয়েই যত ক্ষোভ। অভিযোগের তীক্ষ্ণ আঙুলটাও ইংল্যান্ডের সাদা পোশাকের অধিনায়কের দিকে।
আরও পড়ুন - মায়ের চাওয়ামতো রিয়ালেই যাবেন এমবাপে!
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হোসেইন স্রেফ বিরক্ত বাজবল ইস্যুতে। ইংলিশ কিংবদন্তি ধারাভাষ্যে বলেছেন, ‘ভুলে যেও না ২০০১ সাল থেকে এখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আসছি আমরা। আমাদের কোনো বাজবল প্রয়োজন পড়েনি। আমরা পুরোনো পদ্ধতিতেই জিতে এসেছি। অস্ট্রেলিয়া আমাদের বিপক্ষে সব অর্থেই বুঝিয়ে দিয়েছে ওরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’ ২০০৫ অ্যাশেজজয়ী ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে জোর দিয়ে বলেছেন, পরের টেস্টেই একইরকম পরিস্থিতি থাকলে ইনিংস ঘোষণা করবেন না স্টোকস। সাবেক-বর্তমান-বিশেষজ্ঞ হয়ে প্রায় সবার যেন একটাই আক্ষেপ, প্রথম ইনিংস বড় করা যেত, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বড় লক্ষ আনা যেত- যদি না স্টোকস ইনিংস ঘোষণা করে দিতেন। এটাই যেন স্টোকসের বড় ভুল, আর তাতেই এসেছে এজবাস্টনে হার। ফল পাঁচ ম্যাচের মর্যাদার সিরিজে প্রথম ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েছে স্বাগতিক দল।
বার্মিংহামে পরাজয় নিয়ে কথা কম হচ্ছে না, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর টার্গেট যেন মূলত স্টোকস ও বাজবল। অথচ শেষ বছরে ইংলিশদের সবচেয়ে বেশি সফলতা এনে দিয়েছে এমন আক্রমণাত্মক টেস্ট খেলার ধরন। তবে অ্যাশেজে হারের পর কোনো কিছুই ধোপে টিকছে না। ইংলিশ দৈনিক ডেইলি স্টারে লেখা হয়েছে, ‘প্রকৃত অর্থেই বাজবলে লাথি পড়ল।’ মিররের শিরোনাম, ‘বাজবল ০, অজিবল ১’। বাজবল নিয়ে খোঁচার কমতি নেই এই দুদিনে। তবে নিজেদের আক্রমণাত্মক খেলা থেকে পেছনে সরতে নারাজ স্টোকস।
সাদা পোশাকে ইংলিশরা যখন ধুঁকছে তখন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম-বেন স্টোকস জুটি বাঁধলেন, সাফল্যের মুখও দেখল দল। শেষ ১৭টির মধ্যে ১২টি টেস্টই জিতেছে তারা। রান তাড়ায় ঝুঁকি নিয়েও জেতার চেষ্টা করেছেন বেন স্টোকসরা। গত এক বছরে কোনো সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড। সেই ধারায় খেলে এজবাস্টনে প্রথম দিন ৩৯৩ রানে থাকাবস্থাতেই ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন স্টোকস। তখনও ব্যাটে ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান জো রুট। ৮ উইকেট হারালেও ইংল্যান্ড তখন চাইলেই তাদের সংগ্রহ আরও বাড়িয়ে নিতে পারত। কিন্তু সেটি না করে হুট করে স্টোকসের ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। তবে এই বিষয়ে অনড় ইংল্যান্ড অধিনায়ক। গত এক বছরে ‘বাজবল’ ক্রিকেটের জমানায় এ রকম ইনিংস ঘোষণা আগেও দিয়েছেন স্টোকস। এবারেরটি তাই বিশাল কোনো বিস্ময় হয়ে আসেনি। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কদের বেশ কজনই টেস্ট চলার সময় বলেছেন, তারা নেতৃত্বে থাকলে এ রকম কিছু করতেন না।
কিন্তু কোনো ধরনের আক্ষেপ নেই স্টোকসের, তিনি বরং পরেরবার এমনটি আবারও করবেন, ‘যেভাবে আমি ক্রিকেট খেলে চলেছি, স্রেফ অ্যাশেজ বলেই সেই ধরন তো পাল্টে ফেলতে পারি না। হয়তো সেদিন আমরা বাড়তি আরও ৪০ রান করতে পারতাম… কিংবা ওদের দুটি উইকেট নিতে পারতাম। ‘যদি-কিন্তু’ নিয়ে ভাবনায় প্রভাবিত হওয়ার মতো অধিনায়ক আমি নই। অস্ট্রেলিয়াকে নাড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুরুটা চূড়ায় থেকে করার সুযোগ হিসেবেই আমরা এটিকে দেখছিলাম।’ পরেরবার এমন অবস্থা হলে সেবারও বাজবল তত্ত্ব মেনে ইনিংস ঘোষণা করবেন স্টোকস, ‘অবশ্যই ইনিংস ঘোষণা করব। বিশেষ করে, যদি জিমি (অ্যান্ডারসন) বাকি থাকে ব্যাটিংয়ের জন্য! ২০ মিনিট বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ৩৯৮ রান থাকলে ভালোই লাগবে ইনিংস ঘোষণা করতে।’
আলোচনা-সমালোচনা এবং হারের ক্ষত সারিয়ে স্টোকসদের চোখ এখন স্রেফ লর্ডস টেস্টে। ২৮ জুন থেকে লন্ডনে শুরু হওয়া সিরিজে ফেরার প্রত্যয় রাখছে বাজবল তত্ত্বে খেলা ইংল্যান্ড।