× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্লেষণ

সাকিব-তামিমের অভাব বুঝতে দেয়নি এই দল

নাজমুল আবেদীন ফাহিম

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১২:২২ পিএম

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩ ১৭:০৬ পিএম

সাকিব-তামিমের অভাব বুঝতে দেয়নি এই দল

অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।

সব দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ও শঙ্কা পাশ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা জিতে গেলাম এবং খুব সহজেই সেটি হলো। স্কোরকার্ড দেখলেই দুই দলের মধ্যকার যোজন যোজন পার্থক্যের ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অথচ আমাদের ভাবনায় ছিল আফগানিস্তান শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াবে এবং আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত বিজয়টিকে কঠিন করে তুলবে। হয়তো চার বছর আগে প্রথমবারের মতো টেস্টে মুখোমুখি হওয়ার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এমন ভাবনা। 

আরও পড়ুন : ‘এটা জয়ের চেয়েও বড় কিছু’

আমরা যে আফগানিস্তানের কাতারের দল নই তা শুধু বিশ্বের কাছেই নয়, নিজেদের কাছেও প্রমাণ করা জরুরি ছিল এবং আমাদের দল খুব ভালোভাবেই সেটি করেছে। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজয়ও বটে। সাদা বলের খেলায় বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ওরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে, ভবিষ্যতে এই চাপ নিয়ে ওদের মুখোমুখি আমাদের হয়তো আর হতে হবে না। এটিও একটি বড় অর্জন। 

আফগানিস্তান প্রায় কিছুই নিয়ে যেতে পারল না এই টেস্ট থেকে। নিজাত মাসুদের পাঁচ উইকেট বোধহয় তাদের একমাত্র সান্ত্বনা। এ ছাড়া দুই-তিনটি ব্যাটিং ইনিংস যা খুব একটা উল্লেখ করার মতো নয়। তাদের হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতার সঙ্গে পরিচয় ছিল না কিন্তু চাপের মুখে অন্য এক আফগানিস্তানকে দেখলাম। টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট অভিজ্ঞ জহির খানের বোলিং দেখে কিছুটা আশাহতও হলাম। ভালো স্পিন বোলিং দিয়ে আমাদের কিছুটা হলেও ঘায়েল করার সুযোগ ওদের ছিল। তা যে তারা মোটেই করতে পারেনি, দুই ইনিংসে স্পিনারদের ৬৫ ওভারে মাত্র ১টি মেডেন এই কথার যথার্থতা প্রমাণ করে।  

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল একেবারে হাতে তৈরি স্ক্রিপ্টের মতো। প্রথম ইনিংসের শেষদিকে এসে দ্রুত পাঁচ উইকেট হারানোর ব্যাপারটি বাদ দিলে আর কোনো ব্যাপারেই কোনো ধরনের অতৃপ্তি থাকার কথা নয়। ম্যাচের প্রথম সেশন থেকেই কর্তৃত্ব বজায় রেখে প্রত্যেক বোলার ও ব্যাটারকে দিয়ে পারফর্ম করিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে অফ ফর্মে থাকা মুমিনুলের সেঞ্চুরি, ইনজুরি থেকে ফিরে আসা তাসকিনের প্রথম ইনিংসের ঢিলেঢালা বোলিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মোটামুটি স্বরূপে ফিরে আসা, তা ছাড়া শরিফুলের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংÑ এর সবই যেমনটি কাঙ্ক্ষিত ছিল তেমনই হয়েছে।

তবে এই প্রথম স্পিনারদের দেখলাম অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো। যেন নেহাত দলে আছে বলেই মাঝে মাঝে তাদের বোলিংয়ের সুযোগ দেওয়া। সোজা আঘাত হানা বলের ওপর মিরাজের ভালোই দখল এসেছে বলে মনে হলো। এটি সাদা বলের খেলায় বেশ কাজে আসবে। ঘরের মাটিতে স্পিনারদের দিয়ে এত কম বল করানো, এটিও একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।

শান্ত এখন শুধু রান করার ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক তা নয়, ওর একটা প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে। শান্ত এখন সুনির্দিষ্টভাবে জানে কোন বলটি কীভাবে মোকাবিলা করবে। বারবার একই ধরনের সাড়া দিয়ে পুরো ব্যাপারটা ওর মুখস্থ হয়ে যাচ্ছে। এটি সবার ক্ষেত্রে কিন্তু হচ্ছে না, যা ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শান্তকে এখন শুধু ঠিক করতে হবে ও দেশের সেরা খেলোয়াড় হতে চায় না বিশ্বের সেরা বা অন্যতম সেরা। এই ক্ষুধাটাই ঠিক করে দেবে শান্ত কতদূর যেতে পারবে।

প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও খুব স্বাচ্ছন্দ্যে খেলছিল বলে মনে হচ্ছিল না মুমিনুলকে। কিন্তু একটা পর্যায় এসে অনেক দিন পর সেই আগের মুমিনুলকে দেখলাম। সময় পাচ্ছিল, অতি আক্রমণাত্মক মনে হচ্ছিল না অথচ রানের চাকা ঠিকই সচল রাখছিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিল। যেকোনো ফরম্যাটেই ইতিবাচক থাকা জরুরি কিন্তু ফরম্যাট অনুযায়ী এর যথাযথ অনুবাদ হওয়া এবং সেই অনুযায়ী নিয়মনিষ্ঠ থাকা আরও বেশি জরুরি। লম্বা সময় রান না করলে চিন্তাভাবনাগুলোও তালগোল পাকিয়ে যায়। এই ইনিংস মুমিনুলকে আবার স্বমহিমায় ফিরতে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করি।

আগের দ্রুত এবং কথাকথিত আক্রমণাত্মক রানআপের তুলনায় ইবাদতের এখনকার সহজ এবং মসৃণ রানআপ দেখে ভালো লেগেছে। আয়েশি রানআপ দেখে হয়তো ধারণাই করা যায় না ব্যাটারের দিকে কী ধেয়ে আসছে। শুধু বলের ওপরই নয়, নিজের আবেগের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণটিও চোখে পড়ার মতো, যেটির এক সময় অভাব ছিল। ব্যাটারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে সময় বুঝে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করা, না হলে আবার নতুন করে পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু করা। এই সবকিছু মিলিয়ে তাকে খুব সংগঠিত মনে হচ্ছে।

উইকেটের অসম বাউন্স আমরা কাজে লাগিয়েছি ঠিকই কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রবণতা কারও মধ্যে দেখিনি। এটি ভালো লক্ষণ। প্রত্যেক বোলারের মধ্যেই একটি প্ল্যান অনুসরণ করার চেষ্টা দেখেছি। আন্দাজের ওপর কেউ কিছু করেনি, যা করছে জেনেশুনেই করছে। এমন হলে নিজেদের মূল্যায়ন করাটাও সহজ হয়, যা অত্যন্ত জরুরি। তাসকিনকে এত নো বল করতে দেখিনি। বিষয়টি নিশ্চয় বোলিং কোচের চোখে এড়িয়ে যায়নি।

রিভার্স সুইপের ওপর লিটনের দখলও চোখে পড়েছে। আমি নিশ্চিত শুধু এই কারণেই সাদা বলের ক্রিকেটে ও আরও বেশি কার্যকরী হয়ে উঠবে। এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি শট, যদি জানা থাকে কীভাবে খেলতে হয়। আশা করব প্রত্যেকেই এই স্ট্রোকে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করার চেষ্টা করবে। জয় এবং জাকির দুজনই নিজেদের যোগ্যতা মোটামুটি প্রমাণ করেছে। তবে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। উপদেশ রইল ওরা যেন আরও বড় স্বপ্ন দেখে, অল্পতে সন্তুষ্ট না হয়।

সাকিব কিংবা তামিমের অভাব অনুভব করতে দেয়নি এই দল। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী না হলেও এই টেস্ট ম্যাচ এবং গত কিছু দিনের পারফরম্যান্স দেখে বলা যায় যে, ধীরে ধীরে এই প্রজন্ম তাদের যোগ্যতা ভালোভাবেই প্রমাণ করছে এবং অগ্রজদের হাত থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য এখন তারা প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, দেখে মনে হচ্ছে নতুন প্রজন্ম হয়তো আমাদের নিয়ে যাবে আর এক উচ্চতায়, যেমনটি এর আগে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম আমাদের নিয়ে গেছে। আমাদের এখন শুধু নিশ্চিত করতে হবে এর ধারাবাহিকতা যেন চলমান থাকে।

কোনো কিছু অর্জন করার চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কষ্টসাধ্য, কথাটি আমরা সবাই জানি।

লেখক: প্রধান ক্রিকেট উপদেষ্টা, বিকেএসপি ও ক্রিকেট মেন্টর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা