প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১১:৩৫ এএম
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের এক দিনও পেরোয়নি। ঠিক পরদিনই অনুশীলনে হাজির কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তবে রেকর্ড গড়ে সে টেস্ট জয়ের রেশটা যে এখনও রয়ে গেছে, তার প্রমাণ মিলল তার কথা থেকে। জানালেন, এই টেস্টটা নেহাত আরও একটা টেস্ট জয় নয়। জয় ছাড়িয়ে আরও বড় কিছু।
আরও পড়ুন : বৃষ্টি মাথায় অনুশীলনে সাকিব-তামিমরা
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয় নেই খুব একটা। সব মিলিয়ে হাসিমুখে টেস্ট শেষ করেছে ১৮ বার। টেস্ট জেতা মানেই তো বাংলাদেশের কাছে বিশেষ কিছু। তবে আফগানদের বিপক্ষে এই টেস্ট জয়টা আরও অনেক কারণে বিশেষ। বাংলাদেশ যে ম্যাচটা জিতেছে রেকর্ড গড়ে, ৫৪৬ রানে, যা টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম জয়।
তবে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে অন্য কারণগুলো। তার ভাষ্য, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলাম এটা স্রেফ একটা টেস্ট জয় নয়, তার চেয়েও বিশেষ কিছু। আমি এটা দিয়ে বুঝিয়েছি, আমরা যেভাবে এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়েছি, সেটা এর আগে কখনও হয়নি। আমরা ফাস্ট ও সবুজ উইকেট তৈরি করেছি। এ ধরনের উইকেটে খেলে জেতা বিরাট ব্যাপার। আমরা একটা বড় মানসিক বাধা পার করেছি। কারণ ম্যাচের আগে অনেকেই আমরা কেমন করব সেটা নিয়ে সন্দেহ করেছিল। আমরা এখানে সাধারণত ভিন্ন ধাঁচের ক্রিকেট খেলি। গামিনি, কিউরেটরকেও কৃতিত্ব দিতে হবে এ ধরনের উইকেট তৈরির জন্য। সেদিক থেকে এটা একটা টেস্ট জয় থেকেও বেশি কিছু। নতুন নায়ক বেরিয়ে এসেছে এই টেস্ট ম্যাচ থেকে।’
এই ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু বোলিংয়েই আলো ছড়ায়নি, দেখিয়েছে নতুন ধাঁচের ব্যাটিংও। দুই ইনিংস মিলিয়ে রান করেছে ওভারপ্রতি ৫ করে। টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান ধাঁচটাও অবশ্য অনেকটাই এমন। ইংলিশরা যে ‘বাজবল’ ক্রিকেট দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বিপ্লবই এনে বসেছে! হাথুরুসিংহে জানালেন, ঠিক বাজবল অনুসরণ না করলেও তার দল ঠিকই ‘ইতিবাচক’ ক্রিকেটটাই খেলবে।
কোচ বললেন, ‘বাজবল নয়, আমরা শুধু রেড বল ক্রিকেট খেলেছি। আমি জানি না, বাজবল কী! আমরা শুধু নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেলেছি। যদি কন্ডিশন সাহায্য করে, তাহলে অবশ্যই এভাবে খেলব। আমরা সেভাবেই অনুশীলন করেছি। ছেলেদেরও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এভাবে খেলার জন্য। খেলাটা তো মূলত রানের। কন্ডিশন যদি কঠিন হয়, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যাটিং করব।’
এরপর আবারও তিনি ফিরলেন পেস বিপ্লব প্রসঙ্গে। সবুজ উইকেটে পেসাররা উতরে গেছেন বেশ ভালোভাবেই। হাথুরু তাই তৃপ্তির ঢেঁকুরই তুলছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে আমাদের শক্তি ছিল স্পিন। কিছু কিছু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্পিন দিয়ে জেতা সম্ভব, এটা আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। এখন পেস দিয়ে কিছু ম্যাচ জেতার উপায় তৈরি হয়েছে। সন্তুষ্টির জায়গা হচ্ছে, ফাস্ট উইকেটে পেসাররা গা ভাসিয়ে দেয়নি। ওরা যেভাবে বল করেছে সেটা খুবই ভালো ছিল। খুবই পেশাদারি বোলিং। ওরা বাউন্সার করার জন্য করেনি। বেশিরভাগ উইকেট এসেছে ফ্রন্ট ফুটে। এই ছোট ছোট জিনিস পেসারদের পরিণতবোধের উদাহরণ। ওরা অনেকদূর এসেছে। আমি খুশি।’
এই তো বছর দুয়েক আগেও বাংলাদেশে টেস্ট মানে ছিল স্পিন সহায়ক কিংবা নিদেনপক্ষে মন্থরগতির উইকেট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য এসেছে পেস সহায়ক উইকেটে। তবে এই জয়ের ফলে যে পেস উইকেটই হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, তা মানছেন না কোচ। তার অভিমত, উইকেটের সুযোগটা নিতে হবে প্রতিপক্ষ বুঝে।
তিনি বলেন, ‘আমি এমনটা বলব না। প্রতিপক্ষ দেখে আমাদের সম্ভাব্য সেরা পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেব আমরা। কারণ আমরা ভালো স্পিনার ও পেসারদের নিয়ে আশীর্বাদপুষ্ট। এটি কোচ হিসেবে ও দল হিসেবে আমাদের জন্য খুবই ভালো পরিস্থিতি। তো বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন হেলদি অবস্থায় আছে।’