প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১৭:০২ পিএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ২০:৫২ পিএম
বাকি ছিলেন শুধু তাসকিন আহমেদ। ইনজুরির কারণে তার খেলার কথা ছিল না। সব জল্পনার অবসানের পর একাদশে ছিলেন। নামেন টেস্ট খেলতে। প্রথম ইনিংসে গতির সঙ্গে লাইন-লেন্থের ভারসাম্য হয়নি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই খুঁজে নেন ছন্দ। ফল- ৩৭ রানে ৪ উইকেট। দেশের মাঠে রেকর্ড জয়ের সঙ্গী হয়েছে তাসকিনের মাঠে ফেরা। তাও আধিপত্য দেখিয়ে।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ওয়ানডে দলে রশিদ-মুজিব
টেস্টে কখনও পাঁচ উইকেট পাওয়া হয়নি তাসকিনের। সুযোগ ছিল, হয়তো ভাগ্যবিধাতা চাননি বলে হয়নি। না হলে দুই দুইবার উইকেটের উদযাপন করেও নিরাশ হতে হয় কাউকে? গতকাল ৩৩তম ওভারের আগেই পূর্ণ হয় তাসকিনের ৪ উইকেট। ৩৩তম ওভারের চতুর্থ বলে দুইবার আউট হন জহির খান। দুইবারই স্বভাবসুলভ বাহু প্রসারিত করে উদযাপন শুরু। আম্পায়ার ‘নো বল’ ডেকে হতাশ করেন। আবারও ফেরেন বোলিং প্রান্তে। নিজে জহির খানকে আউট করতে পারেননি। এমনকি অন্য কাউকেও সুযোগ দেননি। দারুণ এক বাউন্সারে পরাস্ত হন জহির। হাসমতউল্লাহ শাহিদির পর দ্বিতীয় আফগান ব্যাটার হিসেবে ‘আহত’ হয়ে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। তাতেই অলআউট আফগানরা। আর উল্লাস নেই, সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্টাম্প হাতে তুলে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।
প্রথম চার উইকেট শিকারে ছিল তাসকিনের দাপট। মনের ভুলে অনাকাঙ্ক্ষিত শট নয়। তাসকিনের বলে আফগানরা বাধ্য হয়েছেন ভুল শট খেলতে। দারুণ দাপটের পর তাসকিন খুশি। ম্যাচ শেষে তাসকিন বলেন, ‘ভালো লাগতেছে। সবাই দোয়া করবেন, সামনে অনেক খেলা আছে যেন সুস্থ থাকি এবং ভালো করতে পারি।’ প্রথম ইনিংসে ভালো করতে না পারার কারণ হিসেবে বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে ছন্দ খুঁজে পেতে একটু সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেটা ভালো ছিল। প্রসেসের মধ্যে ছিলাম আসলে, মানে ভালো জায়গায় বল করা।’ দারুণ বোলিংয়ের পর পাঁচ উইকেট নিতে না পারায় নেই হতাশা।
পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে ৫৪৬ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। পুরো টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। বাংলাদেশের দাপটে পুরো টেস্টে আফগানিস্তান শুধু টসটাই জিতেছে। বাকি সময়ে মনে হয়েছে বাংলাদেশের জয়ের জন্য আফগানিস্তান শুধু উপলক্ষ। স্পোর্টিং উইকেটের এমন জয়ের সঙ্গী হতে পেরে তাসকিন বলেন, ‘দুই বিভাগে দারুণ ক্রিকেট খেলে বড় একটি জয় পেয়েছি আমরা। খুব ভালো লাগছে এ জয়ে দলের সঙ্গে থাকতে পেরে।’
আগের একমাত্র দেখায় আফগানদের স্পিনবিষে নীল হয় বাংলাদেশ। ওই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সবুজ উইকেটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো। রশিদ খানবিহীন দল পেয়ে তাই সহজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পেরেছে। শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, জয়টাও এসেছে সহজভাবে। প্রায় দেড় দিন হাতে রেখে। এই ধারাবাহিকতা আগামী টেস্টেও বজায় থাকবে সেটাই তো চাওয়া। অবশ্য অধিনায়ক লিটন দাস সরাসরিই তো বলেছেন, বড় জয়ের মানে বড় দল হওয়ার পথে আছে দল। ওয়ানডের পর টেস্টেও দাপুটে হয়ে উঠবে বাংলাদেশ- এমনটাই তো প্রত্যাশা সবার।