প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১৩:২৪ পিএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
সেরার পুরস্কারটা কার হাতে ওঠে, তাই নিয়ে কৌতূহল ছিল বেশ। ম্যাচে যে পারফর্মারের অভাব নেই। নামটা যখন ঘোষণা করা হলো স্মিত হাসিমুখে এগিয়ে এলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই টেস্টে দেখা মিলেছিল সবুজ উইকেটের, মানে দাঁড়ায়- এই উইকেট হতে চলেছে পেস স্বর্গ। ম্যাচের ৩৪ উইকেটের ২২টিই গেছে পেসারদের দখলে। এমন উইকেটেও সেরার পুরস্কার শান্তর হাতে। তার দুই ইনিংসের সেঞ্চুরিই যে গড়ে দিয়েছে পার্থক্যটা!
আরও পড়ুন : বড় দল হওয়ার পথেই বাংলাদেশ
পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মূলত প্রথম ইনিংসে তার ১৪৬ রানের ইনিংসটাই। তিনি যখন উইকেটে এলেন, তখন মাত্র জাকির হাসান বিদায় নিয়েছেন। পেস স্বর্গে টসে হেরে ব্যাট করতে নামায় হুড়মুড়িয়ে টপ অর্ডার ভেঙে পড়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না।
তখনই শুরু ‘শান্ত শো’। প্রতি-আক্রমণের মন্ত্রে সেই যে শুরু করলেন, আফগানদের পরিকল্পনা তখনই তো জানালা দিয়ে পালাল! তার দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসটাই মূলত প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিশাল লিডের পথটা গড়ে দেয়। শান্তর ইনিংসটার মাহাত্ম্য ঠাহর করা যায় তার বিদায়ের পর মুমিনুল হকের অমন নড়বড়ে ব্যাটিং আর বিদায় থেকেও। ওই উইকেটে ব্যাট করাটাও যে কঠিন ছিল!
প্রথম ইনিংসে যা করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংস দেখল তারই কার্বন কপি। না, রানটা কাছাকাছি হয়নি। প্রথম ইনিংস থেকে করেছেন ২২টা রান কম। কিন্তু যে ঢঙে খেলেছেন, তাতেই তো বড় রানের লিডটা চলে আসে বাংলাদেশের পক্ষে!
তৃতীয় দিনে উইকেটে স্পিন ধরছিল খানিকটা। পেসাররা তো গুডলেন্থ থেকেও পাচ্ছিলেন বাড়তি বাউন্সার। সঙ্গে যোগ করেন তীব্র গরমকেও। পরিস্থিতিটা তাই কঠিনই ছিল।
তবে শান্তর ব্যাটিং দেখলে কে বলবে উইকেটে খেলাটা এত কঠিন ছিল! মুমিনুল হক তো তাই সেদিন শেষে বলেই ছিলেন, ‘শান্ত ব্যাট করতে থাকে যখন, তখন মনে হয় উইকেটটা কী সহজ! ইচ্ছা করে আমিও মেরে খেলি। কিন্তু আসলে তো তা নয়!’ আসলেই তাই, দুই ইনিংস মিলিয়ে যখনই ব্যাট করেছেন, মেরেছেন ভালো বলেও। তা দেখে তেমন মনে করাটাই তো স্বাভাবিক।
শান্ত তার কাজটা করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ যে ৬৬১ রানের বিশাল লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল তৃতীয় দিন বিকালে, তার মেরুদণ্ডটা তো ছিল শান্তর জোড়া সেঞ্চুরির কল্যাণেই।
তার এমন বদলে যাওয়ার পেছনের গল্পটা বললেন অধিনায়ক লিটন দাস। জানালেন, অনুশীলনের পদ্ধতিতে এনেছেন কিছুটা পরিবর্তন। বাজিমাত করেছেন তাতেই। লিটনের কথা- ‘দেখেন, শান্তর জায়গায় আমিও ছিলাম কিছুদিন আগে। এসব নিয়ে শান্তর সঙ্গে আমার কথাবার্তাও হয়েছে। জানি না কতটুকু তাকে সাহায্য করেছে। তার হয়তো অনুশীলনের মেথড একটু বদল হয়েছে। আগে যেভাবে অনুশীলন করত এখন অনেক গোছানো।’
লিটনের চোখে শান্ত খুঁজে পেয়েছেন তার শক্তির জায়গাটাকেও। সে কারণেই দিনে দিনে শান্ত অমন অপ্রতিরোধ্য। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে থাকবেন নিয়মিত, আপনি কিন্তু জানবেন আপনার ঘাটতি কী। কোন জায়গায় আপনি শক্তিশালী, কোন জায়গায় আপনি দুর্বল। সে তার জিনিসটা খুব ভালোভাবে খুঁজে পেয়েছে। ওভাবেই অনুশীলন করেছে। এটা ভালো দিক। আমি চাইব ও যেভাবে খেলছে, এটা যেন ধরে রাখে।’
গেল বছর ১৭ জুন দিনটায়ও শান্ত ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন। সেদিন উইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি আউট হয়েছিলেন রানের খাতা খোলার আগেই। এরপরও তার খারাপ সময় কেটেছে অনেক। সে স্মৃতিকে এখন কী অচেনাই না মনে হয়! তবে ব্যাট হাতে এমন অপ্রতিরোধ্য শান্তকেও লিটন সাবধান করে রাখছেন, খারাপ সময় কিন্তু আরও আসবে। অধিনায়কের কথা, তখন কাজে লাগাতে হবে নিজস্ব পদ্ধতিটা। তিনি বলেন, ‘খারাপ সময় আসবে-যাবে। ও যদি ধরে রাখতে পারে, কীভাবে সফল হয়েছে মনে রাখে, তাহলে সাফল্য পাবে।’
বাজে সে সময়টা বহু আগেই পেছনে ফেলেছেন শান্ত। এই টেস্টে তার দুই ইনিংসের যে রান, তার চেয়েও তো ৯ রান কম করেছে পুরো আফগানিস্তান দল! ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও তারই হাতে উঠেছে তাই।