× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিরপুরে ‘পেসবিপ্লব’

পার্থ রায়

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১২:০৫ পিএম

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ১২:৪০ পিএম

মিরপুরে ‘পেসবিপ্লব’

‘সুযোগই যদি না পান, বোলাররা কীভাবে তাদের ক্যারেক্টার শো করবেন!’- ম্যাচ শেষে বলেন অধিনায়ক লিটন দাস। আফগানদের বিপক্ষে নিজেদের ‘ক্যারেক্টার’ দেখালেন পেসাররা। না হলে টেস্টে ১৪ উইকেট নেওয়া তো আর মুখের কথা নয়। মিরপুরের স্পিনস্বর্গকে মনে হচ্ছিল পেসবিপ্লবের ময়দান।

আরও পড়ুন : বিশ্বকাপের আগে আরেক বিশ্বকাপ

পেসারদের এমন ছন্দের পর অধিনায়কের মুখে চওড়া হাসি থাকবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেটা যদি দুই ইনিংসে হয়, তাহলে তো কথাই নেই। ম্যাচশেষে অধিনায়ক লিটন তাই বললেন, ‘তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি অধিনায়ক হিসেবে খুব খুশি।’

ম্যাচের আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল, মিরপুরের উইকেটে থাকবে সবুজের ছোঁয়া। যার ছোঁয়া ছিল টেস্টের একাদশে। ঘরের মাঠে তিন পেসার খেলানোর সাহস দেখায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন ম্যাচ শেষে তাই বলেন, ‘উইকেটের আচরণটাই ছিল তিন পেসার নিয়ে খেলার মতো। উইকেটে পেসারদের যথেষ্ট রসদ ছিল।’ মিরপুরে অধিনায়কের এমন সাফল্য পরিসংখ্যানের পাতাতেও রেকর্ড। এক টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। এর আগে ২০২২ সালে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার সেটাকে ছাড়িয়েছেন। ঘরের মাঠে এক টেস্টে পেসারদের সর্বোচ্চ শিকার ছিল ১০ উইকেট। সেটাও ২১ বছর আগে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। 

বাংলাদেশের এই নতুন রেকর্ডে জড়িয়েছেন ইবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। তিনজন মিলেই যে ভাগাভাগি করেছেন ১৪ উইকেট। ৫ উইকেট ভাগাভাগি হয়েছে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের মধ্যে। দেশের মাঠে টেস্টে সব সময়ের নায়করা এবার আড়ালে। পেসারদের ছায়ায় থেকেও আফগানদের বিপক্ষে যখনই সুযোগ এসেছে উইকেট শিকারের মিছিলে তারাও ছিলেন। তাদেরকে নিয়েও অধিনায়ক খুশি, ‘আমরা চাইব ভালো উইকেটে খেলতে, যেন দুই দিকেই সুবিধা থাকে। এমন নয় যে, শুধু স্পিনার বা পেসাররা একচেটিয়া আধিপত্য দেখাবেন। এই উইকেটে দেখেন, স্পিনাররাও কিন্তু সাহায্য পেয়েছেন।’

আফগানদের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন। চার উইকেট পকেটে ভরেছেন তাসকিন আহমেদ। ইবাদত প্রথম ইনিংসে ও তাসকিন দ্বিতীয় ইনিংসে নেন চারটি করে উইকেট। দুজনের সামনেই ছিল ফাইফার শিকারের সুযোগ। কিন্তু ভাগ্যবিধাতা চাননি। তাই তাদের পাঁচ উইকেট হয়নি। ফাইফার না হলেও খুশি পেসাররা। কারণ, উইকেটে ছিল বাউন্স, পেস ও সুইং। বাংলাদেশের মাটিতে এমন সুইং-বাউন্সের দেখা মিলবে, সেটা তো কল্পনাতেও ছিল না। সেটা সত্যি হয়েছে, এটাই তো বড় পাওয়া পেসারদের জন্য। ভবিষ্যতেও পেসারদের জন্য এমন সহায়তা থাকবে কি না তার কোনো সদুত্তর অবশ্য দিতে পারেননি অধিনায়ক লিটন। দ্বিতীয় দফায় ফিরে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। পরের সিরিজগুলোতে সেটাই হবে বলে জানান লিটন, ‘এমন নয় যে শুধু স্পিন উইকেটে খেলব বা শুধু পেস উইকেটে খেলব। যার সঙ্গে খেলব তাদের শক্তি, দুর্বলতা সবকিছু পর্যালোচনা করে… যেটা মানুষ করে হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়া। এটাই করব।’

হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার ব্যাপার থাকলেও পেসাররা উন্নতি করছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অধিনায়ক লিটনও সেটা স্বীকার করেন। এমনকি তাদের জন্য নেটে ব্যাটিং অনুশীলন চ্যালেঞ্জিং। সেটা স্বীকার করতেও দ্বিধা নেই লিটনের, ‘আমার মনে হয় আমাদের পেস ইউনিটটা দিনে দিনে উন্নতি করছে। পিচ ম্যাপ দেখলে বুঝা যায়। তাসকিন, ইবাদত, খালেদ, শরিফুল, মুশফিক- যারা সাদা বলের খেলোয়াড় আছেন, তাদের মুখোমুখি হলেও নেটে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আমাদের জন্য ভালো, আমরা ম্যাচের আগে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই।’ নেটের চ্যালেঞ্জেই সহজ হয়েছে ম্যাচে খেলা, ‘এটার কারণে খেলা অনেকটা সহজ হয়। এমন যদি বোলিং হতে থাকে, তাহলে আরও পেস বোলার উঠে আসতে থাকবে।’

নতুন পেসার আসবেন, আরও আসবে নতুন নতুন সাফল্য। দিনকে দিন উন্নতি ঘটবে পেস বিভাগে। এমন কথা তো পেসাররা নিয়মিতই বলেন। এবার অধিনায়কও বললেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা