নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১০:১৩ এএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ১০:১৮ এএম
জহির খানের ব্যাট পেরিয়ে তাসকিন আহমেদের বলটা উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়তেই আবেদন, আম্পায়ার তুলে দিলেন আঙুল। তাসকিন গিয়ে সেজদা দিলেন পিচের মাঝেই। তবে রিভিউতে দেখা গেল, তার সে বলটা ছোঁয়নি জহিরের ব্যাট।
আরও পড়ুন - খাজার সেঞ্চুরিতে লিড নেওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়া
উদযাপনের পরও তাসকিনকে আবার ফিরতে হলো বোলিংএন্ডে। এবার তার করা বলটা গিয়ে ভাঙল জহিরের স্টাম্প। উদযাপন করতে যাবেন, সে সময় আম্পায়ারের বাগড়া। বলটা ছিল ‘নো’, জহিরকে পেরোনোর সময় বলটা ছিল তার কোমরের ওপর।
খানিকটা অসন্তুষ্ট মনে হলো তাসকিনকে, দুবার করে এভাবে উইকেটটা পেতে পেতেও যে গেল হারিয়ে! সে অসন্তুষ্টি থেকেই কি না তাসকিন এবার করলেন শর্ট বল। বলটা গিয়ে লাগল জহিরের মাথায়, হলেন আহত-অবসর। ম্যাচের যবনিকাপাত হলো তাতেই।
তাতে ক্ষতি হয়নি খুব একটা, তাসকিন আহমেদের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পাওয়া হলো না এই যা! তবে বাংলাদেশ জিতেছে ঠিকই। দাপট দেখিয়ে জিতেছে ৫৪৬ রানের বিশাল এক ব্যবধানে। তাতেই গড়া হয়ে গেছে রেকর্ডও। সঙ্গে একটু ‘প্রতিশোধও’ বৈকি। ২০১৯ সালের ওই জয় যে বহুদিন কাঁধে সিন্দবাদের ভূত হয়ে চড়ে ছিল, তা তো অন্তত বিদায় করা গেল!
এমন কিছুর পূর্বানুমান অবশ্য আগেই করা যাচ্ছিল। তৃতীয় দিনের বিকালে যখন বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করল ৬৬১ রানের বিশাল এক লিড নিয়ে, তখনই। প্রথম ইনিংসে আফগানরা ভেঙে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে, ন্যূনতম প্রতিরোধটাও গড়তে পারেননি তেমন কেউ; সে দলটা জয় তো নয়ই, দুই দিনের বেশি সময় কাটিয়ে দিয়ে ড্রও করে ফেলবে, সেটা তো রীতিমতো কষ্টকল্পনা! তার ওপর যখন শেষ বিকালেই খুইয়ে ফেলল দুই উইকেট, তখন তো বিষয়টা পরিষ্কারই ছিল!
তাসকিন আহমেদরা সেটা নিশ্চিত করতে সময় নিলেন মোটে এক সেশন। ইবাদত হোসেনের হাত ধরে শুরু। দিনের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন নাসির জামালকে।
শরিফুল এরপর ফেরালেন আফসার জাজাইকে। ওভার দ্য উইকেট থেকে তার অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে গালিতে মেহেদি হাসান মিরাজকে ক্যাচ দেন জাজাই। পরের শিকারটাও শরিফুলেরই। এবারও ওই অ্যাঙ্গেল বদলেই সাফল্য। এবার তার শিকার বাহির শাহ, যিনি আগের দিন মাথায় আঘাত পাওয়া অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদির বদলে এদিন নেমেছিলেন ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে, তাও আবার নিজের অভিষেক ম্যাচে।
তাসকিন আহমেদ আগের দিন উইকেট পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু রান দিচ্ছিলেন যেভাবে, তাই বলে দিচ্ছিল ছন্দে ছিলেন না তিনি। সেটা পেলেন চতুর্থ দিন সকালে এসে। রহমত শাহকে ফেরালেন প্রথমে। এরপর করিম জানাতকে এমন এক বলে বোল্ড করলেন, যে বল আসলে খেলা দুষ্কর। মাঝে মিরাজ এসে ফেরালেন আমির হামজাকে। এরপর আবার ইয়ামিন আহমাদজাইকে শিকার বানালেন তাসকিন।
জয়টা নিশ্চিত ছিল। তাসকিন যেভাবে এগোচ্ছিলেন, তাতে পাঁচ উইকেটের দেখাও বুঝি পেয়েই যেতেন তিনি। যেটা হলো না শেষের ওই নাটকে। তাসকিনের অবশ্য আফসোস নেই, জানালেন- যা হয়েছে তাতেই খুশি।
খুশি হবেন না কেন? অমন জয়ের পর কি আর মনে কোনো আক্ষেপ থাকে? বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছে ৫৪৬ রানে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই এর চেয়ে বড় ব্যবধানের জয় বিশ্বক্রিকেট দেখেছে আর মোটে দুটো। তাও আবার দুটো ম্যাচ প্রায় ৯০ বছর আগের। মানে আধুনিক ক্রিকেটে এমন আধিপত্যের দেখা মেলে না সচরাচর। চলতি শতাব্দী তো এর চেয়ে বড় ব্যবধানের জয় দেখেইনি!
আফগানরা সাদা পোশাক গায়ে চড়িয়েছিল ২৭ মাস পর। তার ওপর খেলেনি কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও। ফলে তাদের অভ্যাস তো বটেই, প্রস্তুতিতেও ঘাটতিটা ছিল পরিষ্কার। ওদিকে বাংলাদেশ দুই মাস আগেই তো খেলেছে টেস্ট।
ফলে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে পার্থক্যটা বুঝিয়ে দেওয়ার একটা দায় ছিল বৈকি! দাপুটে এই জয় দিয়ে সেই দায়ই সেরেছে বাংলাদেশ।
সিরিজ শুরুর আগে ঘুরেফিরেই আসছিল ২০১৯ সালের ওই ম্যাচের কথা। চট্টগ্রামে সেবার বাংলাদেশকে আফগানরা হারিয়েছিল ২২৪ রানে। এই জয়ে সে হারের ক্ষতেও প্রলেপ পড়ল একটু, মধুর একটা ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া হয়ে গেল বৈকি!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ৩৮২ ও ৪২৫/৪
আফগানিস্তান ১৪৬ ও ১১৫/৯