নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ০৯:১১ এএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ০৯:১৩ এএম
‘আজ এই আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি ঝরে তোকেই ধরে’- অদিত রহমানের এ গানের শুরুটা যেন কিছুটা মিলে গেল মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সঙ্গে। আকাশ কালো ছিল, কিন্তু বৃষ্টি হয়নি শেষমেশ। তবে আষাঢ়স্য প্রথম দিনে উইকেট ঠিকই ‘ঝরেছে’ শ্রাবণের ধারার মতো। বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনটায় দারুণ সময় কাটিয়েছেন বোলাররা, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে, পেসাররা।
আরও পড়ুন : ‘এমন উইকেটে খেলা সৌভাগ্যের বিষয়’
মিরপুর টেস্ট শুরুর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। প্রথম দিন ভোরে হয়েছিল বৃষ্টিও। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই ফিক করে হাসে আকাশ। দিন যত গড়িয়েছে এরপর, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করেছে দুই দলই। তোয়ালে নিয়ে দ্বাদশ খেলোয়াড়দের দৌড় দেখা গেছে নিয়মিতই।
উইকেট সবুজ ছিল, মেঘলা আকাশ হলে পেস-স্বর্গ জমে যেত রীতিমতো। সেটা বোঝা গেল দ্বিতীয় দিনে এসে। বর্ষার প্রথম প্রহর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। কন্ডিশন পক্ষে ছিল। সবুজ উইকেটও খানিকটা সাহায্য দিচ্ছিল বাড়িয়ে। বেড়েছিল গতি, গুডলেন্থ থেকেও বাউন্স আসছিল বাড়তি, সঙ্গে যখন যোগ হয়েছিল সিম মুভমেন্টও, এমন এক পরিস্থিতিতে পেসাররা খেল না দেখিয়েই পারেন না। আফগান পেসাররা তা দেখালেনও।
মুশফিকুর রহিম আর মেহেদি হাসান মিরাজ ছিলেন বাংলাদেশের আশার শেষ বাতিঘর হয়ে। মিরাজের বিদায় দিয়ে ভাঙে তা। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন মিরাজ। ফিফটির খুব কাছে ছিলেন, কিন্তু তা আর মেলেনি। থামতে হয় দুই রান আগে।
এরপর প্রথম দিনে আফগানদের সেরা বোলার নিজাত মাসুদ আসেন দৃশ্যপটে। মিরাজ বিদায়ের পরের ওভারেই ফেরান মুশফিককে। এক বল পর তাইজুলকেও। দুজনকে বিদায় করতেই উইকেটের বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়েছেন নিজাত। গুডলেন্থ থেকে লাফিয়ে ওঠা বলে বিদায় ঘটে মুশফিকের, আর তাইজুলকে দিয়ে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ তোলালেন যে বলে, সেটা যেকোনো ব্যাটারের জন্যই তো সামলানো কঠিন হতো।
নিজাত এরপর আরও একটা উইকেট নিয়েছেন। শরিফুল ইসলামকে বোল্ড করলেন বাড়তি গতি আদায় করে। শরিফুল ব্যাট চালালেন একটু দেরিতে, বল ততক্ষণে তার ব্যাট ছুঁয়ে ছত্রখান করে দিয়েছে স্টাম্প। মাঝে ইয়ামিন বিদায় করেন তাসকিনকে, ফুলার লেন্থ থেকে ভেতরে ঢোকা বল লাগে তাসকিনের ব্যাটে; এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। আগের দিন আফগান কোচের ১০ রানে ৫ উইকেটের রসিকতা তাতেই ফলে যায় বাস্তবে। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় আর মাত্র ২০ রান।
আফগানদের পর এলো বাংলাদেশ পেসারদের পালা। শেষ কিছুদিন ধরেই পেসাররা বাংলাদেশকে দেখাচ্ছেন পথ। দেখালেন এদিনও। শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় ওভারে বিদায়ের পথ দেখিয়েই দিয়েছিলেন, তবে সে সুযোগটা নেওয়া হয়নি। হলো ওভার তিনেক পর। চতুর্থ স্টাম্পলাইনে করা বলটা ব্যাট ছুঁল ইবরাহিম জাদরানের, পেছনে লিটন দাস এবার কোনো ভুলচুক করলেন না।
পরের ওভারে ইবাদত এলেন পাদপ্রদীপের আলোয়। উইকেট থেকে তার বাড়তি বাউন্স আদায় করা ডেলিভারিটায় ঘায়েল হলেন আবদুল মালিক, ক্যাচ তুললেন তৃতীয় স্লিপে। নিজের এক ওভার বিরতিতে আরও একবার তার আঘাত। এবারও আরও এক শর্ট বলেই সর্বনাশ হলো আরও আফগান ব্যাটারের, রহমত শাহ ফেরেন। প্রথম সেশনে পড়ল ৮ উইকেট, তার সবকটিই পেসারদের দখলে।
পরের সেশনেও ছড়ি ঘোরালেন পেসাররাই। বাড়তি বাউন্সের হাত রইল পরের উইকেটটাতেও। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে তিন ওভারের মধ্যেই আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদিকে ফেরান শরিফুল। গুডলেন্থ থেকে তার বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বলটা শহিদির ব্যাটের কোনা ছুঁয়ে চলে যায় স্লিপে। সেখানে মিরাজ লুফে নেন ক্যাচটা। ইবাদত খাটো লেন্থের বলে বাড়তি বাউন্সে সাফল্য পেয়েছেন আরও একটা। তার বাউন্সারে হকচকিয়ে গিয়েই তো ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ দেন আমির হামজা।
প্রথম দিনে উইকেট গিয়েছিল সব মিলিয়ে ৫টা। দ্বিতীয় দিনে কন্ডিশন বদলাতেই রীতিমতো উইকেট প্রপাতে রূপ নিল মিরপুর। এক দিনেই উইকেট পড়ল ১৬টি। সে ১৬ উইকেটের ১৩টিই গেল পেসারদের দখলে। মিরপুরে দিনটা যে পেসারদেরই ছিল, তা কি আর বলে দিতে হয়?