পার্থ রায়
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ০৮:৫৪ এএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ০৮:৫৬ এএম
দিনের প্রথম সূর্যেই আভাস মেলে পুরো দিন কেমন কাটবে। গতকাল সকাল সকাল মিরপুরে শুরু পেসারদের দাপট। সারা দিনে পতন ১৬ উইকেটের। যার ১১টিই পেসারদের দখলে। এই ছোট্ট পরিসংখ্যান প্রমাণ করে মিরপুরের স্পিনস্বর্গে পেসারদের দাপট বেড়েছে। বাংলাদেশের উইকেটে পেসারদের দাপট, এটা ছিল অলীক স্বপ্ন। বাংলাদেশি পেসারদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এমন উইকেটে খেলতে পারাকে ইবাদত হোসেন ভাবছেন সৌভাগ্যের ব্যাপার। দেশের মাটিতে স্বপ্নের উইকেট পেয়ে ইবাদতের শিকার ৪৭ রানে ৪ উইকেট।
আরও পড়ুন : নিজাত মাসুদের বিরল কীর্তি
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাউন্স-পেসে নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করেছিলেন। তখন থেকে চলছে ইবাদতের উত্থানযাত্রা। দেশের উইকেট পেসারদের পক্ষে কথা বলবে সেটা হয়তো ভাবেননি। তবে যখন সুযোগ এলো, সদ্ব্যবহারে ব্যতিব্যস্ত ইবাদত। তার বোলিং তোপে থেমেছে আফগানদের ইনিংস। গতকাল দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে ইবাদত বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম এই রকম উইকেট আমরা পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা যে, তিনটা ফাস্ট বোলার টেস্টে, এই রকম উইকেটে খেলা, এটা আমাদের অনেক বড় একটা সৌভাগ্য।’
আফগানদের বিপক্ষে নিয়মিত বাউন্সার ও গতিময় বোলিংয়ে ব্যস্ত থেকেছেন বাংলাদেশি পেসাররা। শুধু বাউন্সার নয়, প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছেন। তাতে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন আফগান ব্যাটাররা। বিষয়টি নিয়ে ইবাদতের ভাষ্য, ‘আমরা পরিকল্পনা করে চেষ্টা করছি, ওদেরকে যত কম রানে আউট করা যায়। আসলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছি। এটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।’ আফগানদের বিপক্ষে দলের সেরা বোলারের সামনে সুযোগ ছিল পঞ্চম উইকেটের। ওভার রেটে পেছনে থাকায় অধিনায়কের চাওয়া পূর্ণ করেছেন। ফলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারবঞ্চিত থাকতে হয়। সেটা নিয়ে ইবাদতের মধ্যে আক্ষেপ নেই- ‘যা পেয়েছি, আলহামদুল্লিলাহ।’ কেন সম্ভাব্য ফাইফার থেকে বঞ্চিত তার ব্যাখ্যায় ইবাদত বলেন, ‘আমরা দুই ওভার পেছনে ছিলাম। অধিনায়ক আসলে চিন্তা করছিল, আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে জরিমানার বিষয় থাকে। তখন বলল চা বিরতির পর দুই পাশ থেকে দুই স্পিনার দিয়ে শুরু করবে।’ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই তার, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের বিষয় সবচেয়ে বড় জিনিস।’
ঘরের মাঠে পেসারদের এমন দারুণ ছন্দ আত্মবিশ্বাস জোগাবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। আফগানদের মতো অন্য দেশগুলোর বিপক্ষেও পেস আক্রমণের আত্মবিশ্বাস দেবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইবাদতের জবাব, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমরা যদি উন্নতি করতে পারি, তাহলে ওনারা আত্মবিশ্বাস পাবেন।’ আফগানদের বিপক্ষে পেসনির্ভর উইকেটের কৃতিত্ব দলকেই দিতে চান ইবাদত, ‘উইকেট যেহেতু আমাদের পক্ষে আছে, তাহলে কেন আমরা চেষ্টা করব না। আমরা তিনজন (পেসাররা) মিলে চেষ্টা করেছি। বাকি কৃতিত্ব তো টিম ম্যানেজমেন্টের।’ দেশের মাঠে সুযোগ পাওয়া ইবাদত-শরিফুলদের ভাবনায় এখন উন্নতির চেষ্টা, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা যদি উন্নতিটা ধরে রাখতে পারি তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের যে চিন্তাধারা আছে সেটাই ধরতে পারব। শেষ তিন বছর ধরে চেষ্টা করছি উন্নতির গ্রাফ ওপরের দিকে নেওয়ার।’