× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কলাম

চ্যাম্পিয়ন হতে দৃষ্টিনন্দন না খেললেও চলে

সাইফুল বারী টিটু

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ২১:৫৭ পিএম

চ্যাম্পিয়ন হতে দৃষ্টিনন্দন না খেললেও চলে

কথায় আছে টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, কিন্তু এটাও ঠিক অর্থ নানাভাবে সাহায্য করে। পেপ গার্দিওলার এমন অর্জন দেখে ফের এই কথার সত্যতা পেলাম। ম্যানচেস্টার সিটিতে ওর সাফল্যটা দেখছি আর ভাবছি এই অর্জন শুধু টাকায় মেলে না। টাকার সঙ্গে চাই দক্ষ পরিচালনা। সেটিই করেছেন গার্দিওলা। যার পথ ধরেই এবার ম্যানসিটিকে তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য এনে দিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন : নেইমারকে চাচ্ছে আল হিলাল

চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সহজ কথা নয়। ইউরোপের নানা দেশের ক্লাব আর ভিন্ন আবহাওয়া-খেলোয়াড়দের ভিন্নধারার ফুটবল সব মিলিয়ে বেশ কঠিন এটা। প্রিমিয়ার লিগে তিনবার আর সাত বছরে পাঁচবার জেতা- এটা যেকোনো কোচের জন্যই বড় অর্জন। আমার মনে হয়, পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনায় যা করেছেন তা ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে ছাড়িয়ে গেছেন। বার্সায় তিনি হয়তো ১২-১৩টা শিরোপা জিতেছিলেন, এখানে হয়তো সেই অঙ্কটা এতটা না হলেও যা করেছেন, গার্দিওলাকে নিয়ে বললে আসলে সব ছাড়িয়ে যাবে। 

কোচদের আসল কাজ হলো ফুটবলারকে পরিবর্তন করে দেওয়া। ফুটবলারের পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আনা। জ্যাক গ্রিলিশের কথা বলা যায়, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ওকে গতবার কিনেছে সিটি। সেই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক ছিল না। তাকে পেপ গার্দিওলা এই মৌসুমে যেভাবে খেলিয়েছেন, তাকে প্রতিটা ম্যাচেই একাদশে রেখেছেন। এই যে পরিবর্তনটা, এটা নিয়ে থিয়েরি অঁরিও বলছিলেন, এখনও পেপকে তিনি বস ডাকেন, সেই বার্সার সময় থেকেই পেপ তার বস। সত্যি বলতে কিছু কিছু কোচ থাকেন তারা কেবল এলিট প্যানেলের কোচ নন তারা আসলে গবেষক। পেপ তেমনই একজন।

ভাগ্য সব সময় সাহসীদের পক্ষে থাকে। গত ৫-৬টা ম্যাচ যদি দেখি, তবে দেখব যে এটা ওই ম্যানসিটি না যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দাপটের সঙ্গে জিতে যাচ্ছে। এখানেই বোঝা যায়, দলটির ফুটবলারদের মানসিকতা কী। ফাইনালের প্রথমার্ধের বিশ্লেষণ জানাচ্ছে ইন্টার মিলান যথেষ্ট ভালো খেলেছে। এত ভালো ট্যাকটিকাল প্ল্যান ছিল সিমোন ইনজাগির, ওরা কিন্তু হাইপ্রেস করেছে ম্যানসিটিকে। প্রথমার্ধের একটা পর্যায়ে গার্দিওলা তার ফুটবলারদের বলছেন রিলাক্স, রিলাক্স। কারণ তারা ছিলেন ফেভারিট। সবাই হিসাব কষছিলেন কত গোলের ব্যবধানে জিতবে সিটি। এসব পর্যায়ে হয় কী, যখন প্ল্যান কাজে আসে না, মাঠে নেমে তখন আপনি বিভ্রান্ত হন। রদ্রি শুরুতে এত মিস পাস করছিলেন, ম্যাচ শেষে তিনি নিজেই এটি স্বীকার করছিলেন। প্রতিপক্ষ কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিল যে ওকে খেলতেই দিচ্ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রদ্রিই ইতিহাসের অংশ। সিটির ট্রেবল জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এখন তার।

ম্যানসিটির পরিবর্তনটা আগেরবারের থেকে আলাদা যেটা, সেটা হলো ডিফেন্ডিং। বিশ্বের সেরা ডিফেন্স এখন তাদের। গোলকিপার এডারসনের পায়ে লেগে আসা ওই বলটা রুবেন ডিয়াজ যেভাবে ফ্লিক করে কর্নার করলেন, সেটা আসলে গোলও হতে পারত। একটা পর্যায়ে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে সিটি। ইন্টার মিলানকে সত্যিই ক্রেডিট দিতে হবে যে খেলাটাকে একপেশে খেলা হতে দেয়নি। 

ম্যানসিটি খেলতে পছন্দ করে আক্রমণভাগে। তাদের ভেতরেই যেতে দিচ্ছিল না ইন্টার মিলান। ম্যানসিটিকে ডমিনেটিং পারফরম্যান্স করতে দেয়নি ইন্টার। একই সঙ্গে সুযোগের অপব্যবহারও করেছে সিটি। যেমন হালান্ডের ওই গোলটা করা উচিত ছিল। তবে আমি বলব যে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে এত দৃষ্টিনন্দন না খেললেও চলে। 

বড় ম্যাচে হালান্ড মোটেও ফ্লপ নন। হালান্ডকে আমরা মনে করছি অনেক গোল করবে, তিনি গোল মেশিন। যখনই কোনো ম্যাচে গোল পাচ্ছে না তখনই কিন্তু আমরা তাকে নিয়ে কথা বলছি। স্ট্রাইকার হিসেবে তিনি যে পূর্ণতা দিয়েছেন, গার্দিওলা কখনোই চান না তার স্ট্রাইকার গোল করার জন্য কেবল বক্সের চারপাশে থাকুক। ২২-২৩ বছরের একটা ফুটবলারের থেকে এর চেয়ে বেশি কী চাচ্ছেন আর। তিনি সবকিছু করছেন। তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছে না তিনি ট্রেবল জিতেছেন।

এফএ কাপের ফাইনাল খেললেন অন্য একটা গোলকিপার। আর এডারসন খেললেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। এই যে প্লেয়ারদের তৈরি করা, প্লেয়ার বের করে আনা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এদের দিয়ে আমি কীভাবে কাজ করব। আমার সিস্টেমে কীভাবে আনব। গার্দিওলার বিশেষত্ব এখানেই। 

ফাইনাল দেখতে গিয়ে মনে হচ্ছিল গার্দিওলা কেন বদলি করে নতুন ফুটবলার মাঠে নামাচ্ছেন না! লিগে যেখানে তিনি কোনো বদলি ফুটবলারই মাঠে নামাননি। এটার অনেকগুলো কারণ থাকে। আমরা জানি যে তাদের অনেকগুলো খেলা থাকে, এফএ কাপের খেলা, কারাবাও কাপের খেলা, ইউরোপা লিগের খেলা আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলা। গার্দিওলা ফুটবলারদের বিশ্রাম দেন এভাবেই। ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। শক্তি সঞ্চয় করেই ফুটবলটা অনেক সময় খেলতে হয়।

লেখক : জাতীয় দলের সাবেক কোচ, ফুটবল বিশ্লেষক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা