উৎসবের নগরী মিয়ামি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৩ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৩ ১১:৫৯ এএম
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়- আরো এক বিপন্ন বিস্ময়; আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে; আমাদের ক্লান্ত করে- জীবনানন্দ দাশের কবিতার সব ক্লান্তি যেন ভর করেছিল মেসির ওপর। ৩৬-এ পা দিতে চলা মেসি যেন ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল ছেড়ে হাফ ছেড়ে বাঁচতে চাইলেন।
আরও পড়ুন : ইস্তাম্বুলে গার্দিওলাকে ফুলেল শুভেচ্ছা
রবিঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসের নায়ক অমিত রায়ের মতো যেন চেঁচিয়ে বলে উঠলেন- দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর। ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর। এরপর ঘা এলিয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের তরুণ দল ইন্টার মিয়ামিতে।
ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় মিডিয়ার হইচই ও পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া করা থেকে বাঁচার চেষ্টা। হচ্ছে আর কই; মেসি যেখানে সমর্থকরাও সেখানে। ক্লাবের সঙ্গে জার্সিটাও বদলায় সমর্থকরা। দিন শেষে আবেগের নাম তো ওই মেসি।
আর এই মেসি নামক আবেগকে পুঁজি করেই জৌলুস অর্জনের স্বপ্ন বুনছে মেজর সকার লিগ। যুক্তরাষ্ট্রে এখনও দর্শক জনপ্রিয়তায় বেশ পিছিয়ে ফুটবল। এবিসি এবং ইএসপিএনের গত বছরের হিসাব অনুযায়ী- এনএফএল বা রাগবিতে গত মৌসুমে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জুড়ে গড়ে ১৬.৭ মিলিয়ন মানুষ খেলা দেখেছে।
স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচ দেখার সংখ্যাটা আরও বেশি অর্থাৎ ১৮.৮ মিলিয়ন। পরের অবস্থানে রয়েছে এমএলবি বা বেসবল। গড়ে ম্যাচপ্রতি ২৬ হাজার ৮৪৩ জন মানুষ খেলা দেখেছে স্টেডিয়ামে বসে। টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেই সংখ্যাটা ৬৪.৭ মিলিয়ন। ফুটবল বা এমএলএসে সেই সংখ্যাটা বেশ নগণ্যই বটে।
গড়ে ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচগুলো দেখেছে। লিগের গড় ৪ লাখ ৪৩ হাজার। এতেই বুঝা যায়, এমএলএসের অবস্থান।
তবে মেসির ছোঁয়ায় এই দৃশ্যে নাটকীয় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালাচ্ছে এমএলএস। যেমনটি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে ব্রাজিলিয়ান প্রয়াত কিংবদন্তি পেলের নিউইয়র্ক কসমসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর। সে সময় দর্শক বাড়ে এমএলএসের। এরপর ফের দর্শক বাটা পড়ে।
মাঝে ২০০৭ সালে ডেভিড বেকহ্যাম এলএ গ্যালাক্সিতে যোগদানের পর আবারও কিছুটা চাঙ্গা হয় দেশটির ফুটবল লিগ। এরপর ফের কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে এবার সেটি কাটিয়ে উঠতেই মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে যুক্ত করেছে বেকহ্যামের মিয়ামি।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সকার ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি সুনীল গুলাটি বলেন, ‘লিওনেল মেসি এমএলএসে আসছে, এটি এমন একটি ঘটনা যা অন্য কোনোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে না।
আপনারা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজনকে পেয়েছেন, সে যদি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নাও হয়ে থাকে, তবুও একটি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে এখানে আসছেন তিনি।
তার যোগদান আমেরিকান সকার লিগের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবে। এটি সকার লিগের জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলাধুলা উন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।’
গুলাটির কথার সত্যতা পাওয়া যায় মিয়ামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঁকি দিলেও। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করার পর ক্লাবটির ফলোয়ার সংখ্যা যেখানে ছিল ৩.৮ মিলিয়ন, তা ইতোমধ্যেই তার দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এবং বাড়ছে প্রতি মুহূর্তেই। সেই সঙ্গে বেড়েছে মেসির দলের টিকিটের চাহিদাও।
আর তাতে ১৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম ছেড়ে নতুন স্টেডিয়াম নেওয়ার কথা ভাবছে মিয়ামি। আলোচনায় আছে ৬৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের ভেন্যু হার্ড রক স্টেডিয়াম, যা অবস্থিত মিয়ামি গার্ডেনে।
মেসি মিয়ামিতে আসার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে গোটা শহর। যেমনটি হয়েছিল সবশেষ ২০০৭ সালে বেকহ্যাম আসার পর। সেই বেকহ্যাম আরও একবার এমএলএসকে চাঙ্গা করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে। দেশটির লিগে উড়িয়ে এনেছেন রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ও চারবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাজয়ী এ ফুটবলারকে।
তাই প্রশংসা পেতেই পারেন বেকহ্যাম। আর সেই বন্দনা করতে ভুলে যাননি এমএলএস কমিশনার ডন গারবার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না কেউ তাকে নিয়ে সন্দেহ করবে যে এই পদক্ষেপের প্রতিটিতে অতিরিক্ত খরচ করেছে সে। তর্কাতীতভাবে এই গ্রহে এমন কোনো ফুটবলভক্ত নেই যে এলএ গ্যালাক্সি এবং মেজর লিগ সকারকে জানে না। ডেভিড আমাদের এটি ঘটতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।’