প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
প্রথমবারের মতো ট্রেবল শিরোপা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর ম্যানচেস্টার সিটি। যেকোনো মূল্যে ইউরোপসেরার মুকুট পরতে চান সিটি বস পেপ গার্দিওলা। তবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে লড়াইয়ে এতটুকুও ছাড় দিতে নারাজ সিমোন ইনজাঘির ইন্টার মিলান।
আরও পড়ুন : রোকুজ্জো চাননি
এক যুগ পর নিজেদের ডেরায় পুনরায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফেরাতে চায় তারা। ম্যাচের বাকি আর এক দিন। শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুখোমুখি হবে দল দুটি। তার আগে চলছে দুই দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা নিয়ে কাটাছেঁড়া। তবে তিনটি জায়গায় লড়াই হবে বেশ। দুদলকেও তাই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে কৌশলগত এই লড়াইয়ে।
মৌসুমে ৫২ গোল করা হালান্ড
স্বপ্নের মতো এক মৌসুম পার করছেন আর্লিং হালান্ড। অভিষেক মৌসুমেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিটিকে। ইতোমধ্যেই ভেঙে দিয়েছেন বেশ কিছু রেকর্ড। উঁচিয়ে ধরা হয়েছে দুটি ট্রফি। এবার ট্রেবল শিরোপা জয়ের পালা। সেটি করতে যে তিনি নিজেও মুখিয়ে আছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫২টি গোল করেছেন তিনি। যার মধ্যে ১২টি গোল চ্যাম্পিয়নস লিগে।
আক্রমণভাগে খেলা হালান্ডকে থামাতে ভিন্ন কৌশল খুঁজে বের করা না গেলে তিনি একাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন ম্যাচে। তবে সেটি নিশ্চয় চাইবেন না ইনজাঘি। আর এ বিষয়ে তিনি বিবেচনা করতে পারেন সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কৌশল।
রুডিগার ও ডেভিড আলাবা যেভাবে হালান্ডকে সর্বক্ষণ চোখে চোখে রেখেছে; তেমনি এই তরুণ তুর্কিকে থামাতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে ইন্টার ডিফেন্ডার ফ্রান্সেস্কো অ্যাসারবিকে। লড়াইটা তাই ২২ বছর বয়সি তরুণের সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারেরও।
মিডফিল্ড দখলে ডি ব্রুইনে-মার্সেলো ব্রোজোভিচ
সম্প্রতি ইলকে গুনদোগানকে নিয়ে হইচই হলেও এখনও মধ্যমাঠে ডি ব্রুইনেই ভরসা সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার। মৌসুমে ১০ গোল ছাড়াও ৩১ গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। সুযোগ বুঝে ফাঁকা জায়গায় বল বাড়িয়ে দিতে তার দ্বিতীয় কেউ নেই সিটিতে। প্রয়োজনে নেমে এসে রক্ষণভাগেও শক্তি জোগাতে পারেন তিনি।
তবে মূল কাজটা মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণভাগে বলের জোগান ঠিক রাখা। মার্সেলো ব্রোজোভিচের দায়িত্বটাও একই। ডি ব্রুইনের পথ রোধ করে ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন তিনিও। হয়ে উঠতে পারেন ইন্টারের ত্রাতা। তাই তার দিকে নজর না দিলে ভুগতে হবে সিটিকেও।
ইন্টার মিলান অ্যাটাক
ম্যানচেস্টার সিটির মতো আক্রমণভাগে এত এত তারকা ফুটবলারের ছড়াছড়ি না থাকলেও সুযোগ বুঝে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ফুটবলার দলটিতে রয়েছে। তারাই দলটিকে এতদূর নিয়ে এসেছেন।
এখন অপেক্ষা আর একটি ম্যাচ। আর সেখানে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে যে এতটুকুও কার্পণ্য করবে না দলটি সেটি বলাই যায়। তা ছাড়া আক্রমণভাগে দারুণ ছন্দে রয়েছে এডিন জেকো ও লাউতারো মার্টিনেজ জুটি। সদ্যই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন মার্টিনেজ। এবার তার সামনে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ।
মৌসুমে ২৮ গোল করা মার্টিনেজ নিশ্চয় সে পথেই হাঁটতে চাইবেন। অন্যদিকে ৩৭ বছর বয়সি জেকো নিশ্চয় ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় পাওয়া সুযোগটা নষ্ট করতে চাইবেন না। এখন অপেক্ষা শনিবার রাতের। যেখানে জয় পেতে মুখিয়ে আছে দুই দলের প্রতিটি ফুটবলার।