প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ০৯:৪৬ এএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩ ০৯:৫১ এএম
‘কে জানে, হয়তো আর বছর কয়েক পর তুমিই আমাকে ফোনকল করবে!’- কথাগুলো লিওনেল মেসির। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে যখন ডেভিড বেকহ্যাম অংশীদার হলেন ইন্টার মিয়ামির, তখন তার অভিনন্দন বার্তায় বলেছিলেন কথাগুলো। মেসির ইনস্টাগ্রাম থেকে পোস্ট করা সেই ভিডিও বেকহ্যাম শেয়ারও করেছিলেন নিজের ইনস্টাগ্রামে। সে কথা ফলে গেল প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর এসে। ইউরোপে প্রায় ১৯ মৌসুম কাটানোর পর মেসি এবার পাড়ি জমাচ্ছেন মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মিয়ামিতে, পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে।
আরও পড়ুন : মেসি কেন সৌদিতে গেলেন না?
গুঞ্জন অবশ্য কম ছড়াচ্ছিল না। বার্তা সংস্থা এএফপি মাসখানেক আগে যখন বলল মেসিকে দলে ভেড়াতে বেতনের বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলছে সৌদি প্রো লিগের দল আল হিলাল, তখন এশিয়ার মাটিকেই ভাবা হচ্ছিল মেসির সম্ভাব্য গন্তব্য। এরপর দিনদুয়েক আগে যখন লা লিগা বার্সেলোনার ‘ভায়াবিলিটি প্ল্যান’ অনুমোদন করেই ফেলল, তখন নাটক দেখল আরও একপ্রস্থ! ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল তখন, মেসি ফিরছেন বার্সায়!
তবে সে খবরও ধোপে টেকেনি শেষতক। বার্সেলোনার সে পরিকল্পনা যে ছিল বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার মতোই কঠিন কিছু! সম্ভব ছিল হয়তো, কিন্তু সেটার জন্য মেসিকে অপেক্ষা করতে হতো গ্রীষ্মজুড়ে।
কী করলে বার্সা পেত মেসিকে? স্যালারি ক্যাপের ঝামেলা মেটাতে বার্সাকে খেলোয়াড় বিক্রি করতে হতো, প্রয়োজন ছিল কিছু খেলোয়াড়ের বেতন কমানোরও। তবে সেসবের জন্য প্রয়োজন ছিল অনেক সময়।
মেসি সে অপেক্ষাটাই করতে চাননি। আরও একটা গ্রীষ্ম চাতকের মতো বসে বসে অপেক্ষা করতে হতো বার্সার জন্য, এভারেস্ট টপকে যাওয়ার মতো দুরূহ কাজটা যদি দল সারতে পারে, যদি তাকে দলে ভেড়াতে পারে শেষমেশ! তবে সেটা হলে অনেক রকম আলোচনা-সমালোচনা আর গুঞ্জনের তীরও সহ্য করতে হতো মেসিকে। সব কিছুর হিসাব করে মেসি তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগেভাগেই।
সিদ্ধান্তটা কী? মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সের তলানির দল ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের জীবন তাকে টেনেছে বেশ। বার্সেলোনায় থাকাকালীন সময়েও বহুবার তিনি বলেছেন এ কথা। এবার সে জীবন যখন তাকে ডেকেছে হাতছানি দিয়ে, তখন সে হাতছানিতে সাড়া দিলেন তিনি।
সেখানে যে যোগ দিচ্ছেন, তাতে আর্থিক সুবিধাগুলো কী মেসির? ইন্টার মিয়ামিতে ৫ কোটি ইউরো পাবেন বেতন হিসেবে। সঙ্গে অ্যাপল টিভি+ এর মেজর লিগ সকার সিজন পাসের লভ্যাংশ পাবেন; থাকছে অ্যাডিডাসের এমএলএস সেলসের লভ্যাংশও। এখানেই শেষ নয়, ক্যারিয়ার শেষে এখানকার কোনো ক্লাবের মালিকানার অংশবিশেষ কিনে নেওয়ার সুযোগটাও তাকে দিচ্ছে এমএলএস।
প্রস্তাবটা লোভনীয়। কিন্তু আরও লোভনীয় প্রস্তাবও তো ছিল তার কাছে! সৌদি প্রো লিগের দল আল হিলালে যদি যোগ দিয়েই দিতেন তিনি, তাহলে তো রীতিমতো বেতনের বিশ্বরেকর্ডই গড়ে ফেলতেন! ফি মৌসুম যে তাকে ৪০ কোটি ইউরো বেতনের প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি চ্যাম্পিয়নরা!
তবে মেসি তার সাক্ষাৎকারেই জানান, বিষয়টা স্রেফ অর্থের ছিল না। সিদ্ধান্তটা ছিল তার পরিবারের। নিজেদের ভবিষ্যৎ কোথায় হবে, সেটার সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন সবাই মিলেই। বেছে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জীবন।
ইউরোপেও থাকার সুযোগ ছিল তার। গেল সপ্তাহে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম বলছিল, ইউরোপীয় বেশ কিছু দল মেসিকে পেতে প্রস্তাব দিয়েছে তার এজেন্ট ও বাবা জর্জ মেসির কাছে। তবে মেসির মনে তখন ছিল শুধুই বার্সেলোনা, যদি ডাক আসে! ইউরোপের বাকি দলের প্রস্তাবগুলো তাই পড়েও দেখেননি তিনি।
বার্সেলোনাতেই যখন হলো না শেষমেশ, তখন মেসি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন ‘পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে যাওয়ার’। গেল ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই আলোচনা হচ্ছিল বেশ, মেসির পাওয়া হয়ে গেছে সবকিছুই। আর্জেন্টাইন মহাতারকারও মনে হচ্ছে তেমনই, ফুটবল থেকে তো আর পাওয়ার কিছু নেই! এবার তাহলে ইউরোপ ছাড়া যাক। অগত্যা গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।
বয়স ‘মোটে’ ৩৬। মৌসুমের শুরুতে তো আছেই, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যেমন খেল দেখিয়েছেন মেসি, তাতে আরও বছর দুয়েক যে অনায়াসেই ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারতেনই! মেসি সেই বয়সেই কি না পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাতে খানিকটা আফসোসও রয়ে গেল যেন!