ফেডারেশন কাপ ফাইনাল আজ কুমিল্লায়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১০:৫১ এএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১০:৫৬ এএম
শিরোপা থেকে দূরত্বটা আর মাত্র ৯০ মিনিটের। কুমিল্লার ভাষাশহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডান। দুই দলের জন্যই এই লড়াইটা মৌসুমে একমাত্র শিরোপা জেতার সুযোগ। তবে আবাহনীর চেয়ে মোহামেডানই বেশি মরিয়া, ১০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর সুযোগ যে এবার। এমন মরিয়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে দাঁড়িয়ে আবাহনীকে খানিকটা সতর্কই শোনাল।
আরও পড়ুন : আইপিএলের শিরোপা জিতল চেন্নাই
সতর্ক না হয়ে উপায় কী? মোহামেডান যে ফেড কাপে সবশেষ ম্যাচেই হারিয়ে এসেছে বসুন্ধরা কিংসকে! লিগে টানা চারবারের চ্যাম্পিয়নদের হারানো মোহামেডান এবার আবাহনীকেও হারাতে চাইবে একই কৌশলে। আবাহনীর কোচ মারিও লেমোসেরও সেটা অজানা নয়। ডার্বি ম্যাচের ঝাঁজের সঙ্গে বদলে যাওয়া মোহামেডানকে বেশ সমীহই করলেন তিনি।
তার কথা, ‘মোহামেডান দারুণ এক দল। আমাদের জন্য একটা কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। ডার্বি ম্যাচ সব সময়ই বিশেষ কিছু। আমাদের নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিতে হবে।’
আবাহনী নিজেদের সবশেষ ম্যাচটাও খেলেছে এই মোহামেডানের বিপক্ষেই। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ১-১ গোলে ড্র হওয়া সে ম্যাচ থেকে বড় শিক্ষাই পেয়েছে দুই দল। কোচ লেমোস যেমন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বললেন, ‘মোহামেডান এমন একটা দল, যাদের আপনি কোনো সুযোগই দিতে চাইবেন না। কারণ তারা যেকোনো সময় গোল করে বসতে পারে। আমাদের মনোযোগটা ধরে রাখতে হবে সব সময়, গোছানো ফুটবল খেলতে হবে।’
লেমোসের বিশেষ নজর মোহামেডানের আক্রমণভাগে। শেষ ৮ ম্যাচে যারা গোল করেছে ১৮টি। সে কারণে ম্যাচে রক্ষণাত্মক কৌশলে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিলেন তিনি। তার কথা, ‘তাদের আক্রমণভাগটা বেশ ভালো। ইম্যানুয়েল আর দিয়াবাতেকে নিয়ে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। এটা একটা ফাইনাল। আর তাই আমরা খুব বেশি ঝুঁকি নিতে পারব না। আমাদের রক্ষণাত্মকভাবে বেশ নিখুঁত থাকতে হবে।’
লেমোস এই লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষ কোচ আলফাজ আহমেদকেও প্রশংসায় ভাসালেন। তার হাত ধরেই যে মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে এসে বদলে গেছে মোহামেডানের চেহারা! তাকে নিয়ে লেমোসের মূল্যায়ন, ‘তিনি দারুণ কাজ করছেন। আমার মনে হয় তিনি তার খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগানোর কাজটা খুব ভালোভাবে করে যাচ্ছেন। তার অধীনে দলটাকে বেশ গোছানো মনে হচ্ছে এখন।’
আবাহনী গেল মৌসুমেও দুটো ঘরোয়া কাপ জিতেছে। তবে মোহামেডানের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। সবশেষ শিরোপাটা ঘরে উঠেছে সেই ২০১৩ সালে। এরপর থেকে ১০ বছর ধরে আর কোনো শিরোপা ওঠেনি তাদের ট্রফি কেসে।
সে অপেক্ষাটা শেষ করার এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে যখন দল, সে পরিস্থিতি থেকে খালি হাতে ফিরতে চাইলেন না কোচ। আলফাজের ভাষ্য, ‘এত কাছে এসে খালি হাতে কেউ ফিরতে চাইবে না। আমরা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে খেলব।’
মোহামেডানের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ফেড কাপেরই সেমিফাইনাল। সে ম্যাচে সাদা-কালোরা হারিয়ে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসকে। সে টনিকে এবার আবাহনী-বধের স্বপ্ন আলফাজের চোখে। তার কথা, ‘বসুন্ধরাকে হারানোটা বড় একটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। আমরা যদি বসুন্ধরাকে হারাতে পারি, যারা বাংলাদেশের সেরা দল, তাহলে আবাহনীকে হারানোর ক্ষমতাও রাখে। তবে এটা মাঠে খেলোয়াড়দের খেলার ওপর নির্ভর করছে। সঙ্গে ভাগ্যটাকেও পাশে পেতে হবে।’
আবাহনীর বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে মোহামেডান সবশেষ জিতেছে ২০১৯ সালে। এরপর থেকে হয় ড্র, না হয় হার, এই ছিল ক্লাবের নিয়তি। তবে সবশেষ লিগ ম্যাচে আবাহনীর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র দলে বিশ্বাস এনে দিয়েছে, এই আবাহনী আর অজেয় নয়। সাবেক মোহামেডান স্ট্রাইকার বললেন, ‘সে ম্যাচ থেকে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে আরও ভালো চেষ্টা করলে, ভালো খেললে জেতা সম্ভব। সে ম্যাচটা খেলাতে তাই উপকারই হয়েছে।’
প্রতিপক্ষ দলে আছেন রাফায়েল আগুস্তো, দানিয়েল কলিন্দ্রেসদের মতো অভিজ্ঞরা। কোচ আলফাজ জানালেন, তাদের নিয়েও দলের আছে বিশেষ পরিকল্পনা। তিনি বলেন, তাদের রাফায়েল আগুস্তো, কলিন্দ্রেসরা আক্রমণে আছেন। তাদের নিয়ে বাড়তি পরিকল্পনা রাখতেই হবে।
শেষ কিছুদিনে বেশ কথা হচ্ছে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপুকে নিয়ে। তবে বাফুফে সহসভাপতি আবাহনী ডাগআউটে আসা না-আসা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, জানালেন আলফাজ। তিনি বলেন, ‘এটা তো এখন বলে আর লাভ নেই! এটা যদি নিয়মবহির্ভূত না হয়, তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আবাহনীর ম্যানেজার তিনি ডাগআউটে আসতেই পারেন।’