প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৩ ২২:৫১ পিএম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৩ ২৩:১২ পিএম
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এক ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ল। ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ছয় নম্বরে উঠে এসে সেদিন পেসার শাহিন বনে যান রীতিমতো ব্যাটার, ব্যাট হাতে করেছিলেন ৫ ছক্কায় ৫২ রান। বল খরচ করেছিলেন মোটে ৩৬টি।
আরও পড়ুন : ধোনিতে আস্থা বিশুকার
সেটি যে স্রেফ আচমকা নয়, তার প্রমাণ দিয়েছেন আসরের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে। ফাইনালে সাতে নেমে ৫ ছক্কায় শাহিনের ব্যাট থেকে আসে এবার অপরাজিত ৪৪ রান। এবার বল খরচ করলেন মোটে ১৫টি। ঠিক যেন একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার, যার কাজ শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার।
কিন্তু কীভাবে এত দ্রুত খোলনলচে বদলে গেলেন পেসার শাহিন, নিজেকে ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনের গল্পটাইবা কী? শাহিন শুনিয়েছেন সেই গল্প। বোলার শাহিনের হার্ডহিটার ব্যাটার বনে যাওয়ার পেছনে কৃতিত্ব দিয়েছেন শ্বশুর শহিদ আফ্রিদিকে। এক সময়ের বুমবুম আফ্রিদি খ্যাত শহিদের যোগ্য উত্তরসূরিই বটে!
গত পিএসএলে শাহিন ব্যাট করেছেন ১৬৮.৩৫ স্ট্রাইক রেটে। পিএসএলের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও এক ম্যাচে করেছিলেন ৩ ছক্কায় ৭ বলে ২৩ রান।
বদলে যাওয়ার কারণ হিসেবে শাহিন বলেছেন, ‘শহিদ আফ্রিদির সঙ্গে কাজ করার প্রভাব তো আছেই। আমি ও লালা (আফ্রিদি) শট অনুশীলন করেছি।কীভাবে শেষের ওভারগুলোয় বড় শট খেলতে হয় শিখেছি। ব্যাট সুইং নিয়েও খানিকটা কাজ করেছি। টি-টোয়েন্টিতে তার যে অভিজ্ঞতা, এতটা কারও নেই। তার সঙ্গে কাজ করতে পারার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অনেক শিখেছি আমি।’
শাহিন যে অনেক শিখেছেন তার প্রমাণও ব্যাটে মিলছে। শেষদিকে ব্যাট হাতে বাঁহাতি খেলছেন সব ক্যামিও ইনিংস। পেস বোলিংয়ে গতি, সুইং এবং আরও সব স্কিল মিলিয়ে বল হাতে আগুনে শাহিন তাই চমকে দিচ্ছেন ব্যাটিংয়েও।
কিন্তু ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত শুরু পাওয়া শাহিন যেন কিছুটা রঙ হারিয়েছেন। বিষয়টি মানছেন খোদ শাহিন। তবে খুব দ্রুত স্বরূপে ফেরার বার্তাও দিয়েছেন পাকিস্তানের তারকা পেসার, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুই মাস চোটের কারণে বাইরে ছিলাম।
বিশ্বকাপের পর আবার দুই-তিন মাস। পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগে। সেই প্রাণশক্তি ও ফিটনেস ফিরে পাওয়া যায় শুধু ম্যাচ খেলতে থাকলেই।’
শাহিনের মতে, সময় গড়ালেই নিজেকে আবারও ফিরে পাবেন তিনি- ‘পিএসএল থেকে ভালো অনুভব করছি। টুর্নামেন্টে সময় যত গড়িয়েছে, আরও ভালো হয়ে উঠেছি। পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ফিরেছি। হাঁটু এখন শতভাগ ঠিক। সময়ের সঙ্গে উন্নতি হবে। যত খেলব, তত ভালো হয়ে উঠব।’