সংস্কার ব্যয় বাড়ছে ৬১ কোটি টাকা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৩ ১২:০৬ পিএম
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাটা চার ম্যাচ আগেই নিশ্চিত ছিল বসুন্ধরা কিংসের, শেষ ম্যাচে আবাহনী লিমিটেড তাদের ১-১ গোলে রুখে দিলেও সেটা চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ অবশ্য অন্য এক কারণে। সেই ম্যাচটাই যে হয়ে আছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সবশেষ ম্যাচ!
আরও পড়ুন : টানা দ্বিতীয় ফাইনালের পথে গুজরাটের বাধা চেন্নাই
‘ হোম অব ফুটবল’ এরপর থেকেই তো সংস্কারাধীন এক স্থাপনার নাম!
শুরুতে বলা হচ্ছিল এক মৌসুমেরই ব্যাপার! তবে সেই ম্যাচের পর থেকে কেটে গেছে আরও দুই মৌসুম। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ আর শেষ হয়নি। শুরুতে কথা ছিল কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই। তবে কাজ চলাকালেই পরিকল্পনায় এসেছে পরিবর্তন, কাজের কলেবর গেছে বেড়ে। যার ফলে কাজটাও গেছে পিছিয়ে।
তাহলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা ফিরবে কবে? সে প্রশ্নের জবাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিংহ বলেন, ‘আগামী বছরের জুন নাগাদ এই স্টেডিয়াম প্রস্তুত হবে। কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়াতেই মূলত এমনটা হচ্ছে।’
স্টেডিয়ামের কাজ যখন শুরু হয়, তখন বেশকিছু দিক নিয়েই কাজ করার কথা ছিল। মাঠের ঘাস বদলানো, সঙ্গে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকটাও, এরপর স্টেডিয়ামের একাংশে বসানোর কথা ছিল ৭০০ ফুট ছাউনি, নতুন হেডলাইট, জায়ান্ট স্ক্রিনের মেরামত, নতুন ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স। তার মধ্যে ঘাস আর অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক বদলে গেছে ইতোমধ্যেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ প্রায় ৮০ শতাংশ। ড্রেসিং রুম পুনর্নির্মাণের কাজও শেষ।
তবে বাকি কাজ এখনও শেষ হয়নি। কেন আটকে আছে?
উত্তরে ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা পরিচালক শামসুল আলম জানালেন, কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ার ফলেই ২০২২ সালের পরিবর্তে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলে যাচ্ছে এই মাঠের সংস্কার কাজ।
তার কথা, ‘আমাদের শেডটা যা আছে, সেটা আগে ৭০০ ফুট ছিল, সেটা এখন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথমে স্টেডিয়ামটা আংশিক করার কথা ছিল। পরবর্তীকালে নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা পুরোটা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর ১৮-এর শিডিউল ছিল, এরপর ২২-এর শিডিউল হয়েছে, তাতেও কিছুটা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় হলো লাইটিং সিস্টেম। এটা আগে মেটাল হেলাইড সিস্টেম ছিল। সেটা থাকলে বিদ্যুৎ চলে গেলে নতুন করে জ্বালাতে গেলে অনেক সময় চলে যায়, ওটার স্ট্রাকচারটাই এমন। দ্রুত যেন লাইট চলে আসে, সে কারণে সেটা এলইডিতে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা চলছে। আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এখন এলইডি ব্যবহার করা হচ্ছে, সে কারণে আমরাও সেটা ব্যবহারের কথা ভাবছি। এই দুটো কারণেই বড় পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে। আমাদের কাজটা ২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন ২০২৩ চলছে। এই কাজ বেড়ে যাওয়ার কারণে এইটাকে একটু রিভাইজ করা হয়েছে।’
তবে আগে ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনাটা অনুমোদন পেতে হবে একনেক থেকে। শামসুল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা এটা প্ল্যানিং কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছি। মিটিং হয়ে গেছে। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু এটা সরাসরি দেখভাল করেন, তাকে একটু জানিয়ে নিতে। গত ১৪ তারিখে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। আমরা ড্রইং, ডিজাইন ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানিয়েছি। উনি এটার বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী মাসে এটা একনেকে উত্থাপিত হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস আমরা পেয়েছি, সেহেতু সেটা পাস হয়ে যাবে। পাস হলে সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যক্রম আছে, আর আমরা আশা করছি ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে খেলা শুরু করা যাবে।’
পরিকল্পনা বদলানোর কারণে সময় তো বটেই, ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। শুরুতে এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা ধরা হলেও সেটা এখন ছুঁয়ে ফেলেছে ১৫৯ কোটি টাকা। শামসুল জানালেন, বড় দুই কাজেই খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘ওভারঅল খরচ বেড়েছে দুটো আইটেমে। প্রথমটা হলো শেড আর দ্বিতীয়টা লাইট। দুই আইটেমে ৪৪ কোটি টাকার মতো খরচ। একটা জিনিস চেঞ্জ করতে গেলে অনেক আনুষঙ্গিক বিষয় থাকে, ওগুলো টুকটাক বদলাতে গেলে খরচ বাড়ে। আরেকটা আছে- প্যাভিলিয়ন ভবনে আমাদের আরেকটা তলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় আইটেম এগুলো। আরেকটা হলো ভিআইপিতে বুলেটপ্রুফ কাচটা, সেটার একসময় দাম ছিল দেড় লাখ প্রতি স্কয়ার ফুট। এখন সেটা হয়েছে প্রতি স্কয়ার ফুটে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই চারটায় ব্যয় বৃদ্ধি ঘটেছে।’
সবকিছু খাপে খাপে মিললে, তবেই আগামী বছরের মাঝামাঝিতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফিরবে খেলা।